ফেডারেশন কাপ ফাইনাল নিয়ে চরম নাটকীয়তা – সংকটে বাফুফে

বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডানের ম্যাচ (ফাইল ছবি)।

বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডানের ম্যাচ (ফাইল ছবি)।

কিংস অ্যারেনায় খেলবে না মোহামেডান

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের হাইভোল্টেজ ফাইনাল আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বসুন্ধরা কিংসের হোম গ্রাউন্ড ‘কিংস অ্যারেনায়’। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড তাদের আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকায় ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মোহামেডান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই কিংসের মাঠে ফাইনালে অংশ নেবে না। এই ভেন্যু জটিলতা নিরসনে গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে মোহামেডান কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও মেলেনি কোনো সমাধান।

নিজেদের অবস্থানে অনড় মোহামেডান

বৈঠকে মোহামেডানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্লাবের পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান। বাফুফে ভবন থেকে বের হয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন,

“আমি ক্লাবের পক্ষ থেকে বাফুফে সভাপতিকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি যে, কিংস অ্যারেনায় আমাদের পক্ষে ফাইনাল খেলা সম্ভব না। বিকল্প হিসেবে যে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণের অনুরোধ করেছি। এখন বাফুফে কী করবে, সেটা তাদের বিষয়।”

মোস্তাকুর রহমান আরও যোগ করেন, অতীতে ওই মাঠে মোহামেডান যত ধরনের প্রতিকূলতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তার সবকিছুই নতুন সভাপতিকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তবে খেলা কোথায় হবে, সে বিষয়ে সভাপতি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি; অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

বাফুফে সভাপতির বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মোহামেডানের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্বীকার করেন যে, মোহামেডান তাদের আগের অবস্থানেই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে বিষয়টি যে কেবল একপাক্ষিক নয়, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন,

“দুই দলেরই (মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস) একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। মোহামেডানের হোম ভেন্যু কুমিল্লা নিয়েও কিংসের আপত্তি রয়েছে।”

বাফুফে সভাপতি জানান, গত ১৩ এপ্রিল ফেডারেশন কাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সূচি অনুযায়ীই সব এগোচ্ছিল। তবে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুই ক্লাবের মন জয় করেই একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।


সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হয়েছিল

বাফুফের এই দাবির বিপরীতে মোহামেডানের ফুটবল ম্যানেজার ও সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ভেন্যু নিয়ে আপত্তি তারা ফাইনালের আগমুহূর্তে করেননি, বরং শুরুতেই করেছিলেন। নকিব বলেন,

“ড্রয়ের অনুষ্ঠানেই আমরা সবার আগে বলেছিলাম, ফাইনালে যদি মোহামেডান এবং বসুন্ধরা কিংস ওঠে, তাহলে আমরা কিংসের মাঠে ফাইনাল খেলব না। প্রতিপক্ষ আবাহনী বা অন্য কেউ হলে আমাদের আপত্তি ছিল না।”

গত ১২ মে কুমিল্লায় ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে মোহামেডান ফাইনালে ওঠার পরপরই লিগ কমিটি থেকে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে জানানো হয় ফাইনাল হবে কিংস অ্যারেনায়। মোহামেডান মাঠ থেকে বের হওয়ার আগেই কেন বাফুফেকে এমন তাড়াহুড়ো করে বার্তা পাঠাতে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নকিব।

গুরুত্ব দেয়নি বাফুফে

মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, ক্লাবের সভাপতি ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু নিজে বাফুফে সভাপতিকে ফোন করে কিংসের মাঠে না খেলার কারণ ও সমস্যাগুলো অবহিত করেছিলেন। একই সঙ্গে লিখিত চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাফুফে তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। বাফুফে সভাপতি থাইল্যান্ডসফরে থাকায় বিষয়টি ঝুলে থাকে এবং সেখান থেকে ফিরে গতকালই তিনি প্রথম মোহামেডানের মুখোমুখি হন।

দেরিতে হলেও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কিছুটা দায় স্বীকার করে বলেছেন, “আমাদের উচিত ছিল আরও আগে থেকে কিছু সিরিয়াস বিষয় বিবেচনায় আনা।”

ফেডারেশনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিংসের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বাফুফেকে অতীতে কয়েকবার ফিফার কাছে জরিমানা গুনতে হয়েছিল। সেই আন্তর্জাতিক স্তরের সমস্যাগুলোকে সঠিক সময়ে আমলে না নেওয়ার কারণেই তা আজ ঘরোয়া লিগেও বড় সংকট হিসেবে রূপ নিয়েছে।

আজকের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়াবে নাকি ভেন্যু বিতর্কের জাঁতাকলে পড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বাফুফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

Exit mobile version