প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল কুরাসাও। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জয় পায়নি, তবে ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। রবিবার সকালে কানসাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। এ ড্র’র মাঝ দিয়ে উভয় দল তাদের পয়েন্টের খাতা খুলেছে। দুই ম্যাচে শেষে উভয় দলের ভান্ডারে জমা হয়েছে এক পয়েন্ট। গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য দক্ষতায় কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে।
কুরাসাও তাদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল। আর ইকুয়েডর হেরেছিল আইভরি কোস্টের কাছে। ফলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে এ ম্যাচে তাদের সামনে হার এড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। সে লক্ষ্যে উভয় দলই সফল। কুরাসাও তাদের শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। আর ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষ জার্মানি।
কুরাসাওকে পয়েন্ট এনে দেওয়ার পুরো কৃতিত্বই গোলরক্ষক ইলয় রুমের। গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক এক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছে কুরাসাও।
১৫ সেভ
দলকে গোল হজম থেকে রক্ষা করতে কি না করেছেন ইলয় রুম। ডানে ঝাঁপিয়েছেন, বামে ঝাঁপিয়েছেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পা থেকে বল ছো মেরে নিজের আয়ত্বে এনেছেন। সব ধরণের ঝুঁকি নিয়েছেন। কিন্তু বলকে নিজেদের জালে জড়াতে দেননি। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে রেকর্ডের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। ১৫বার দলকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেছেন। ১৯৬৬ সালের পর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ এটাই সর্বোচ্চ সেভ। এক ম্যাচ আগে যে দল সাত গোল হজম করেছিল সেই দলের এমন পারফরম্যান্স ফুটবলভক্তদের অবাক করে দিয়েছে। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানোর রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হাওয়ার্ড রেকর্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন।
ইলয় রুমের দূর্দান্ত খেলা শুরু হয় ম্যাচের তৃতীয় মিনিট থেকে। চমৎকার সব সেভ করে সতীর্থদের উজ্জ্বীবিত করেন তিনি। ম্যাচ জুড়ে তিনি ছিলেন অদম্য প্রাচীর। তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, অবস্থানজ্ঞান আর আত্মবিশ্বসী গোলকিপিংয়ের সামনে বারবার ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডরা ব্যর্থ হয়েছেন।
সামনে সুযোগ কুরাসাওয়ের
ছোট্ট দেশ কুরাসাওয়ের জন্য এই পয়েন্ট পাওয়া এক ঐতিহাসিক ঘটনা। মাত্র এক লাখ আটান্ন হাজার অধিবাসীর দেশটি বিশ্বকাপে খেলতে এসে প্রথম আসরেই বাজিমাত করেছে। এ ম্যাচে ড্র করে নক আউটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে তারা। শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলেই নক আউটের টিকিট পেয়ে যাবে তারা।
