সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ ২০২৬ এ স্পেন চ্যাম্পিয়ন তা হয়তো একটু পুরনো খবর কিন্তু বিশ্বকাপের রেশ কিছুটা হলেও এখনও রয়ে গেছে তার কারণ সেমিফাইনাল ও ফাইনালে স্পেন যে কৌশলী ফুটবল খেলে টপ ফেভারিট ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করেছে স্পেনের সেই কৌশলের মূল কারিগর ছিলেন হোল্ডিং মিডিফিল্ডার অধিনায়ক রদ্রি। স্পেনের পাসিং ও কাউন্টার প্রেসিং এবং দলীয় সমন্বয়ের অসাধারন মেলবন্ধন তৈরিতে রদ্রি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। আর এ কারণেই বিশ্বকাপে কোন গোল এবং অ্যাসিস্ট না করেও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল বিজয়ী হয়েছেন তিনি। রদ্রির পজিশনে বিশ্বকাপে খেলেছেন অবদান রেখেছেন এমন সেরাদের নিয়ে খেলা ডট লাইভের ‘সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার’।

রদ্রি বিশ্বকাপে মোট ৭৯৯ টি পাস খেলেছেন সম্পন্ন করেছেন ৭৪৭টি পাস, সঠিক পাস ৯৩%, ডিফেন্স করেছেন ২১টি যার শতকরা হার ৯০%, ক্রস তুলেছেন ৩টি, আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০৬টি পাস খেলেছেন যার মধ্য ১০৩টি পাস সঠিক ছিল। এ থেকেই বোঝা যায় রদ্রি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে কতটা ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্বকাপে অন্তত রাউন্ড অব সিক্সটিন পর্যন্ত যে দলগুলো খেলেছে তাদের মধ্য থেকেই সেরা ১১ জন দেখুন।

রদ্রি: 

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার ছিলেন রদ্রি, খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রিই স্পেনের এক নম্বর পছন্দ। তিনি মিডফিল্ডের সামনে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার, প্রেস ভাঙা এবং ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি স্পেনের পাসিং টেম্পোও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বিশ্বকাপের পর তাঁর পারফরম্যান্সকে ঘিরে পরিসংখ্যানেও তিনি খুব উঁচুতে ছিলেন—তাঁর ৭৪৭টি সফল পাস, ২৬টি ট্যাকল, ডিফেন্স ২১টি উল্লেখ যোগ্য।  

সারকথা: যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একটি বিশ্ব একাদশ বানানো হয়, রদ্রিকে আমি আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের চেয়ে এগিয়ে রাখব। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়কও ছিলেন রদ্রি।

এনজো ফার্নান্দেজ:

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা ডট লাইভের পছন্দ এনজো ফার্নান্দেজ।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার-বিশুদ্ধ ডিপ-লাইং হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে লিয়ান্দ্রো পারেদেস বেশি স্বাভাবিক পছন্দ। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, বল পুনরুদ্ধার, প্রেসিং, ডিফেন্সিভ কভার এবং বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে এনজোকে এগিয়ে রাখতে হবে। আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দুজনই মিডফিল্ডার ছিলেন।

এক লাইনে: আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ দলের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার-এনজো ফার্নান্দেজ; আর খাঁটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে-লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি:

ডিফেন্সের সামনে থেকে স্ক্রিন হিসেবে কাজ করার ক্ষমতা, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকল, পজিশনিং এবং ডিফেন্সিভ কভার, চাপের মধ্যে বল ধরে রাখা ও পাসিং মিডফিল্ড থেকে ডিফেন্সে ভারসাম্য তৈরিতে বেশ পারদর্শি।  

ফ্রান্সের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে চুয়ামেনি, এন’গোলো কান্তে, মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিও এবং ওয়ারেন জাইর-এমেরি ছিলেন। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে চুয়ামেনি ও রাবিও মাঝমাঠে শুরু করেছিলেন।

্যাঙ্কিং: অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি-সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, এন’গোলো কান্তে-অভিজ্ঞতা ও বল জয়ের দক্ষতায় দুর্দান্ত, নু কোনে-শারীরিক শক্তি ও প্রেসিংয়ে বেশী কার্যকর।

সারকথা হল: যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একাদশ বানানো যায়, তাহলে ফ্রান্স থেকে চুয়ামেনিকেই আমি বেছে নেব।

ডেকলান রাইস:

তিনি পুরোপুরি ক্লাসিক ৬ নম্বর নন বরং ৬ এবং ৮ দুই ভূমিকাতেই খেলতে পারেন। তবে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ডিফেন্সের সামনে ভারসাম্য তৈরি, বল পুনরুদ্ধার, প্রেসিং, ট্রানজিশন থামানো এবং দ্রুত আক্রমণে সহায়তা করা। ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াড তালিকাতেও রাইসকে মিডফিল্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে।

্যাঙ্কিং: ডেকলান রাইস-সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, এলিয়ট অ্যান্ডারসন-বল দখল ও মিডফিল্ড প্রেসিংয়ে কার্যকর, জর্ডান হেন্ডারসন-অভিজ্ঞতা ও রক্ষণাত্মক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ

সারকথা: আপনার যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের নিয়ে একাদশ বানানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে ইংল্যান্ড থেকে ডেকলান রাইসকে পছন্দ করতেই হবে।

জোয়াও পালহিনহা:

জোয়াও পালহিনহা- পর্তুগালের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তিনি মূলত একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ পজিশনের ফুটবলার, যার প্রধান শক্তি হলো—

ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন তৈরি করা, ট্যাকল ও বল পুনরুদ্ধার, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া ও দুর্দান্ত পজিশনিং জ্ঞান এবং শারীরিক শক্তি ও ডুয়েল জেতার দক্ষতা।

্যাঙ্কিং: জোয়াও পালহিনহা-সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, রুবেন নেভেস- পাসিং ও গভীর থেকে খেলা পরিচালনায় এগিয়ে, ভিতিনিয়া-পজেশন ও প্রেস-রেজিস্ট্যান্সে অসাধারণ, তবে খাঁটি নাম্বার ৬ নয়। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: জোয়াও পালহিনহা।
যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের বিশ্ব একাদশ বানানো হয়, পর্তুগাল থেকে পালহিনহা পছন্দের প্রথমেই থাকবে।

আমাদু ওনানা:

আমাদু ওনানা- বেলজিয়ামের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তার প্রধান শক্তিগুলো হলো-ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন, শারীরিক শক্তি ও এরিয়াল ডুয়েলে দক্ষতা, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকল, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, পজিশনিং ও মিডফিল্ড কভার।

্যাঙ্কিং: আমাদু ওনানা — সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, অ্যাস্টার ফ্রাঙ্কস — পরিশ্রমী ও ভারসাম্যপূর্ণ, কেভিন ডি ব্রুইনে — গভীর থেকে খেলা তৈরি করতে পারেন, তবে মূলত হোল্ডিং মিডফিল্ডার নন। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: আমাদু ওনানা।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের তালিকা করলে বেলজিয়াম থেকে ওনানাই প্রথম চয়েস হবে।

স্যান্ডার বার্গ:

বার্গ মূলত একজন ডিফেন্সিভ/হোল্ডিং মিডফিল্ডার, যিনি নরওয়ের মিডফিল্ডে ভারসাম্য ধরে রাখার পাশাপাশি রক্ষণে সহায়তা করেন।

কেন বার্গ: ডিফেন্সের সামনে কভার তৈরি করতে পারেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে কার্যকর, ভালো পজিশনিং ও গেম রিডিং, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং ডুয়েলে কার্যকর, ডিফেন্স থেকে আক্রমণে ট্রানজিশনে সহায়তা করেন।

্যাঙ্কিং: স্যান্ডার বার্গ—সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, মর্টেন থর্সবি—পরিশ্রমী ও ডিফেন্সিভ অবদানে কার্যকর, প্যাট্রিক বার্গ — পাসিং ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে ভালো, তাই চূড়ান্ত পছন্দ: স্যান্ডার বার্গ।

গ্রানিত জাকা:

জাকা একজন অভিজ্ঞ ডিপ-লাইং/হোল্ডিং মিডফিল্ডার, যিনি মিডফিল্ড থেকে দলের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিফেন্সিভ ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কেন জাকা: ডিফেন্সের সামনে অবস্থান নিয়ে ভারসাম্য তৈরি করেন, দূরপাল্লার ও নির্ভুল পাসে আক্রমণ শুরু করেন, পজিশনিং ও গেম রিডিংয়ে অভিজ্ঞ, শারীরিক ডুয়েলে কার্যকর, ম্যাচের গতি ও টেম্পো নিয়ন্ত্রণে দক্ষ।  

্যাঙ্কিং: গ্রানিত জাকা- সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, রেমো ফ্রয়লার — ডিফেন্সিভ কভার ও বল পুনরুদ্ধারে কার্যকর, ভিনসেন্ট সিয়েরো — পাসিং ও পজেশন নিয়ন্ত্রণে ভালো, চূড়ান্ত পছন্দ: গ্রানিত জাকা।

সোফিয়ান আমরাবাত:

আমরাবাত মূলত একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ পজিশনের ফুটবলার, যিনি ডিফেন্সের সামনে থেকে দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন।

কেন আমরাবাত: ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন তৈরি করেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে দক্ষ, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে কার্যকর, পজিশনিং ও গেম রিডিং ভালো, শারীরিক ডুয়েলে শক্তিশালী, বল জিতে দ্রুত ট্রানজিশনে সাহায্য করেন

্যাঙ্কিং: সোফিয়ান আমরাবাত — সেরা খাঁটি হোল্ডিং মিডফিল্ডার, বিলাল এল খান্নুস — বল নিয়ন্ত্রণ ও প্রেসিংয়ে কার্যকর, তবে বেশি আক্রমণাত্মক, আজ্জেদিন উনাহি — পজেশন ও বল এগিয়ে নিতে দক্ষ, তবে মূলত নাম্বার ৮, তাই চূড়ান্ত পছন্দ: সোফিয়ান আমরাবাত।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের তালিকায় মরক্কো থেকে আমরাবাতকেই আমি রাখব।

মারওয়ান আতিয়া:

মারওয়ান আতিয়া — মিশরের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, তিনি মূলত একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অর্থাৎ নাম্বার ৬। যিনি ডিফেন্সের সামনে থেকে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন।

কেন আতিয়া: ডিফেন্সের সামনে কভার দেন, বল পুনরুদ্ধার ও ট্যাকলিংয়ে কার্যকর, ভালো পজিশনিং ও গেম রিডিং, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ, বল জিতে দ্রুত পজেশন বদলে দিতে পারেন।

্যাঙ্কিং: মারওয়ান আতিয়া — সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, হামদি ফাত্তাহি — রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, মোহাম্মদ এলনেনি — অভিজ্ঞতা ও পাসিংয়ে শক্তিশালী, তবে আগের তুলনায় বেশি গভীর প্লেমেকার। তাই চূড়ান্ত পছন্দ: মারওয়ান আতিয়া।

এডসন আলভারেজ:

তিনি একজন ক্লাসিক নাম্বার ৬ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, যিনি মেক্সিকোর মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ধরে রাখার পাশাপাশি ডিফেন্সের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কভার দেন।

কেন আলভারেজ: ডিফেন্সের সামনে শক্তিশালী স্ক্রিন, ট্যাকল ও বল পুনরুদ্ধারে দক্ষ, পজিশনিং ও গেম রিডিং ভালো, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে কার্যকর, বল জিতে দ্রুত আক্রমণে রূপান্তর করতে পারেন

্যাঙ্কিং: এডসন আলভারেজ — সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার, লুইস শাভেজ — পাসিং ও দূরপাল্লার শটে শক্তিশালী, কার্লোস রদ্রিগেজ — বল নিয়ন্ত্রণ ও পজেশন ধরে রাখতে কার্যকর

চূড়ান্ত পছন্দ: এডসন আলভারেজ।

প্রিয় পাঠক কেমন হল সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডার নির্বাচন। আপনি কি খেলা ডট লাইভের সাথে একমত? নাকি আপনার ভিন্নতা রয়েছে? কমেন্টে জানিয়ে দিতে পারেন আপনার সেরা ১১ হোল্ডিং মিডফিল্ডারের তালিকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles