নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় যেন এক নতুন ফুটবল নক্ষত্রের উদয় হলো। নাম তার মোসাম্মত রিমি। সোমবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের ফাইনালে নেত্রকোণাকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ জেলা দল। দাপুটে জয়ে তারা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে।
ময়মনসিংহের দাপুটে জয়ের নেপথ্য নায়ক হিসেবে মাঠ কাঁপিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উদীয়মান ফুটবলার রিমি। ফাইনাল ম্যাচে একাই চার গোলের ধামাকা দেখিয়ে ম্যাচ সেরা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন এই খুদে ফুটবলার।
ফাইনাল ম্যাচে নেত্রকোণার রক্ষণভাগকে যেন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন রিমি। ম্যাচের শুরু থেকেই তার ক্ষিপ্র গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা। পুরো ম্যাচে একাই চারটি দর্শনীয় গোল করে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন তিনি।
রিমির এই পারফরম্যান্সে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে মুখরিত করে তোলেন পুরো চারপাশ।
রিমির এই গোলবন্যা কেবল ফাইনালেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেমিফাইনাল থেকেই তিনি ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। এর আগে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে শেরপুর জেলার বিপক্ষেও ময়মনসিংহের জয়ে মূল ভূমিকা ছিল তার। সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচেও প্রতিপক্ষের জালে ২ বার বল পাঠিয়ে দলের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের এই ফুটবল কন্যা।
টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচেই তার পা থেকে এসেছে ৬টি চোখ ধাঁধানো গোল। মাঠের চারপাশে বল ড্রিবলিং ও গোলপোস্টের সামনে তার ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে ফুটবল বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই তার মাঝে দেশের নারী ফুটবলের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন।
রিমির ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প
ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা অনেক সংগ্রামের। বাবা-মা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নানার আশ্রয়ে থেকেই নিজের ফুটবল খেলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নানাভাইয়ের হাত ধরে ও নিজের অদম্য ইচ্ছায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়িয়ে পুরো ময়মনসিংহের গর্বে পরিণত হয়েছেন রিমি।
আঞ্চলিক পর্বের এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর এবার রিমির লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়। ময়মনসিংহের ক্রীড়াপ্রেমীদের এখন একটাই আশা, রিমি তার এই চেনা গোলক্ষুধা ধরে রেখে জাতীয় মঞ্চেও ময়মনসিংহের নাম উজ্জ্বল করবেন এবং দেশের ফুটবলকে নিয়ে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















