ইমাম আশুর হলেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সেরা এবং প্রভাবশালী মিডফিল্ডার। বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার চোখ ধাঁধানো শটে গোল করে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ফুটবলার মূলত তাঁর গতি, শারীরিক শক্তি এবং দূরপাল্লার জোরালো শটের (Long-range Shooting) জন্য পরিচিত।
তাঁর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. খেলার পজিশন ও স্টাইল
মাঠের লড়াইয়ে তিনি মূলত একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার (Central Midfielder), তবে দলের প্রয়োজনে তিনি আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে পারেন। মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেলেই আচমকা বুলেট গতির শটে গোল করায় তিনি অত্যন্ত পারদর্শী।
২. ক্লাব ক্যারিয়ার
- আল আহলি (Al Ahly): বর্তমানে তিনি মিশরের তথা আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্লাব ‘আল আহলি’-র হয়ে খেলছেন। এই ক্লাবের হয়ে তিনি ঘরোয়া লিগ ও আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ পারফর্ম করে নজর কেড়েছেন।
- জামালেক (Zamalek): আল আহলিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মিশরের আরেক বিখ্যাত ক্লাব জামালেকের হয়ে খেলে তারকাখ্যাতি পান।
- ইউরোপিয়ান অভিজ্ঞতা: ২০২৩ সালে তিনি ইউরোপের ফুটবলেও পা রেখেছিলেন। ডেনমার্কের শীর্ষ সারির ক্লাব এফসি মিচিল্যান্ড (FC Midtjylland)-এর হয়ে তিনি কিছুকাল খেলেন এবং সেখানেও ডেবিউ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখান। পরবর্তীতে তিনি আবার মিশরের ফুটবলে ফিরে আসেন।
৩. জাতীয় দলে ভূমিকা
মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিশর জাতীয় দলের মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান ‘ইঞ্জিন’ ভাবা হয় ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে। ২০২১ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON) এ মিশরের রানার্স-আপ হওয়ার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
সহজ কথায়, সালাহ যদি মিশরের আক্রমণের মূল অস্ত্র হন, তবে ইমাম আশুর হলেন মাঝমাঠের সেই কারিগর, যিনি রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে করা এই গোলটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















