বিশ্বমঞ্চে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ঐতিহাসিক এক জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল মিশর। লিভারপুল মহাতারকা মোহাম্মদ সালাহর জাদুকরী অ্যাসিস্ট এবং ইমাম আশুরের চমৎকার গোলে লিডও নিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের সহায় হননি। দ্বিতীয়ার্ধের এক দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলের খেসারত দিয়ে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘দ্য ফারাওস’ খ্যাত মিশরকে। ফলে দুই দলেরই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো ১ পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিয়াটল স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় মিশর। কোচ হোসাম হাসান এদিন ওমর মারমুশকে স্ট্রাইকার পজিশনে রেখে তাঁর ঠিক পেছনে ‘নম্বর টেন’ বা প্লে-মেকারের ভূমিকায় খেলান অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে।
প্রথমার্ধে আশুরের জাদুকরী গোল ও মিশরের দাপট
ম্যাচের শুরুর দিকে বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইনা দূরপাল্লার শটে ভয় ধরানোর চেষ্টা করলেও, কাজের কাজটি করে দেখায় মিশরই। ম্যাচের ২০তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই আক্রমণ তৈরি করেন সালাহ। তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের এক বুলেট গতির জোরালো শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপিয়ে দেন ইমাম আশুর। বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কিছুই করার ছিল না। ২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটিই আশুরের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
১-০ তে এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে মোস্তাফা জিকো এবং ওমর মারমুশ ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেলেও কোর্তোয়ার অসাধারণ দক্ষতায় বেলজিয়াম সে যাত্রা বেঁচে যায়। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড ও চার্লস ডি কেটেলারের কিছু ব্যর্থ প্রচেষ্টার কারণে প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তা ও ইব্রাহিম-হানির সেই দুর্ভাগ্যজনক ভুল
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে ডি ব্রুইনার একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে এলে ভাগ্য সহায় হয় মিশরের। এর ঠিক দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সবচেয়ে বড় সুযোগটি হাতছাড়া করে মিশর। সালাহর নিচু হেড কোর্তোয়া ফিরিয়ে দেওয়ার পর, ফিরতি বলে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও ইমাম আশুর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।
টার্নিং পয়েন্ট (৬৬ মিনিট): ম্যাচের বয়স যখন ৬৬ মিনিট, তখন ডান প্রান্ত থেকে টমাস মুনিয়েরের একটি বিপজ্জনক ক্রস ধেয়ে আসছিল বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর দিকে। সেই আক্রমণ নস্যাৎ করতে গিয়ে মিশরের ইয়াসের ইব্রাহিমের পায়ে লেগে বলটি সতীর্থ মোহাম্মদ হানির গায়ে লেগে সোজা নিজেদের জালে জড়িয়ে যায়। এই দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস লড়াই
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। রক্ষণভাগ জমাট করতে মিশরীয় কোচ সালাহ ও আশুরকে তুলে নিলেও ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট বেলজিয়ামের আক্রমণের ঝড় সামলাতে হয়েছে মিশরের ডিফেন্ডারদের। ৭৮ মিনিটে রোমেলু লুকাকুর একটি জোরালো শট ব্লক করেন মিশরের ডিফেন্ডাররা এবং ৮৩ মিনিটে টিলেমানসের ক্রস থেকে ব্র্যান্ডন মেশেলের দুর্দান্ত হেড রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে লুকাকু হেড দিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে জিজোকে ঘিরে মিশরের পেনাল্টির আবেদন উঠলেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর রেফারি তা নাকচ করে দেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ে শেষ হয় ‘জি’ গ্রুপের এই মহারণ।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















