কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া

কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া

ওয়াশিংটনের সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর 'বি' গ্রুপের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম কাতারের ম্যাচ চলাকালীন কাতারের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় হাসান আল-হাইদোস তাঁর দলের প্রথম গোলটি করছেন। (ছবি:গেটি ইমেজেস)

বিশ্বকাপের মঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাঁচা-মরার সমীকরণে মুখোমুখি হয়েছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কাতার। দুই দলের সামনেই ছিল জয়ের বিকল্পহীন সমীকরণ। এমন এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে বসনিয়া। তবে ম্যাচ জিতলেও ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ইউরোপের এই দলটির নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া , তাদের এখন চেয়ে থাকতে হচ্ছে অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে।

গ্রুপ ‘বি’র চূড়ান্ত সমীকরণ

বুধবার রাতে ওয়াশিংটনের সিয়াটল স্টেডিয়ামে এই জয়ের পর ৩ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে সের্হেই বারবারেজের বসনিয়া। অন্যদিকে, সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা। এই গ্রুপ থেকে পূর্ণ ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার হিসেবে পরের রাউন্ডে গেছে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ড। আর মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কাতারকে।

বিশ্বকাপে কাতারের খরা

ঘরের মাঠে ২০২২ বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল কাতার। এবার আমেরিকার মাটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আশা জাগালেও, শেষ পর্যন্ত কানাডার কাছে ৬-০ এবং বসনিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে জয়হীনভাবেই টুর্নামেন্ট শেষ করলো এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

যেভাবে খুলতে পারে বসনিয়ার কপাল

এবারের ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে মোট ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি নকআউটে যাবে। আর বাকি দলগুলোর মধ্যে থেকে সেরা ৮টি ‘তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল পাবে শেষ ৩২-এর টিকিট। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কানাডার সাথে ১-১ ড্রয়ের পর সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বসনিয়া। সেই বড় ব্যবধানের হারটিই এখন তাদের গোল পার্থক্যে কিছুটা পিছিয়ে রেখেছে। তবে ৪ পয়েন্ট থাকায় শেষ ৮টি তৃতীয় দলের তালিকায় জায়গা পাওয়ার ব্যাপারে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে তারা।

প্রথমার্ধের রোমাঞ্চ ও গোল উৎসব

সিয়াটল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বসনিয়া। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে সুযোগ হাতছাড়া করলেও ২৯তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কেরিম আলাজবেগোভিচ। মাঝমাঠ থেকে ইভান বেসিচের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের এক দুর্দান্ত জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর (৩৪ মিনিটে) দুর্ভাগ্যজনক এক আত্মঘাতী গোলে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কাতার। বসনিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এডিন জেকোর একটি শট কাতারি ডিফেন্ডার সুলতান আল বারাকের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে বোকা বনে যান গোলরক্ষক। বল গড়িয়ে চলে যায় জালের ঠিকানায়। ৩৮ মিনিটে এডিন জেকোর আরেকটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান ৩-০ করার সুযোগ হারায় বসনিয়া।

৩-০ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার ৪ মিনিটের মাথায় ঘুরে দাঁড়ায় কাতার। ৪২ মিনিটে এডমিলসন জুনিয়রের ক্রস থেকে আলতো টোকায় ব্যবধান ২-১ করেন হাসান আল হাইদোস। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কাতার, তবে পেদ্রো মিগুয়েলের নিচু শটটি পোস্টে আঘাত করলে হতাশায় পুড়তে হয় তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধে কাতার গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের ৮১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দারুণ এক গোল করে কাতারের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন আর্মিন মাহমিচ। ফলে ৩-১ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসনিয়া।

একনজরে ম্যাচ ফলাফল:

Exit mobile version