ইরাক বনাম নরওয়ে – অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের লড়াই বোস্টনে

ইরাক বনাম নরওয়ে - অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের লড়াই বোস্টনে

আই গ্রুপের এই ম্যাচে মুখোমুখি ইরাক ও নরওয়ে।

ইরাক বনাম নরওয়ে – অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের লড়াই বোস্টনে । ভোরের আলো ফোটার আগেই বোস্টনের মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াই। আই গ্রুপের এই ম্যাচে মুখোমুখি ইরাক ও নরওয়ে। গ্রুপের শীর্ষে ফ্রান্সকে ফেভারিট ধরা হলেও দ্বিতীয় স্থানের দৌড়ে এই দুই দলের লড়াইকে কার্যত অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে ইরাক। অন্যদিকে প্রায় তিন দশক পর বড় মঞ্চে ফিরে এসেছে নরওয়ে। দুই দলের জন্যই তাই এই ম্যাচ শুধু পয়েন্টের নয়, আত্ম প্রতিষ্ঠার লড়াইও।

নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেনের অধীনে বাছাইপর্বে ছিল একেবারে বিধ্বংসী দল। আট ম্যাচের সবকটিতে জয়, আর ৩৭ গোল করার পাশাপাশি মাত্র পাঁচ গোল হজম করে তারা এসেছে মূল পর্বে। আর্লিং হালান্ড ছিলেন সেই আক্রমণ ভাগের মূল অস্ত্র, যিনি একাই করেন ১৬ গোল। তার সঙ্গে মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা নরওয়ের আক্রমণকে করেছে আরও ভয়ংকর।

অন্যদিকে ইরাকের যাত্রাটা ছিল অনেক বেশি কঠিন ও অনিশ্চিত। কোচ পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত তারা প্লে অফ জিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার ক্ষমতা তাদেরও আছে।

অভিজ্ঞ জালাল ও আক্রমণভাগের দুই তারকা

ইরাকের নির্ভরতা থাকবে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জালাল হাসানকে ঘিরে, যিনি রক্ষণ ভাগকে নেতৃত্ব দেবেন। মাঝমাঠে আমির আল আম্মারি ও জিদান ইকবালের ওপর থাকবে খেলা গুছিয়ে আনার দায়িত্ব। আক্রমণে আইমেন হুসেইন ও আলী আল হামাদি থাকবেন গোলের প্রধান ভরসা, বিশেষ করে সেট পিসে ইরাক বেশ বিপজ্জনক।

নরওয়ের আক্রমণ ভাগে হালান্ডের সঙ্গে ওডেগার্ড, নুসা এবং সরলথ থাকায় তাদের গতি ও শক্তির সমন্বয় ইরাকের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। মাঝমাঠ থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে দ্রুত আক্রমণে যাওয়াই তাদের মূল পরিকল্পনা।

অতীত ইতিহাস ইরাকের জন্য সুখকর নয়, বিশ্বকাপে জয়হীন অভিজ্ঞতাই তাদের পেছনে তাড়া করছে। অন্যদিকে নরওয়ের আছে বড় দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের অভিজ্ঞতা। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি এখনও তাদের অনুপ্রেরণা।

সব মিলিয়ে কাগজে কলমে এগিয়ে নরওয়ে। তাদের ধারাবাহিক আক্রমণ এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইরাক অবশ্য সেট পিস এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ম্যাচে থাকার চেষ্টা করবে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিতে পারে।

Exit mobile version