কোলম্যান ইস্যুতে বাফুফেতে অচলাবস্থা । জাতীয় দলের পরবর্তী প্রধান কোচ নির্ধারণে আবারও বৈঠকে বসেছিল জাতীয় দল কমিটি। কিন্তু আগের মতো এই সভাতেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আলোচনার বড় অংশ জুড়েই ছিলেন ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যান।
কোলম্যান বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী, বাফুফেও তাকে চায়। কিন্তু দুই পক্ষের এই আগ্রহের মাঝখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক হিসাব। কোলম্যান তার পুরো কোচিং স্টাফ নিয়ে এলে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হবে। এই অঙ্ক বহন করা ফেডারেশনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
তবুও এমন একজন কোচ বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, এই সুযোগ পুরোপুরি হাতছাড়া করতেও চাইছে না বাফুফে। তাই সরাসরি অপারগতা জানিয়ে সম্ভাবনা শেষ করতে চায় না তারা। সভায় আলোচনা হয়েছে, কোলম্যানের চাহিদা ও বাফুফের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে কথা বলবেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি আবার জাতীয় দল কমিটিকে জানানো হবে।
যুব সম্মেলন শেষে প্রতিমন্ত্রী আগামীকাল দেশে ফিরবেন। এরপর আবার সভা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোলম্যানকে আনতে হলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। তবে মাসিক ব্যয়ের অঙ্ক বেশি হলে সেটি মন্ত্রণালয়ের জন্যও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সভায় আরও একটি বাস্তবতা উঠে এসেছে। ফুটবল জনপ্রিয় খেলা হলেও অন্য অনেক খেলায় পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা নেই। সেখানে ফুটবলের কোচিং স্টাফের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলে অন্য খেলাগুলোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
কোলম্যানের মতো কোচ এলে দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তি বাড়বে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা হবে। কিন্তু আগামী এক বছরে সাফ ছাড়া বড় কোনো সূচি না থাকায় এই সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয় কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
অবকাঠামো, ফুটবলার তৈরির ধারাবাহিকতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের ঘাটতি মাথায় রেখে কেবল কোচের পেছনে এত ব্যয় করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে কি না, সেটিও ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
