প্রথমবার উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠেছে অ্যাস্টন ভিলা ও ফ্রেইবুর্গ। আজ রাতে সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগে অ্যাস্টন ভিলা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে স্বদেশী ক্লাব নটিংহাম ফরেস্টকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছে ভিলা। আরেক সেমির দ্বিতীয় সাক্ষাতে ফ্রেইবুর্গ ৩-১ গোলে দশজনের স্পোর্তিং ব্রাগাকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ৪-৩ গোলের।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পর ইউরোপা লিগের ফাইনালে কারা খেলবে তা নিশ্চিতের ম্যাচ দুটি হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। উভয় সেমির দ্বিতীয় লেগে প্রথম সাক্ষাতের ফল উল্টে গেছে। কারণ, প্রথম লেগে অ্যাস্টন ভিলাকে ১-০ গোলে নটিংহাম ফরেস্ট এবং স্পোর্তিং ব্রাগা ২-১ গোলে ফ্রেইবুর্গকে পরাজিত করেছিল।
আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিতের পথেই আছে অ্যাস্টন ভিলা। এবার ইউরোপা লিগে প্রথমবার ফাইনালে উঠল দলটি। আর সেটি গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে উপভোগ করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম। ভিলা পার্কে বল দখলে সমানে-সমান লড়াই হয়েছে। তবে শট নেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
এরপরও গোল পেতে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় অ্যাস্টন ভিলাকে। উনাই এমেরির শিষ্যরা স্বস্তি পেয়েছেন ওলি ওয়াটকিনসের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফিরে। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আসল লড়াই। এবার ফাইনালে উঠতে জমজমাট যুদ্ধ বাধে ভিলার সঙ্গে ফরেস্টের।
অবশ্য ৫৮ মিনিটে সফরকারীদের পিছিয়ে দেন এমি বুয়েন্দিয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে (২-০)। তাদের হতাশা আরো বেড়ে যায় জন ম্যাকগিনের জোড়া গোলে। অবশ্য মাঝে বেশকিছু আক্রমণ করেও নটিংহামের ক্লাবটি সমতায় ফিরতে পারেনি।
ইউরোপা লিগের ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলা ও ফ্রেইবুর্গ
ম্যাকগিন ৭৭ ও ৮০ মিনিটে গোল করে হতাশায় নিমজ্জিত করেন নটিংহাম ফরেস্টকে। ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকা অ্যাস্টন ভিলাকে থামাতে হলে অন্তত তিনটি গোল করাই লাগতো সফরকারীদের। কিন্তু একটিও সাফল্য পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত প্রথমবার ইউরোপা লিগের ফাইনালে পা রাখে ভিলা।
আরেক সেমিতেও একপেশে খেলা হয়েছে। এর কারণ ম্যাচের ছয় মিনিটের সময়ই দশজনে পরিণত হয় স্পোর্তিং ব্রাগা। মারিও দর্জিলিস লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই ফ্রেইবুর্গ দাপট দেখিয়েছে।
কোণঠাসা ব্রাগা ১৯ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে। লুকাস কোবলারের সেই গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতা ফেরে ফ্রেইবুর্গ। প্রথমার্ধেই তারা এগিয়ে যায় ৪১ মিনিটে জোহান মানজাম্বি গোল করলে।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে কোবলার তার দ্বিতীয় গোল করলে ব্যবধান আরও বাড়ে (৩-০)। ৭৯ মিনিটে পাও ভিক্টর একটি গোল পরিশোধ করার পর (৩-১) ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় নটিংহাম ফরেস্ট। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি তাদের। কারণ ম্যাচের ৭২ ভাগ সময়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রাখে ফ্রেইবুর্গ। শেষ পর্যন্ত তারাই প্রথমবারের মতো ইউরোপার ফাইনালে ওঠে।
আগামী ২০ মে ইস্তান্বুলের বেসিকতাস স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ৪৪ বছর পর গোটা ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতার সুযোগ অ্যাস্টন ভিলার। ১৯৮২ সালে তারা ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল যা বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগ হিসেবে পরিচিত। আর ফেইবুর্গের তেমন কোনো সাফল্য নেই।
