নতুন ঠিকানা ‘‘নু স্টেডিয়াম’’ যেন ক্রমেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে লিওনেল মেসি ও তার দল ইন্টার মায়ামি’র জন্য। এই ভেন্যুতে চতুর্থ ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পেল না দলটি। অথচ অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ৩-০ তে এগিয়ে গিয়েও হারতে হলো ৪-৩ গোলে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো খরা কাটবে। বিশেষ করে মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্স ইন্টার মায়ামিকে বড় জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলো।
একটি চমৎকার গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট। নিজের নতুন স্টেডিয়ামে তিন হারের পর চতুর্থ ম্যাচে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায় ম্যাচের শেষভাগে।
মেসি শুধু নিজে গোলই করেননি, দলের বাকি দুই গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ফলে ম্যাচটি তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে স্মরণীয় হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু ফলাফল সব আনন্দ ম্লান করে দেয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ অরল্যান্ডো সিটি মেজর লিগ সকার অর্থাৎ এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১৫ দলের মধ্যে ১৪তম স্থানে ছিল। ফলে এই হার মায়ামি বিশেষ করে মেসির জন্য আরও বেশি হতাশাজনক হয়ে দাঁড়ায়। মায়ামির দুর্বল রক্ষণভাগ এবং নিজেদের মাঠে অদ্ভুত ব্যর্থতা আবারও সামনে চলে আসে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল স্বাগতিকদের। বলের দখলেও তারা এগিয়ে ছিলো। ৬৪ শতাংশ পজেশন ছিলো তাদের দখলে। মোট ২৬টি শট নিয়ে তার মধ্যে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় মেসি-সুয়ারেজরা। অন্যদিকে অরল্যান্ডো ১৩টি শটের মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে রাখে। শেষ পর্যন্ত এই কার্যকারিতাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
মায়ামির টানা তিন গোল
মায়ামির নু’ স্টেডিয়ামে খেলার চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় মেসিরা। তেলাস্কো সেগোভিয়ার ক্রসে ইয়ান ফ্রে হেড করে গোল করেন। এরপর ২৫ মিনিটে মেসির দারুণ পাস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন সেগোভিয়া। মাত্র আট মিনিট পর নিজেই গোল করেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মায়ামির হাতে ছিল এবং আরও গোল করার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই খেলার মোড় ঘুরতে শুরু করে।
অরল্যান্ডোর পাল্টা আঘাত
৩৯ মিনিটে মার্টিন ওজেদা অরল্যান্ডোর হয়ে প্রথম গোলটি শোধ করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তিনি আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৬৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের পর ৭৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসির স্বদেশী মার্টিন ওজেদা।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে টাইরিস স্পাইসার চূড়ান্ত আঘাত হানেন। তার গোলেই নিশ্চিত হয় অরল্যান্ডোর অবিশ্বাস্য জয়। বিপরীতে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইন্টার মায়ামিকে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















