বাংলাদেশ-উইন্ডিজ ঢাকা টেস্ট
ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটার মুমিনুল হক তিনি মাঠ ছাড়ার পর কনকাশন সাবস্টিটিউট (আঘাতজনিত বদলি) হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন উইকেট রক্ষক ও ব্যাটার জাকের আলী অনিক। দিন শেষে বাংলাদেশ ৭৯ রান করেছে ৬ উইকেট হারিয়ে যার মধ্যে ৭ম উইকেট জুটিতে জাকের আলী ও নাইম হাসান করেছেন ২৬ রান। জাকের এবং নাইম হাসান উভয়েই ১৮ রানে অপরাজিত থাকলেও ৪র্থ দিনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

মুমিনুলের আঘাত: ৩য় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরপরই-উইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে-উইকেটের কাছাকাছি ফিল্ডিং করার সময় মুমিনুল এই চোট পান। ব্যাটার জশুয়া বিশপ মেহেদী হাসান মিরাজের অফস্পিন শক্ত হাতে ডিফেন্স করলে বল শর্ট-লেগে দাঁড়ানো মুমিনুলের বাঁ দিকে উড়ে যায়। মুমিনুল ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দী করলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি এবং হেলমেট পরা অবস্থাতেই মুখে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, মুমিনুল “মাথায় আঘাত পেয়েছেন। যেহেতু তাঁর মধ্যে কনকাশনের লক্ষণ দেখা গেছে, তাই ম্যাচের বাকি অংশের জন্য জাকের আলী অনিককে কনকাশন সাব হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ৩য় উইকেট হারানোর পর জাকের প্যাড পরে ব্যাটিংয়ের জন্য তৈরী ছিলেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসাইন শান্ত রোস্টন চেজের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়লে জাকেরকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের ইনিংসে সেটি ছিল ৩য় উইকেট। জাকের রানের খাতা খোলার পরপরই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চা-পানের বিরতি দেয়া হয়। শান্ত ২য় ইনিংসে মুমিনুলের নিয়মিত ব্যাটিং পজিশন ৩ নম্বরে নেমেছিলেন।
জাকের আলী ১৬ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা; জাকের শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০২৫ সালের জুনে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। জাকের আলী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উইন্ডিজ সফরে সাবিনা পার্কে ১ম ইনিংসে ১ রান করার পর ২য় ইনিংসে বাংলাদেশ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আর ২য় ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২৬৮ রান। সেই টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছিল ১০১ রানের ব্যবধানে ফলে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ড্র হয়েছিল ১-১ এ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩৪ রান তুলে চা-পানের বিরতিতে যায়, যেখানে লিড ছিল মাত্র ৬১ রানের ফলে জাকেরের সামনে তখন দায়িত্বপূর্ণ এক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল। সাবিনা পার্কে জাকের ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ৬ নম্বরে আজও নেমেছেন ৬ নম্বরে তবে এবার ঘরের মাঠে-জাকের যদি একটা ফিফটিও পেয়েছেন আর তাকে নাইম ও তাইজুল যদি সঙ্গ দিতে পারেন তাহলেও বাংলাদেশের লিডটা হয়তো ২০০ পেতে পারে। আর সেটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ উইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ি দিতে পারবেন আবার ভাল বোলিং করে জয় ও আসতে পারে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে জাকের নাইমের উপর।


