দারুণ কৃতিত্ব দেখালেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিসিএফ ওপেন ফিদে রেটিং দাবা প্রতিযোগিতায় ৯টি খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমিনুল।
একই পয়েন্ট অর্জন করেন স্পোর্টস বাংলার গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। তবে উভয়ের পয়েন্ট সমান হওয়ায় টাইব্রেকিং পদ্ধতির মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। খন্দকার আমিনুল ইসলাম সরাসরি মোকাবেলায় মোস্তফার বিপক্ষে জয়লাভ করায় তাকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় এবং মোস্তফা রানার-আপ হন।
টুর্নামেন্টে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণেও ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা। সাত পয়েন্ট করে অর্জন করেন মোট চারজন খেলোয়াড়। টাইব্রেকিংয়ের ভিত্তিতে ভারতের প্রিয়াংশু বড়ুয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। এরপর চতুর্থ হন ফিরোজ আহমেদ, পঞ্চম স্থানে থাকেন ভারতের সৌরভ চৌবে এবং ষষ্ঠ স্থান লাভ করেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার সোহেল চৌধুরী।
এছাড়া সাড়ে ছয় পয়েন্ট অর্জনকারী খেলোয়াড়দের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। টাইব্রেকিংয়ের মাধ্যমে সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ স্থান নির্ধারণ করা হয়। এই তালিকায় ছিলেন ফিদে মাস্টার সৈয়দ মাহফুজুর রহমান, ফিদে মাস্টার সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ, সাফায়াত কিবরিয়া আজান, রায়ান রশিদ মুগ্ধ, ক্যান্ডিডেট মাস্টার মাছুম হোসেন, ক্যান্ডিডেট মাস্টার এস এম স্মরণ এবং ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ জাভেদ।
প্রতিযোগিতায় বিশেষ পারফরম্যান্সের জন্য কয়েকজন খেলোয়াড় বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আওসাফ চৌধুরী, আজান মাহমুদ, মোঃ আলামিন সরকার, মহিলা ফিদে মাস্টার ওয়ারসিয়া খুশবু, আবরার রিয়াজুল আহনাফ মোহাম্মদ, মহিলা ফিদে মাস্টার নাজরানা খান ইভা এবং আফজাল হোসেন সাচ্চু।
শেষ রাউন্ডের ফলাফল
প্রতিযোগিতার নবম ও শেষ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ক্রীড়া কক্ষে। এই রাউন্ডে খন্দকার আমিনুল ইসলাম ফিদে মাস্টার মাহফুজুর রহমানকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে মোস্তফা জয় পান আওসাফের বিপক্ষে। ফিরোজ আহমেদ ক্যান্ডিডেট মাস্টার অভিককে হারান এবং সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ জয়ী হন তানভীরের বিপক্ষে। এছাড়া রায়ান রশিদ মুগ্ধ মহিলা ফিদে মাস্টার খুশবুকে, সাফায়াত কিবরিয়া আজান ক্যান্ডিডেট মাস্টার শরীয়তকে, মাছুম হোসেন শুভংকরকে এবং আফজাল হোসেন সাচ্চু ইফতেখারকে পরাজিত করেন।
৯ রাউন্ড সুইস-লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৪৮ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ও উচ্চমানের প্রতিযোগিতা, যা দেশের দাবা অঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
