অবশেষে বিশ্বকাপে খেলতে ইরান ফুটবল দলকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক ইরানের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাও আলাদা এক বিবৃতিতে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অবশ্য এখনও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এখনো থামেনি। তবে বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই খেলোয়াড়েরা ভিসা পাওয়ায় বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া নিয়ে শঙ্কা কেটে গেল।
আর এই সময়ে ইরানের ফুটবলারদের ভিসা পাওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ভিসাপ্রক্রিয়ার কাজটি চমৎকারভাবে সম্পন্ন করায় আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের পুরো টিমকে নিয়ে আমি গর্বিত।’
এ বিষয়ে ব্যারাক যোগ করেন, ‘খেলাধুলা সব সীমানা ছাড়িয়ে যায়। আমরা বিশ্বজুড়ে সব প্রতিযোগী ও সমর্থকদের স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছি।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইরান ফুটবল দলের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ‘ইরান দল যাতে এ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সন্ত্রাসী পাঠাতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর নজর রাখব।’
ইরান ফুটবল দল শনিবার তুরস্ক থেকে স্পেনের উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখান থেকে আগামীকাল রোববার তারা মেক্সিকোতে নিজেদের বেজক্যাম্পে পৌঁছাবে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের মূল বেজক্যাম্প মেক্সিকোতে হলেও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই তারা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার কারণেই তারা বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়।
১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘জি’ গ্রুপ থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। গ্রুপ পর্বেই লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা। ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।
