যুক্তরাজ্যজুড়ে এক ঐতিহাসিক ক্রীড়া উদ্যোগে একদিনেই লাখো শিশু ক্রিকেটে অংশ নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আসন্ন আইসিসি ওমেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ কে সামনে রেখে আয়োজিত “স্কুলস ক্রিকেট ডে” উপলক্ষে দেশটির ১,৩৫০টিরও বেশি স্কুলের প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার শিশু ব্যাট-বল হাতে তুলে নেয়। যা যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় ক্রিকেট অংশগ্রহণের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই আয়োজনটি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক ৫০ দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১২ জুন এজবাস্টনে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে পর্দা উঠতে যাচ্ছে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুলের মাঠ, খেলার জায়গা ও খোলা প্রাঙ্গনে শিশুদের অংশগ্রহণে ক্রিকেট উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। নতুন খেলোয়াড়দের জন্য এটি ছিল প্রথমবারের মতো ক্রিকেট শেখার সুযোগ। আবার অনেকেই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেয় ।
লন্ডনের রেইনস পার্ক স্পোর্টস গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বিশেষ ক্রিকেট উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ইংল্যান্ড নারী দলের অধিনায়ক হিদার ক্লেয়ার নাইট। হিদার প্রায় ২০০ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেন এবং ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ জাগাতে উৎসাহ দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইংল্যান্ড মেন্স দলের সাবেক ক্রিকেটার মাইক আথারটন। নারী ক্রিকেটার এবনি রেইনফোর্ড-ব্রেন্ট। উপস্থাপক হান্না উইলকস।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার অ্যালেক্স হার্টলি, লিদিয়া গ্রিনওয়ে, এবং অস্ট্রেলিয়ার জেস জোনাসেন। তারা তরুণীদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দেখিয়ে দেন যে ক্রিকেট সবার জন্য উন্মুক্ত একটি খেলা।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের প্রসার ঘটাতে চায়। তাদের লক্ষ্য, চলতি বছরে অন্তত ৫ লাখ নারী ও মেয়েকে ক্রিকেটে সম্পৃক্ত করা। তিনশত নারীকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনা। “ইয়াং ক্রিকেট কালেকটিভ” কর্মসূচির মাধ্যমে পাচশত “চ্যাম্পিয়ন অব চেঞ্জ” তৈরি করা।
খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার
এই আয়োজনের অংশ হিসেবে ইউনিসেফ (UNICEF) এর “Rights in Play” কর্মসূচির গেমগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেদার নাইট বলেন,
ক্রিকেট তার জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এবং এমন আয়োজন থেকেই ভবিষ্যৎ তারকারা তৈরি হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন,
আসন্ন বিশ্বকাপ আরও বেশি ছেলে-মেয়েকে ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট করবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন,
এবারের আসরে দলসংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ করা হয়েছে, যা নারী ক্রিকেটের বৈশ্বিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, স্কুলস ক্রিকেট ডে শুধু একটি দিনের আয়োজন নয় বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্রিকেটে সম্পৃক্ত করার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। যার মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেটের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
