অবসরের আগে যে ইচ্ছা নেইমারের । চোটের সাথে লড়াই করে সময়টা ভালো যাচ্ছে না নেইমারের। তাই অবসর সময় জানিয়ে দিলেন তিনি। অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র।
কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বারবার চোটের ধাক্কা তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বয়সটা ৩৪ হলেও, দীর্ঘ মেয়াদী ভাবনার অংশ হিসেবে ফুটবল থেকে বিদায়ের দিনক্ষণ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে নেইমারকে। তবে তার আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর।
গত বছরের শুরুতে সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল ছেড়ে শৈশবের ঠিকানা সান্তোসে যোগ দেন নেইমার। সেখানেও চোট তার পিছু ছাড়েনি নেইমারকে। কিছুদিন আগে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন।
সান্তোসে থাকবেন কি না সেই দোলাচলের মাঝেই ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত চুক্তি সেরেছেন নেইমার। মূলত বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আশায় দ্রুততম সময়ের ভেতর চোট কাটিয়ে ওঠার তাড়না ছিল তার। নেইমার সম্প্রতি কথা বলেছেন নিজের অবসর পরিকল্পনা নিয়ে।
হৃদয় কোনদিকে সাড়া দেয়
ব্রাজিলিয়ান চ্যানেল ‘কেজ’কে দেওয়া মন্তব্যে নিজের অবসর নিয়ে নেইমার জানিয়েছেন, ‘আমি জানি না এই সময়ের পর কী ঘটবে, পরবর্তী বছর সম্পর্কেও ধারণা নেই। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাই। আমি এখন বছর ধরে ধরে চিন্তা করছি। হৃদয় কী সিদ্ধান্ত নেয় আমরা দেখব। এটি (অবসরের সিদ্ধান্ত) নির্ভর করছে বছরের শেষ নাগাদ হৃদয় কোনদিকে সাড়া দেয় তার ওপর।
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ছাড়ার আগে বিশ্বকাপ সহ চলতি বছরের পুরোটা জুড়ে নিজের শতভাগ নিবেদন দেওয়ার আশা নেইমারের। এক্ষেত্রে অবশ্য চোটমুক্ত থাকতে হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতাকে। এ বিষয়ে নেইমার বলছেন, ‘এই বছরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেবল সান্তোসের জন্যই নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও। যেহেতু বছরটি বিশ্বকাপের এবং আমার জন্যও। আমি এই বছরের শতভাগ সময় খেলতে চাই।
গত ডিসেম্বরে হাঁটুর সার্জারি করিয়েছেন নেইমার, এরপর গত সপ্তাহে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সান্তোসের জার্সিতে। যেখানে ৬-০ ব্যবধানে বড় জয় পায় সেলেসাও ক্লাবটি। ওই জয়ে নেইমারের দল পোলিস্তা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই তারকা ব্রাজিলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২৮টি ম্যাচ খেলে ৭৯ গোল করেছেন। কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ।
