বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হচ্ছে টরন্টো। গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে চমকে দিল আইভরিকোস্ট । জার্মানিকে স্তব্ধ করে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আইভরিকোস্ট। আফ্রিকান পরাশক্তিদের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন দলের অভিজ্ঞ তারকা ফ্রাঙ্ক কেসি।
মাঠের লড়াই ও কেসির ম্যাজিক
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে আইভরিকোস্ট। জার্মান ডিফেন্স লাইনের ভুলে বক্সের ভেতর একটি জটলার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে জার্মানির জাল কাঁপান আইভরিয়ান মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি। তার এই গোলেই গ্যালারিতে থাকা আইভরিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসায় দলটি।
হাভার্টজের গোল বাতিল ও জার্মানির হতাশা
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দ্রুতই আইভরিকোস্টের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলেন কাই হাভার্টজ। বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো জার্মান শিবির। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র কয়েক মুহূর্ত। রেফারি ভিএআর বা মাঠের সহকারী রেফারির সংকেতে জানান, গোলের ঠিক আগমুহূর্তে আইভরিয়ান ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদু ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। ফলে ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি, বড় বাঁচা বেঁচে যায় আইভরিকোস্ট।
রেকর্ড ভাঙার মিশন ও জার্মানির অতীত সমীকরণ
এই ম্যাচটি জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের একটি দীর্ঘ খরা কাটানোর বড় সুযোগ। ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে টানা দুটি ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিল হান্স ফ্লিকের শিষ্যরা। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে আজ জিততে পারলে একদিকে যেমন সেই দুই দশক পুরোনো খরা কাটবে, তেমনি নিশ্চিত হয়ে যাবে নকআউট পর্বের টিকিট।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর ২০১৮ ও ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। এবার নতুন রণকৌশল নিয়ে সেই ব্যর্থতা ঢাকতে মাঠে নেমেছে তারা।
আত্মবিশ্বাসী আইভরিকোস্ট
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ অবস্থানে আছে আইভরিকোস্ট। জার্মানির মতো পরাশক্তিকে প্রথমার্ধে আটকে রেখে সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেল আফ্রিকার দলটি।
১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া জার্মানি দ্বিতীয় অর্ধে গোল শোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি আইভরিকোস্ট তাদের লিড ধরে রেখে বড় অঘটনের জন্ম দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
