৫ উইকেট নিয়ে যা বললেন নাহিদ রানা। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ের সামনে আবারও অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটিং লাইনআপ। আগের ম্যাচে ৬৫ রান দিয়ে খরুচে পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন এই পেসার। ৫ উইকেট শিকার করে তিনি বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন। গতকাল সোমবার মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয়ের পর ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নাহিদ বলেন, প্রতিটি দিন বা ম্যাচই একজন খেলোয়াড়ের জন্য ভালো নাও যেতে পারে। আগের ম্যাচে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী এক্সিকিউট করতে পারেননি, তবে এই ম্যাচে সেটাই ভালোভাবে করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
নিজের ফিটনেস ও ধারাবাহিক গতি ধরে রাখার বিষয়ে নাহিদ বলেন, আল্লাহর রহমত ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তিনি দীর্ঘ স্পেলেও একই গতিতে বোলিং করতে সক্ষম হচ্ছেন। নিয়মিত জিম, রানিং এবং ট্রেনিং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করেই তিনি নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেন বলে জানান এই তরুণ পেসার।
ম্যাচে পাঁচ উইকেটের মধ্যে তিনটি উইকেটই এসেছে ইনিংসের প্রথম বলেই আঘাত হেনে, যা ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলে। এই বিষয়ে নাহিদের ভাষ্য, তিনি সবসময় চেষ্টা করেন দলের জন্য ইমপ্যাক্টফুল পারফরম্যান্স দিতে, এমনকি একটি ওভার দিয়েও যদি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায় তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।
আগের ম্যাচ ও বর্তমান ম্যাচের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, উইকেট একই ছিল, তবে মূল পার্থক্য ছিল এক্সিকিউশনে। এবার তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পেরেছেন, তাই ফলও এসেছে ভালো। বাংলাদেশের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর ইনজুরি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি গুরুতর কিছু নয়, ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
নাহিদ আরও বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে নেওয়া পাঁচ উইকেট বা এই ম্যাচের পারফরম্যান্স—সবই তার কাছে সমান স্পেশাল। কারণ তার মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের জয়ে অবদান রাখা। তিনি বিশ্বাস করেন, উইকেট নেওয়া এবং রান আটকানো—দুইটিই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং করাই মূল লক্ষ্য।
পেসারদের ইনজুরি ঝুঁকি ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার মতে, বিসিবির ফিজিও ও ট্রেনাররা খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সিরিজ অনুযায়ী ম্যাচ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। মাঠে সতীর্থ পেসারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিকল্পনা নিয়েও নাহিদ বলেন, একজন ভালো বল করলে অন্যরা সেটি থেকে তথ্য নেয় এবং একই জায়গায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। ইয়র্কার স্কিল উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, অভিজ্ঞ কোচ ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে তিনি নিজের স্কিল আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব স্কিল আরও পরিপূর্ণভাবে রপ্ত করতে পারবেন বলে আশা তার। সব মিলিয়ে নাহিদ রানার এই দুর্দান্ত পাঁচ উইকেটের স্পেল এবং তানজিদ-শান্তর ফিফটিতে ভর করে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















