নাহিদ রানার মতো গতিময় পেসারের অভাব অনুভব করবে বাংলাদেশ। তবে এই তরুণ পেসারকে ছাড়াও দলের জয়ের সামর্থ্য রয়েছে বলে মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে নাহিদকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তাঁর খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে দলের অন্য বোলারদের ওপর আস্থা রাখছেন সিমন্স।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন নাহিদ। তাঁর গতি, বাউন্স ও আগ্রাসী বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। দেশের মাটির পাশাপাশি বিদেশের কন্ডিশনেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই পেসার। কিন্তু চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
নাহিদের অনুপস্থিতি যে দলের জন্য বড় ক্ষতি, তা স্বীকার করেছেন সিমন্স। তবে একজন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স থেমে থাকবে না বলেই বিশ্বাস তাঁর।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন,
নাহিদের মতো প্রতিভাবান বোলারকে তো মিস করতেই হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় আমরা তাকে ছাড়াই জিতেছি। তাকে ছাড়াও ভালো খেলেছি। আমরা তাকে মিস করব, কিন্তু কেউ না কেউ তাঁর দায়িত্ব পালন করবে। হয়তো নাহিদের মতো এত দ্রুত বল করতে পারবে না, তবে নিজের কাজটা করতে পারবে।
নাহিদের মতো গতির বোলার সহজে পাওয়া যায় না। তাঁর বোলিংয়ের বিশেষত্বই হলো বাড়তি গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখা। ফলে এই পেসারের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সিমন্সের আশা, দলের অন্য বোলাররা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন।
চোটের কারণে নাহিদের মাঠে ফেরার সময় নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চোটের প্রকৃত অবস্থা জানতে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁর ল্যাব্রাম টিয়ার ধরা পড়ে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলছে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর থেকে আবার বোলিং শুরু করার কথা নাহিদের। তবে বোলিং শুরু করলেই যে তিনি ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময়।
চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে নাহিদ
এর আগেও চোটের কারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে খেলতে পারেননি নাহিদ। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইনে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলা হয়নি তাঁর। পুনর্বাসনের সময় নতুন করে সমস্যায় পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেও ছিটকে যান তিনি।
পরে পিঠ ও পেলভিতে অস্বস্তি এবং দুর্বলতা দেখা দিলে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম টেস্টে নাহিদকে পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনাও নির্ভর করছে সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর। টেস্ট সিরিজে ফিরতে না পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাহিদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সে খেলতে পারবে কি না, জানি না। আমরা তাকে নিয়ে কাজ করছি, যত দ্রুত সম্ভব তাকে প্রস্তুত করে তোলার চেষ্টা করছি।
নাহিদের সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও আপাতত তাঁর বিকল্পদের নিয়েই পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বোলাররা নিজেদের সামর্থ্য কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




