বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির বৈঠকে আজ আসছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গত মাসে নতুন দায়িত্ব পেয়েছিল।
এই কমিটির মূল দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করার কথা। আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। আজ (বুধবার) আবারও বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড সভাতে বসতে যাচ্ছেন তামিমরা।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দুইটায় শুরু হবে এই সভা। যেখানে নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে পারেন তারা। আজ থেকে কাউন্সিলর ফর্ম পাওয়া যাবে, যা চলবে ১০ তারিখ পর্যন্ত।
এছাড়া ২০২৫ সালের বিপিএলের ফিক্সিং ইস্যুতে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তামিমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাদের চতুর্থ বোর্ড সভা হলেও এবার আলোচ্যসূচিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচনের রূপরেখা।
এর আগে গত সোমবার ৪ মে বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির বৈঠকে বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় প্রথমেই চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্বে গঠিত অ্যাড-হক কমিটি গুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের মতে, আঞ্চলিক পর্যায়ে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নতুন কাঠামো গঠনের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথম ধাপে বোর্ড শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে, যেখানে বিসিবি সংবিধানের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের আহ্বান জানানো হবে। বোর্ড সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে একজন প্রতিনিধি এবং বিসিবির মনোনীত দুইজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বোর্ড আশা করছে, এই কমিশনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোকা-কোলা বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিসিবির অফিসিয়াল পানীয় ও পানীয় জলের অংশীদার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বোর্ডের আর্থিক শক্তি আরও বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিসিবির এই ধারাবাহিক উদ্যোগ দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলো বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















