ক্রিকেটের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে জায়গা ধরে রাখতে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিস্তারের কারণে ভবিষ্যতে ৫০ ওভারের ক্রিকেট আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তবে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন তিনি।
পন্টিংয়ের মতে, সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে ওয়ানডের গুরুত্ব কমার সম্ভাবনাই বেশি। টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চালু হওয়ায় ক্রিকেটের সূচিতে কোনো একটি সংস্করণকে জায়গা ছাড়তে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘সময় যত এগোবে, বিশ্বজুড়ে যত বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা হবে এবং আরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরু হবে, ততই ৫০ ওভারের ক্রিকেট কম খেলা হবে। এটি অনিবার্য। সত্যি বলতে, বিষয়টি আমি খুব একটা পছন্দ করি না। আমি এই ফরম্যাটে খেলতে ভালোবাসি। কিন্তু কোথাও না কোথাও কিছু একটা ছাড়তে হবে। আর সবচেয়ে স্পষ্ট বিকল্প হলো ৫০ ওভারের ক্রিকেট।’
টেস্ট ক্রিকেট অবশ্য এখনো শক্ত অবস্থানে আছে বলে মনে করেন পন্টিং। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় ক্রিকেটীয় দেশগুলো টেস্টকে গুরুত্ব দিয়ে গেলে এই সংস্করণ টিকে থাকবে বলে বিশ্বাস তাঁর।
তবে টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তার যে ক্রিকেটারদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিও স্বীকার করেছেন পন্টিং। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এসব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।
পন্টিং বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এসব টুর্নামেন্ট থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন খেলোয়াড়েরাই। ডব্লিউসিএলের মতো একটি টুর্নামেন্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিকে থাকা অনেক খেলোয়াড়কে উপার্জনের সুযোগ দেয়।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো কাঠামোর দিকে এগোতে পারে। তবে ক্রিকেটে থাকা বিপুলসংখ্যক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে এমন কাঠামো চালু করা সহজ হবে না বলেও মনে করেন তিনি।
ওয়ার্নারের ভাষায়, ‘আমি সবসময় ভেবেছি, সময়ের সঙ্গে ক্রিকেট সম্ভবত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো মডেলের দিকে যাবে। কিন্তু ক্রিকেটে এতগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা থাকায় বিষয়টি কঠিন। স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যার নিয়মও পুরোপুরি বদলাতে হবে।’


