সোনাল দিনুশার জন্য আগস্টটা ছিল স্বপ্নের মতো। ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার মিলল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ ও ইংল্যান্ডের অলি রবিনসনকে পেছনে ফেলে আগস্ট ২০২৬-এর আইসিসি মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার এই তরুণ ব্যাটার।
আগস্টে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দিনুশা করেছেন ৪২০ রান। ব্যাটিং গড় ১৪০। চার ইনিংসে তাঁর রান-১০০, ৮৪, ১০৩ ও অপরাজিত ১৩৩। সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করে দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়েছেন তিনি।
গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন দিনুশা। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান। শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ১৬৫ রানে হারলেও দলের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিলেন তিনিই।
দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য আরও বড় ভূমিকা রাখেন দিনুশা। প্রথম ইনিংসে করেন ১০৩ রান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়।
চার ইনিংসে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে আগস্টের মাসসেরার পুরস্কার। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার হয়ে তাঁর টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র তিন ম্যাচের। এত অল্প সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেই এমন স্বীকৃতি তাই দিনুশার উত্থানকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।
মাসসেরার দৌড়ে দিনুশার সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ও ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন। আগস্টে টেস্টে দুজনেরই ছিল নজরকাড়া পারফরম্যান্স।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন হাসান। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে তিনি নেন যথাক্রমে ৬ উইকেটে ৫৫ রান ও ৩ উইকেটে ৫৬ রান। তাঁর বোলিংয়ের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ পায় নিজেদের প্রথম টেস্ট জয়। দুই টেস্টের সিরিজে হাসানের শিকার ৯ উইকেট, বোলিং গড় ১৯.৭৭।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে ১৬ উইকেট নিয়ে মনোনয়ন পান অলি রবিনসন। প্রথম টেস্টে ৮/৮০-এর পর দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর বোলিং আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে ৮/৩৫। আগস্টে তাঁর বোলিং গড় ছিল মাত্র ৭.১৮।
তবে শেষ হাসি হেসেছেন দিনুশাই। ভারতের বিপক্ষে চার ইনিংসে ৪২০ রান, তিনটি সেঞ্চুরি এবং একটি অপরাজিত শতকের ইনিংস তাঁকে এনে দিয়েছে আইসিসির মাসসেরার স্বীকৃতি।
পুরস্কারটি দিনুশার ক্যারিয়ারের প্রথম আইসিসি মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার। স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার কাছে অনেক অর্থবহ, বিশেষ করে ক্যারিয়ারের এত শুরুতেই। এই সম্মানের জন্য আইসিসির কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের স্মৃতি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে জানিয়ে দিনুশা বলেন, “ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজটি সবসময়ই আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে থাকবে। তিনটি সেঞ্চুরি করা ছিল স্বপ্নপূরণের মতো একটি বিষয়। আর কলম্বো ও গলেতে নিজেদের ঘরের দর্শকদের সামনে এই সেঞ্চুরিগুলো করতে পারায় তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।”
দুই ম্যাচের সিরিজ শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে হেরেছে। তবে দ্বিতীয় টেস্টে দিনুশার অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস দলকে হার এড়াতে সাহায্য করে। কলম্বো টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।
সিরিজের ফল নিয়ে হতাশা থাকলেও দলের লড়াইয়ে গর্বিত দিনুশা। তাঁর ভাষায়, “যদিও আমরা যে সামগ্রিক ফলাফল চেয়েছিলাম, সেটি পাইনি; তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ধরন আমাদের দলের চরিত্র, বিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। সতীর্থদের সঙ্গে সেই লড়াইয়ের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।”
শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলাকে নিজের জন্য বিশেষ সম্মানের বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দিনুশা বলেন, “শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করা এমন একটি সম্মান, যেটিকে আমি কখনোই হালকাভাবে নিই না। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও বেশি শেখা, উন্নতি করা এবং দলের জন্য অবদান রাখার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। আগামী মাস ও বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে যাব।”
৪২০ রানের দুর্দান্ত আগস্টের পর এবার আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতিও পেলেন সোনাল দিনুশা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনের জানান যে জোরালোভাবেই দিচ্ছেন, এই পুরস্কার যেন তারই আরেকটি প্রমাণ।


