মেসির পেনাল্টি মিস, ন্যাশভিলের কাছে বিধ্বস্ত মায়ামি

ফুটবলে মেসির নামের পাশে ‘অসাধারণ’ শব্দটি যেন চিরচেনা। কিন্তু শনিবারের রাতটি ছিল তাঁর জন্য ঠিক উল্টো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন টানা তৃতীয়বার। তাঁর ফেরার ম্যাচেই ইন্টার মায়ামি হেরেছে ৪-১ গোলে, ন্যাশভিল এসসির কাছে। এর মধ্য দিয়ে মায়ামিকে টানা তৃতীয় হার হজম করতে হলো।

জিওডিস পার্কে ম্যাচের ১৭ মিনিটে অ্যান্ডি নাহারের গোলে এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। মাত্র ছয় মিনিট পরই সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় মায়ামি। পেনাল্টি থেকে গোল করার দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকার নিচু শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ন্যাশভিল গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে। ফিরতি বলে সার্জিও রেগিলন গোল করলেও ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়-পেনাল্টি নেওয়ার সময় সতীর্থের আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়ার কারণে।

পেনাল্টিতে মেসির ব্যর্থতা বিরল

মেসির পেনাল্টি ব্যর্থতার এই ধারাটি বেশ বিরল। ইএসপিএন’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর এবারই প্রথম টানা তিনটি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেজর লিগ সকারে অবশ্য ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের পর এটিই তাঁর প্রথম পেনাল্টি মিস।

তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মায়ামিকে সমতায় ফেরান তেলাসকো সেগোভিয়া। মেসির তৈরি করে দেওয়া সুযোগে দারুণ ফুটওয়ার্কে গোল করেন তিনি। মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারে মায়ামি।

বাস্তবে হলো ঠিক উল্টো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় ন্যাশভিল। সাবেক এমএলএস এমভিপি হানি মুখতার করেন জোড়া গোল। মাঝখানে সাম সারিজের দারুণ ব্যাকহিল ফিনিশে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। সারিজের গোলের আগে মেসি ফাউলের আবেদন করে রেফারির সঙ্গে তীব্রভাবে তর্ক করেন এবং দেখেন হলুদ কার্ড।

পেনাল্টি শট নিচ্ছেন মেসি

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যর্থ মেসি

ম্যাচের শেষ দিকেও ভাগ্য ফেরেনি মেসির। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে একই আক্রমণে তাঁর শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর শেষ পর্যন্ত জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

ন্যাশভিলের চতুর্থ গোলটিতেও মায়ামির ভুল ছিল বড় ভূমিকা। গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো নিজের বক্সের অনেক বাইরে এসে পিছলে পড়েন। ন্যাশভিল গোলরক্ষক শোয়াকের লম্বা কিক ধরে মুখতার প্রায় ফাঁকা জালে বল পাঠান। ছয় ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ন্যাশভিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল মায়ামি। ম্যাচটি জিতলে ন্যাশভিলকে টপকে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু বড় হারে এখন ন্যাশভিলের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমে বাকি ১৫ ম্যাচ।

এই ম্যাচটি মেসির জন্যও ছিল আবেগের। বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর প্রথমবার মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মন্টেরেরির বিপক্ষে ম্যাচে খেলেননি। এরপর লিওনের বিপক্ষে বুধবারের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। এবার ফিরলেন শুরু থেকেই, কিন্তু মাঠ ছাড়লেন হতাশা নিয়েই।

লিগস কাপ থেকে বিদায়

লিগস কাপে টানা দুই ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার এমএলএসেও টানা তৃতীয় হার মায়ামির। সেই সঙ্গে মেসির রাতও শেষ হলো গোলহীন, পেনাল্টি মিস এবং বাতিল হওয়া গোলের হতাশায়। মায়ামির সামনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দ্রুতই আসছে। বুধবার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মাঠে খেলবে তারা। সেখানে মেসি ও তাঁর দল কীভাবে এই হতাশার জবাব দেয়, এখন সেটিই দেখার।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles