নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

হিদার নাইট সুইপ খেলছেন

ইনজুরি ফেরত স্কিভার-ব্রান্টের বাজিমাত

ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট। তার ও অধিনায়ক হিদার নাইটের রেকর্ড গড়া হাফ-সেঞ্চুরির জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪০ রানে হারিয়ে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ওভালে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে ১২৯ রানেই থমকে যায়।

এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড মধুর প্রতিশোধ নিল। এর আগে ২০২৩ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংলিশ মেয়েদের।

আগামী রোববার ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শিরোপার লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

শুরুর ধাক্কা সামলে স্কিভার-ব্রান্ট ও নাইটের রেকর্ড জুটি

টস জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শার্লট এডওয়ার্ডসের শিষ্যরা। দলীয় মাত্র ২৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

ইংল্যান্ডের পুরো ইনিংস জুড়ে দাপট দেখিয়েছেন হিদার নাইট এবং ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে সোফিয়া ডাঙ্কলির জায়গায় দলে আসা ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট এবং অভিজ্ঞ হিদার নাইট দলের হাল ধরেন। শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে দেখেশুনে খেললেও, ইনিংসের মাঝপথে তারা রানের গতি বাড়াতে শুরু করেন। ১১তম ওভারে এই জুটির রান ৫০ পার হয় এবং ১৩তম ওভারে দল দলীয় শতরানের কোঠা ছোঁয়।

দুজন মিলে মাঠের চারদিকে চোখধাঁধানো সব শট খেলেন। নাইট টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ছক্কা হাঁকান, আর স্কিভার-ব্রান্টের টানা তিনটি চারের সাহায্যে ইংল্যান্ডের স্কোর ১৫০ পার হয়। শেষ পর্যন্ত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে রেকর্ড ১৩৩ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন এই দুই ব্যাটার।

১৯তম ওভারে ননকুলুলেকো ম্লাবা (২/২৫) একই ওভারে স্কিভার-ব্রান্ট (৭৫) এবং নাইট (৫৮) দুজনকেই আউট করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৬৯ রানের শক্তিশালী স্কোর দাঁড় করায়।

নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ইংল্যান্ডের দাপুটে জয়

১৭০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে লিনসে স্মিথের বলে অধিনায়ক লরা উলভার্ট (১৭) আউট হওয়ার পরেই প্রোটিয়াদের ইনিংসে ধস নামে। এরপর লরা ডার্কসেনকেও (৩) দ্রুত বিদায় করেন ফ্রেয়া কেম্প।

হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ছেন মারিজান কাপ।

১০ ওভারের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজনীয় রানের গতি ওভার প্রতি ১০-এর ওপরে চলে যায়। মারিজান কাপ (৫) এবং সুনে লুসের (১১) মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

ওপেনার তাজমিন ব্রিটস এক প্রান্ত ধরে রেখে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি (৫১) পূরণ করলেও, ঠিক পরের বলেই চার্লি ডিনের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষদিকে ক্লো ট্রায়ন (১২) এবং সিনালো জাফটা দ্রুত আউট হলে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। লরেন বেল ২৮ রানে ২ উইকেট এবং চার্লি ডিন ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের রানের চাকা টেনে ধরেন। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ১২৯ রান তুলতে সক্ষম হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরলাইন:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৯/৪ (ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট ৭৫, হিদার নাইট ৫৮; ননকুলুলেকো ম্লাবা ২/২৫, শবনিম ইসমাইল ২/৩১)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১২৯/৮ (তাজমিন ব্রিটস ৫১, লরা উলভার্ট ১৭; লরেন বেল ২/২৮, চার্লি ডিন ২/৩১)

ফলাফল: ইংল্যান্ড ৪০ রানে জয়ী।

রোববারের মেগা ফাইনাল: রোববার লর্ডসের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এর আগে তিনবার ফাইনালের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে এবার নিজেদের ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখে চতুর্থবারে ট্রফি নিজেদের করে নিতে মরিয়া স্বাগতিকরা।

Exit mobile version