একবার আফগানিস্তান এগিয়ে যায়, তো পরক্ষণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আয়ারল্যান্ডের হাতে। কখনো মনে হয়েছে আফগানিস্তানের জয় সময়ের ব্যাপার, আবার কখনো মনে হয়েছে অঘটনের পথে হাঁটছে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন আফগানিস্তানের বিশ্বতারকা রশিদ খান। তাঁর ব্যাটের দৃঢ়তায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান।
২০২৭ বিশ্বকাপের মূলপর্বে এটি আফগানিস্তানের টানা চতুর্থ অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করতে হয়েছে তাদের।
আয়ারল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৪৭তম ওভারে ২০৬ রানে অলআউট হয়। রানটা খুব বড় নয়, কিন্তু ম্যাচের একপর্যায়ে এই স্কোরই আফগানিস্তানের জন্য পাহাড়সম মনে হচ্ছিল। ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আফগানরা। তখন আয়ারল্যান্ডের সামনে ছিল অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনা।
কিন্তু ক্রিজে অবিচল ছিলেন রশিদ। চাপের মুহূর্তে অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে ৩৭ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫তম ওভারে হ্যারি টেক্টরের বলে দুই রান নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে শুরু হয় আফগান ক্রিকেটারদের উল্লাস।
এর আগে বল হাতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন রশিদ। দুর্দান্ত লেগস্পিনে ৪৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান তিনি। রহস্যময় স্পিনার এএম গজনফরের সঙ্গে মিলে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণকে করে তোলেন আরও ভয়ংকর। দুজন মিলে নেন ৬ উইকেট।
তবে আয়ারল্যান্ডের লড়াইও ছিল প্রশংসনীয়। একসময় ১২৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে নবম উইকেটে ৭৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে ম্যাচে প্রাণ ফেরান জাই মুনদ্রা ও গ্যাভিন হোয়ি। হোয়ি ৩৬ রান করেন, আর নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ইনিংসেই মুনদ্রা করেন ৩১ রান।

হোয়ি শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর লেগস্পিনে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তাঁর শিকার ছিলেন আফগানিস্তানের ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজও। ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেও শেষ পর্যন্ত হোয়ির ঘূর্ণিতে ফিরতে হয় তাঁকে।
রান তাড়ায় শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন গুরবাজ। ফাস্ট বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত এগিয়ে নেন আফগানিস্তানকে। তবে হোয়ির ঘূর্ণিতে সেদি কুল্লাহ আতাল ফেরার পর অধিনায়ক রহমত শাহকে দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করেন মার্ক অ্যাডেয়ার। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানরা।
হাশমতউল্লাহ শাহিদি ও দারবিশ রাসুলিও দ্রুত ফিরে গেলে ১৫৪ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাইও ভুল শটে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ১৭৬ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর আয়ারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা তখন বেশ উজ্জ্বল।
কিন্তু রশিদ ছিলেন অন্য পরিকল্পনায়। ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। আফগানিস্তানের প্রয়োজন যখন মাত্র ১৫ রান, তখন হাত খুলে খেলতে শুরু করেন তিনি। তাঁর কবজির মোচড়ে আসা একটি শটে লক্ষ্য নেমে আসে এক অঙ্কে। শেষ পর্যন্ত টেক্টরের বলে দুই রান নিয়ে আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
রশিদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ইয়ামিন আহমদজাই। ২৬ বল খেলে ৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ২০২২ সালের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার।


