জেনে নিন যেভাবে বেছে নেয়া হয় বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার পুরস্কার

বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার পুরস্কার

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল কিংবা ঘরোয়া লিগগুলোতে সাধারণত দেখা যায়, ম্যাচ শেষ হওয়ার অন্তিম মুহূর্তে ধারাভাষ্যকারেরা নিজেদের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় বা ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচন করেন। তবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ, ফিফা বিশ্বকাপে এই নিয়ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ধারাভাষ্যকার বা প্যানেল বিশেষজ্ঞদের হাতে সেরা খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার কোনো ক্ষমতা রাখা হয়নি। পুরো বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের ওপর। ভক্তদের সরাসরি ভোটেই নির্ধারিত হয় কার হাতে উঠবে কাঙ্ক্ষিত এই ট্রফি।

যেভাবে ভোট দেন সমর্থকেরা

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার পর প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। খেলা চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে ভোট দিতে পারেন। এই ভোটিং প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সমর্থকদের জন্য দুটি সহজ মাধ্যম রেখেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাটি। ফুটবলপ্রেমীরা চাইলে সরাসরি ‘ফিফা প্লে জোন’ (FIFA Play Zone) অ্যাপের মাধ্যমে অথবা ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের ভোট নথিভুক্ত করতে পারছেন।

সমর্থকদের হাতে এই ক্ষমতা দেওয়ার কারণে পুরস্কারটির ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন কেবল মাঠের কৌশলগত পারফরম্যান্সই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ফ্যানবেসও এই পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।

ম্যাচসেরা পুরস্কারের ইতিহাস

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করার এই প্রথা খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় প্রথম ম্যাচসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন সেনেগালের কিংবদন্তি ফুটবলার এল হাদজি দিউফ। ২০০২ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছিল সেনেগাল, আর সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন দিউফ।

রেকর্ডের চূড়ায় লিওনেল মেসি, পেছনে রোনালদো

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার অনন্য রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। চলতি আসরেও তার সেই চেনা ছন্দ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার খেলা প্রথম দুটি ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ঝুলিতে থাকা ১৩ টি ম্যাচসেরার ট্রফি দখলে নিয়ে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই তালিকায় মেসির ঠিক পরেই আছেন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে এর আগে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা সিআরসেভেন এখন পর্যন্ত ৭ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। মজার ব্যাপার হলো, রোনালদোর ক্যারিয়ারে পর্তুগাল দল মাত্র দুবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পেরেছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে বিশ্বকাপের মঞ্চে ৭ বার সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত এই নিয়ম তাই প্রতি বিশ্বকাপেই জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন আলোচনা আর রোমাঞ্চের।

Exit mobile version