মেয়াদ শেষে বেলজিয়ামের দায়িত্ব ছাড়ছেন রুডি গার্সিয়া

বিশ্বকাপে প্রশংসনীয় পারফরম্যান্সের পরও বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে আর থাকছেন না রুডি গার্সিয়া। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই ৬২ বছর বয়সী এই ফরাসি কোচের সঙ্গে পথচলার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। চলতি মাসের ৩১ জুলাই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি।

দায়িত্ব নিয়েছিলেন গত বছর

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দোমেনিকো তেদেস্কোর উত্তরসূরি হিসেবে বেলজিয়ামের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গার্সিয়া। সে সময় দলটি কঠিন এক সন্ধিক্ষণ পার করছিল। মাঠের ফল, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং প্রজন্ম পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ-সব মিলিয়ে চাপের মধ্যেই দায়িত্ব শুরু করেছিলেন তিনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন অভিজ্ঞ এই কোচ।

তার অধীনেই ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে দলটি শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত এগোয়। সেখানে শিরোপাজয়ী স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। যদিও ট্রফি জেতা হয়নি, তবুও বেলজিয়ামের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিদায়ী বার্তায় গার্সিয়া

বিদায়ী বার্তায় গার্সিয়া বলেন, ‘আরবিএফএর সঙ্গে আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গত ১৮ মাসের অসাধারণ যাত্রা আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি দল রেখে যাচ্ছি, যারা নেশনস লিগের ‘এ’ বিভাগে রয়েছে এবং বিশ্বের সেরা আট দলের অন্যতম।’

বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে রুডি গার্সিয়া

নিজের বক্তব্যে খেলোয়াড়, ক্রীড়া পরিচালক ভিনসেন্ট মানার্ট এবং সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গার্সিয়া। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুরু করে দেওয়া প্রজন্ম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও সফল হবে বেলজিয়াম।

অন্যদিকে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ক্রীড়া পরিচালক ভিনসেন্ট মানার্ট গার্সিয়ার অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুডি গার্সিয়া নিঃসন্দেহে বেলজিয়ান রেড ডেভিলসকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কঠিন ক্রীড়া ও আর্থিক পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার কারণে দলের ঐক্য ফিরেছে এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপে দলটি দারুণ ফল করেছে।’

মানার্ট আরও জানান, গার্সিয়া ও তার সহকারী কোচদের গত ১৮ মাসের অবদানের জন্য ফেডারেশন আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নতুন চক্র শুরুর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

রোমা, মার্সেই ও নাপোলির মতো ইউরোপের নামকরা ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্বে এসেছিলেন গার্সিয়া। বেলজিয়ামে তার সময়টা খুব দীর্ঘ না হলেও দলকে নতুন করে গুছিয়ে তোলা, বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করাই হয়ে থাকবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচের অধীনে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বেলজিয়াম আবারও ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হতে পারে কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles