সেই মাকে কেপ ভার্দের পরের ম্যাচে গ্যালারিতে এনে দেওয়া যায় না? বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনকে রুখে দিয়ে রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাঁর চোখের জল অন্য এক গল্প বলে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার যখন সতীর্থদের আলিঙ্গন করছিলেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কারণ, জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তে তাঁর মা গ্যালারিতে ছিলেন না।
ভোজিনিয়া জানিয়েছেন, ভিসা-সংক্রান্ত খরচ জোগাড় করতে না পারায় মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপের মতো স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাই তাঁর আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল গভীর এক কষ্ট।
তিনি বলেন, ‘খেলা শেষে কেঁদেছি। দাদা-দাদি আমাকে বড় করেছেন, তাঁরা আর বেঁচে নেই। আর মা এখানে থাকতে পারেননি। ভিসার জন্য যে টাকা প্রয়োজন ছিল, আমরা তা জোগাড় করতে পারিনি।’
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি তাঁকে ভেতরে ভেতরে ভেঙে দিয়েছে। অথচ কয়েক দিন আগেও ভোজিনিয়াকে চিনত না ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারী ছিল মাত্র ৪৫ হাজার। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেই সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ২৫ বছর বয়সের আগে পেশাদার ফুটবলে সুযোগ পাননি তিনি। অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ায় সংগ্রাম করে আজ পৌঁছেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।
একসময় জাতীয় দল থেকেও অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তাঁকে ফিরিয়ে আনে। আর সেই স্বপ্নের রাতেই তিনি হয়ে ওঠেন কেপ ভার্দের জাতীয় বীর। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে বিশ্বকে চমকে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। কিন্তু সব অর্জনের পরও তাঁর হৃদয়ে রয়ে গেছে এক শূন্যতা। কারণ, জীবনের সবচেয়ে বড় দিনে তিনি মাকে পাশে পাননি।
হয়তো এ কারণেই ভোজিনিয়ার গল্প শুধু একজন গোলরক্ষকের গল্প নয়। এটি সংগ্রাম, স্বপ্ন আর পরিবারের জন্য হৃদয়ের গভীর ভালোবাসার গল্প। বিশ্বকাপ জানে একজন নায়কের সেভের হিসাব। কিন্তু মাকে না দেখতে পাওয়ার কষ্ট-সেটা কি সত্যিই জানে?
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















