নতুন কুঁড়ির চ্যাম্পিয়ন কিসকুর মাকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

অনূর্ধ্ব পর্যায়ে আলো ছড়ানো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে রংপুর বিভাগকে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন তরুণ স্ট্রাইকার কিসকু। মাঠের পারফরম্যান্সে সে সেরা হলেও জয়ের আনন্দে ভাসার মুহূর্তে কিসকুর মনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর আকুতি। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে জানায়, তার মায়ের একটি নিজস্ব ফোন থাকলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই অভাবনীয় আনন্দটি প্রথমেই মায়ের সাথে ভাগ করে নিতে পারত।

কিশোরী এই ফুটবলারের এমন আবেগঘন বার্তা নজর এড়ায়নি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। কিসকুর আকুতির কথা জানতে পেরে তিনি ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে মায়ের সন্ধান

কিসকুর পরিবারে আনন্দের খবরটি পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শুরুতে কিছুটা বিপত্তি তৈরি হয়। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা কিসকুর মাকে প্রথমে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে তাঁর খোঁজ মেলে।

ফোন, আর্থিক সহায়তা ও স্থায়ী কর্মসংস্থান

মিরপুরে প্রতিমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কিসকুর মায়ের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কিসকুর সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

জীবিকার অন্বেষণে ঢাকায় এলেও কিসকুর মা এতদিন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারেননি। এই মানবিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান:

“কিসকুর মাকে একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেন তিনি একটি নির্দিষ্ট আয়ের মাধ্যমে নিজে এবং সন্তানকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পারেন।”

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারিবারিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পর কিসকু খেলায় আরও মনোযোগ দিতে পারবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুদূর এগিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় নৈশভোজের আমন্ত্রণ

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও একটি বড় সুখবর জানান। গত ২৭শে জুলাই জমকালো সমাপনী ও প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসর। সমাপনীর পরদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিসকুসহ আসরে বিজয়ী সকল খুদে ক্রীড়াবিদ এবং তাদের অভিভাবকদের রাষ্ট্রীয় বাসভবন ‘যমুনা’য় নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বর্তমানে বিজয়ী সকল ক্রীড়াবিদ ও তাদের অভিভাবকদের সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই তথ্য যাচাইকরণ শেষ হলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles