ব্রাজিলের ফুটবলে নজিরবিহীন কাণ্ড, এক ম্যাচেই ৫৩ জনকে লাল কার্ড!

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে একটি ম্যাচে ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সত্যিই অবিশ্বাস্য! ব্রাজিলের একটি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। এর মধ্য দিয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে এই ঘটনা।

গত রোববার ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস প্রদেশে অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মামোরেয়া ও উবেরলান্দিয়া। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মামোরেয়া ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরই দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

রেফারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল উদযাপনের সময় মামোরেয়ার খেলোয়াড় দাভি প্রতিপক্ষের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবেরলান্দিয়ার গোলকিপিং কোচ পাউলো সের্হিও দিয়াস দস সান্তোস মাঠে ছুটে এসে তার মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এই ঘটনার পরবর্তী কয়েক মিনিটের মধ্যে রেফারি ৪০ জন খেলোয়াড় ও আটজন স্টাফকে লাল কার্ড দেখান। এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছিলেন। সব মিলিয়ে বহিষ্কৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১ জনে। পরে উবেরলান্দিয়ার পরিচালনা পর্ষদের আরও দুজন সদস্যকে বহিষ্কার করা হলে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩-তে।

এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব অ্যাতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যকার ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছিল।

ম্যাচের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রেফারি নিজেও হুমকির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় পরে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে ম্যাচটি প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

খেলা শেষে দুই দলের পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উবেরলান্দিয়ার কর্মকর্তারা মামোরেয়ার সরঞ্জাম নষ্ট করেছেন। অন্যদিকে মামোরেয়ার সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বাগতিক দলের ড্রেসিংরুমে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ আনা হয়।

এ ঘটনার পর বুধবার উবেরলান্দিয়া জানায়, ‘ফেয়ার প্লের স্বার্থে’ তারা সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অংশ নেবে না। ক্লাবটির দাবি, পর্যাপ্ত খেলোয়াড় না থাকায় দল গঠন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নেয় মামোরেয়া।

একই সঙ্গে উবেরলান্দিয়া জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ক্লাবের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষায়, ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও আচরণের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles