আনকোরা কিউইদের কাছেই ধরাশায়ী টাইগাররা। মিরপুরের চেনা কন্ডিশন, তীব্র গরম এবং নিজেদের পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড, সব মিলিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশই ছিল ফেভারিট। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের অনুকূল পরিস্থিতির ছিটেফোঁটাও কাজে লাগাতে পারল না মিরাজের দল। উল্টো খর্বশক্তির সেই নিউজিল্যান্ডের কাছেই ২৬ রানে লজ্জার হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল স্বাগতিকরা।
২৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই হারে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিয়ে বড় একটা শঙ্কা তৈরি হলো! সাথে বাড়িয়েছে হতাশা এবং অস্বস্তিও। কিউইদের এই দলটা তাদের মূল ওয়ানডে দলের চেয়ে অনেকটা আলাদা। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের ১১ জনই নেই এই সিরিজে।
এমন আনকোরা দলের কাছে হেরে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা নিঃসন্দেহে আক্ষেপে ভাসাবে টাইগারদের। শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৬৭ রান, হাতে ৬ উইকেট। উইকেটে পুরোপুরি দুই সেট ব্যাটার আফিফ হোসেন এবং তাওহীদ হৃদয়। এমন ম্যাচে জয়ের চেয়ে বরং হারাটাই কঠিন ছিল টাইগারদের জন্য। ৪০.৩ ওভারে দলীয় ১৮৪ রানে ফেরেন আফিফ। রানের চাপে পড়ে লেনক্সকে বাউন্ডারি ছাড়া করতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন এই ক্রিকেটার। অবশ্য অতিরিক্ত ডট খেলে নিজের ওপর চাপটা নিজেই তৈরি করেন তিনি।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেমে আফিফ করেছেন ৪৯ বলে ২৭ রান। প্রয়োজনের সময় হাল ধরতে পারেননি অধিনায়ক মিরাজও। ১৪ বলে ৬ রান করে আউট হন দলীয় ১৯৪ রানে। উইকেটের মিছিলে এরপর যোগ দেন রিশাদ হোসেন এবং শরিফুল ইসলাম। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে এই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দিকহারা মাঝির মতো ব্যাট হাতে শেষদিকে কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন হৃদয়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। ৬০ বলে ৫৫ রান করে নাথান স্মিথের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়।
এর আগে রান তাড়ায় নেমে ভালো শুরু করেছিলেন সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। তবে জুটি বড় করতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে দলীয় ২১ রানে তানজিদ আউট হন, করেন ৬ বলে ২ রান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করেন সাইফ ও লিটন দাস। ২২.৩ ওভারে দলীয় ১১৪ রানে সাইফ আউট হন। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন। ১৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। লিটন দাস আউট হন ৩ চারে ৬৮ বলে ৪৬ রান করে। পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ মিলে যোগ করেন ৫২ রান। কিউইদের পক্ষে বল হাতে ব্লায়ার টিকনার ১০ ওভারে ৪০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। নাথান স্মিথ নেন দুই উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে হেনরি নিকোলস। মিডল অর্ডারে নেমে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। এছাড়া উইল ইয়াংয়ের ৩০ এবং নাথান স্মিথের ২১ রান কিউইদের দলীয় সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।
শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ২৭ রানে দুটি আর রিশাদ হোসেন ১০ ওভারে ৪৪ রানে শিকার করে দুটি। তবে নাহিদ রানা খরচ করেছেন সবচেয়ে বেশি রান। ১০ ওভারে ৬৫ রান নিয়ে নেন একটি উইকেট। আগামী ২০ এপ্রিল সিরিজের মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৪৭/৮
বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২১/১০
নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা হয়েছেন ফক্সক্রফট।
