বিশ্বকাপে ফিফার ভয়াবহ নিষ্ঠুর আততায়িতায় শিকার যারা

বিশ্বকাপে ফিফার ভয়াবহ নিষ্ঠুর আততায়িতায় শিকার যারা

বিশ্বকাপে ফিফার ভয়াবহ নিষ্ঠুর আততায়িতায় শিকার যারা। চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ রেফারির ভুমিকা ও ভিএআর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান সরাসরি লাল কার্ড দেখে সমালোচনার মুখে পড়েছেন রেফারিরা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে বিতর্কিত পেনাল্টিতে বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সেনেগাল।

দুই ম্যাচের ঘটনাই বিশ্ব ফুটবলে ভিএআরের ধারাবাহিকতা ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। যেন বেছে বেছে কিছু দেশের বিপক্ষে এমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে ফিফা! সবশেষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করা ফ্লোরিয়ান বালোগান ৬৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে পেছন থেকে পা লাগার ঘটনায় প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে গেলেও পরে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এই সিদ্ধান্তের পরই সামনে আসে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ধরনের ট্যাকল করেও মেসি কোনো কার্ড দেখেননি। ফলে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের ঘটনায় দুই খেলোয়াড়ের জন্য ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন?

ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, ভিএআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিয়মের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োগ। তাঁর মতে, মেসির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।

সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথও মন্তব্য করেন, রিপ্লে স্থিরচিত্রে ঘটনাটি কঠোর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে দেখলে এটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি এবং কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও এই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত কঠোর বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে সিয়াটলে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে লামিন কামারার স্লাইডিং ট্যাকলের পর ভিএআরের সহায়তায় বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি।

সেই স্পট কিক থেকে ইউরি টিলেমান্স গোল করে বেলজিয়ামকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সেনেগালের খেলোয়াড় ও কোচ পাপে থিয়াও। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি কোনোভাবেই পেনাল্টির যোগ্য ছিল না।

সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিল ও রয় কিনও সিদ্ধান্তটিকে অত্যন্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রিপ্লেতে দেখা যায় কামারার ট্যাকল প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেছিল, যা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভিএআরের ব্যবহার এবং রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, একই ধরনের ঘটনায় একই মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও সঙ্গতিপূর্ণ রেফারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এদিকে ইরানও ফিফার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Exit mobile version