ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকে থাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। ভূমিকম্পে একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের পরিবারও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এক ভয়াবহ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সেই ওয়েবসাইটে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার আবেদন নথিভুক্ত হয়েছে।
ধসে পড়া ভবনে নিখোঁজ ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর পরিবার
এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে নিজের পরিবারকে হারিয়ে ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন ভেনেজুয়েলান ক্লাবে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। ভূমিকম্পের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের কোনো খোঁজ মিলছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন ও আর্তনাদপূর্ণ বার্তায় ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার লিখেছেন:
“প্লায়া গ্রান্দেতে আমরা যে বহুতল ভবনটিতে থাকতাম, সেটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। দয়া করে সবাই তাদের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন। কেউ যদি তাদের কোথাও দেখে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান। আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে আশা করছি, ভূমিকম্পের মূল আঘাতের সময় তারা যেন ভবনের ভেতরে না থাকেন।”
আর্জেন্টিনার কর্ডোবায় জন্ম নেওয়া এই অভিজ্ঞ ফুটবলার বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ‘স্পোর্ট মারিতিমো লা গুয়াইরা’-র হয়ে খেলছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়াকে নিয়ে প্লায়া গ্রান্দের ওই আবাসিক ভবনেই বসবাস করছিলেন।
৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূকম্পন
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
| কম্পন | সময় (স্থানীয়) | উৎপত্তিস্থল | মাত্রা (রিক্টার স্কেল) |
| প্রথম ভূকম্পন | বুধবার, সন্ধ্যা ৬:০৪ মিনিট | কারাকাস থেকে ২৮৪ কিমি পশ্চিমে (সান ফেলিপে) | ৭.২ |
| দ্বিতীয় ভূকম্পন | বুধবার, সন্ধ্যা ৬:০৪ মিনিট (৩৯ সেকেন্ড পর) | কারাকাস থেকে ২৯৩ কিমি পশ্চিমে (ইউমারে) | ৭.৫ |
পরপর দুটি তীব্র ঝাঁকুনিতে রাজধানী কারাকাসের আশপাশের এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বহু বহুতল আবাসিক ভবন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বর্তমানে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনদের অপেক্ষা আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভেনেজুয়েলার বাতাস।
