শেষ হলো অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্প । বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং পাইপলাইনে নতুন নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার যোগ করার লক্ষ্যে ধানমণ্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিলো। যা ছিলো ফিফা ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট স্কিম (TDS) এর আওতায় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাফুফে এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিক এক বিশেষ ক্যাম্প। এর শিরোনাম ছিলো ‘বিএফএফ ন্যাশনাল ট্রায়াল ২০২৬’।
টানা ১৩ দিনব্যাপী চলা এই বিশেষ ক্যাম্পে দেশের আনাচে-কানাচে থেকে বাছাইকৃত প্রায় ৭০ জন কিশোরী ফুটবলার অংশ নেয়। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারদের সামর্থ্য, কৌশল এবং শারীরিক সক্ষমতা পরখ করে দেখেছেন বাফুফে-এর অভিজ্ঞ কোচ ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। মূলত বয়স ভিত্তিক দল গুলোকে আরও শক্তিশালী করতেই এই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পথে হাঁটছে ফেডারেশন।
ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর যখন ফিফা টিডিএস
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ‘ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট স্কিম’বা টিডিএস এর মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করে তাদের সঠিক পরিচর্যা করা। বাফুফে এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ থেকে সেরা প্রতিভাদের এক ছাদের নিচে এনে তাদের ফুটবলীয় জ্ঞান এবং মাঠের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেছে। এখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে আগামীর মারিয়া মান্ডা কিংবা আফঈদা খন্দকারদের উত্তরসূরিদের।
বাফুফের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
ফেডারেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ট্রায়াল ক্যাম্পটি কেবল একটি সাময়িক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি বড় অংশ। এখান থেকে যারা নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করতে পেরেছে, তাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাকআপ তৈরি করাই এই আবাসিক ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য।
সমাপনী দিনে বাফুফে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই মেয়েরাই একদিন বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াবে। ফুটবলের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং আবাসিক ক্যাম্প অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফেডারেশন।
