দুইবার ডাক পেয়েও হয়নি অভিষেক, তৃতীয় সুযোগে ভাগ্য খুলছে মুশফিক হাসানের?

টেস্ট দলে ডাক পেয়েছিলেন একবার নয়, দুবার। কিন্তু চোট আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অভিষেকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি মুশফিক হাসানের। অবশেষে আবারও জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন এই তরুণ পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি, আর এবার তার সামনে অপেক্ষা বহু প্রতীক্ষিত অভিষেকের সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রোববার অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা করেছে। চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন নাহিদ রানা। আর সেই শূন্যস্থানেই সুযোগ মিলেছে ২৩ বছর বয়সী মুশফিকের। ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাস, ২০২৪ সালে নাহিদ রানার কারণেই একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। এবার সেই রানার ইনজুরিই খুলে দিল জাতীয় দলের দরজা।
দল ঘোষণার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি মুশফিক।

‘আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো লাগছে। এটা আমার জন্য বড় একটা সুযোগ। সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে,’ জাগো নিউজকে বলেন তিনি।

শুধু নাহিদ নন, প্রথম টেস্টে শরিফুল ইসলামের খেলাও অনিশ্চিত। ফলে একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে মুশফিকের। তবে এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না তিনি। তার লক্ষ্য একটাই, সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেখানো।

‘অনেক দিন ধরেই পরিশ্রম করছি। গত কয়েকটি সিরিজেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছি। সুযোগ পেলে ভালো করার চেষ্টা করব,’ বলেন এই ডানহাতি পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে মুশফিকের। গত বছর বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ডারউইনে খেলেছিলেন তিনি। এবার জাতীয় দলের প্রথম টেস্টও হবে একই ভেন্যুতে। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত থাকাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

‘গত বছর ডারউইনে খেলেছিলাম। তাই কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। ওই অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে লাগবে। ম্যাচের আগে আরও কয়েকদিন সময় আছে, প্রস্তুতিটা আরও ভালোভাবে নিতে পারব,’ বলেন মুশফিক।

দল ঘোষণার আগে কোচিং স্টাফ বা অধিনায়কের সঙ্গে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। ‘রানিং সেশনের সময় সামান্য কথা হয়েছে, এর বাইরে আলাদা করে কিছু হয়নি,’ যোগ করেন এই পেসার।
জাতীয় দলে এটি অবশ্য তার প্রথম ডাক নয়। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও সুযোগ পান। কিন্তু প্রতিবারই চোট কিংবা পরিস্থিতির কারণে অভিষেক অধরাই থেকে যায়।
এত বাধা পেরিয়েও পাশে থাকার জন্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুশফিক।

‘অনেকবারই চোটে পড়েছি, শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে গেছি। কিন্তু বিসিবি সবসময় আমার পাশে ছিল। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ,’ বলেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ৫৭ উইকেট নিয়েছেন মুশফিক। তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের পাশাপাশি তার সেরা বোলিং ৭৩ রানে ৮ উইকেট।

দুইবার খুব কাছে গিয়েও জাতীয় দলের সাদা জার্সিতে নামা হয়নি। এবার তৃতীয় সুযোগে অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles