নাটকের অপেক্ষায় সিলেট টেস্টের শেষ দিন। সোমবার টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তুলেছে। ফলে জিততে শেষ দিনে বাংলাশের চাই আর তিন উইকেট। পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান।
সিলেটে এদিন নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। চমৎকার ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আব্দুল্লাহ ফাজাল। অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব্যাট পেতে দিয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। ফলে স্কয়ার লেগে দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ভাঙে ৬২ বল স্থায়ী ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। ২৮ বলে ৬ রান করেন ফাজাল। ১১ ওভারে পাকিস্তানের রান ১ উইকেটে ২৭। ক্রিজে আজান আওয়াইজের সঙ্গী শান মাসুদ। শুরুতেই নতুন জীবন পান মাসুদ। নাহিদ রানার প্রথম চার বলে দুটি চার মারেন শান মাসুদ। পরের বলেই ফিরে যেতে পারতেন তিনি। একটুর জন্য বেঁচে যান। স্লিপের সামনের দিকে ঝাঁপ দিয়ে একটুর জন্য বলের নাগাল পাননি তানজিদ হাসান।
পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে আক্রমণে এনেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিজের প্রথম ওভার মেডেন নিয়েছেন মিরাজ। নাহিদ রানার মতো নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজও। প্রথম সেশনে দুই ওপেনারের উইকেট হারাল পাকিস্তান।
অফ স্পিনারের বল পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন আজান আওয়াইজ। স্পিন করে ভেতরে ঢুকে যাওয়া বল ব্যাটে খেলতে পারেননি তিনি। পায়ে লাগলে জোরাল আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। শান মাসুদের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন আজান। হিটিং ছিল আম্পায়ার্স কল, তাই টিকে যায় রিভিউ। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেওয়ায় ফিরে যান আজান। ভাঙে ৩৪ বল স্থায়ী ১৪ রানের জুটি।
৪৯ বলে দুই চারে ২১ রান করেন আজান। ১৬ ওভারে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৪১। এরপর দারুণ ব্যাটিংয়ে মাসুদ-বাবরের জুটিতে পঞ্চাশ তুলে নেয় পাকিস্তান।
লাঞ্চের আগেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। বিরতির পর তাইজুলের প্রথম বলেই ছক্কায় ওড়ান বাবর আজম। ঐ ওভার থেকে আসে নয় রান। প্রবল চাপে থাকা শান মাসুদ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পেলেন পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৮২ বলে। শেষ পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের সফলতম বোলারের হাত ধরেই এলো সাফল্য।
তাইজুলের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি বাবর। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের দিকে যাননি উইকেটরক্ষক ডানা মেলে যেন উড়তে শুরু করেন তিনি। তাইজুলের আঘাতে ভাঙে ১১৫ বলে ৯২ রানের জুটি। ৫২ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে ৪৭ রান করেন বাবর।
৩৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ৩ উইকেটে ১৩৩। পরে সাউদ শাকিলকে দ্রুত ফেরান নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে লাইনে যেতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। ভাঙে ৫২ বলে ২১ রানের জুটি। ২১ বলে ৬ রান করেন শাকিল।
এরপর তাইজুলের বলে সালমান আলি আগাকে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান জয়। মাসুদের ব্যাট ছুঁয়ে বল আসতেই মুঠোয় পুরে ফেললেন তিনি। হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিলেন দৌড়। ক্রিজে তখন বিস্ময়ে হতবাক পাকিস্তান অধিনায়ক। ভাবতেই পারেননি এই ক্যাচ ধরে ফেলতে পারেন কেউ। ১১৬ বলে আট চারে ৭১ রান করেন মাসুদ। ৪৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ১৬২।
দলের বিপদে ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। অবশেষে দ্বিতীয় নতুন বলে সাফল্য মেলে। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে সালমান আলি আগাকে বোল্ড করে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ভাঙে ২২৪ বল ১৩৪ রানের জুটি।
১০২ বলে এক ছক্কা ও ছয় চারে ৭১ রান করে বিদায় নেন সালমান। ৮২ ওভারে পাকিস্তানের রান ৬ উইকেটে ২৯৬। ক্রিজে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গী হাসান আলি। শেষ বিকেলে চমৎকার ডেলিভারিতে হাসান আলির উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি এই স্পিনার। শূণ্য রানে বিদায় নেন হাসান। তবে দারুণ ব্যাটিংয়ে রিজওয়ান ৭৫ ও সাজিদ খান ৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
তাইজুল ১১৩ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। এছাড়া নাহিদ দুটি ও মিরাজ নেন একটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ২৭৮/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ২৩২/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ৩৯০/১০
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস চতুর্থ দিন শেষে ৩১৬/৭
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















