ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের হাজারতম ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শনিবার রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে। ৪৪.১ ওভারে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার করা ২০০ রানের জবাবে পাকিস্তান ৪২.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়।
প্রথম পাকিস্তানী
পাকিস্তানের এ জয়ের নায়ক ছিলেন স্পিনার আরাফাত মিনহাস। ২১ বছর বয়সী বাম হাতি এ স্পিনারের এটা ছিল আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচ। অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন তিনি, নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ১০ ওভারে ৩২ রানের বিনিময়ে এই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর মাঝ দিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন মিনহাস। প্রথম পাকিস্তানী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন এই স্পিনার।
পাকিস্তানের হয়ে এর আগে ওয়ানডেতে কেউ পাঁচ উইকেট নিতে পারেনি। এর আগে অভিষেকে পাকিস্তানীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল জাকির খান, আব্দুল কাদির, আবরার আহমদ, সরফরায় নাওয়াজ ও সুফয়ান মোকিমের। তারা প্রত্যেক অভিষেক ওয়ানডেতে চার উইকেট করে শিকার করেছিলেন।
আলো ছড়িয়েছেন গাজী ঘোরি
মিনহাসের পাশাপাশি ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন গাজী ঘোরি। এই তরুণ ব্যাট হাতে দূর্দান্ত অবদান রেখেছেন। উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটার এই তরুণ ইনিংসের সেরা ব্যাটার হতে পারেননি, তবে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। ১২৭ রানের জুটি তাদের। নাথান ইলিসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৬৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছেন। ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ছিলেন বাবর আজ। ৬৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
শুরু থেকেই অস্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া
টস হারের পর ব্যাট হাতে নেমে কখনো স্বস্তিতে ছিল না অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম ওভারে আবরার আহমেদ এসেই ওভারের শেষ বলে উইকেট নেন। তার সঙ্গী হিসেবে বল হাতে তুলে নেন আরাফাত মিনহাস। শুরুটা তার ভালো ছিল না। প্রথম তিন ওভার কোনো উইকেট পাননি। চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাত। পরের ওভারে আরও একটা উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরেন। সেই চাপ থেকে সফরকারীরা আর বের হতে পারেনি। একের পর এক উইকেট নিয়ে রেকর্ডের পাতায় স্থান করে নেন। সেই সঙ্গে ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের হাজারতম ম্যাচে জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মিনহাসের এই ধাক্কা সামলাতে না পেরে মাত্র ২০০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
শেষ দিকে এসে মাত্র ১৯ রানের মধ্যে পাকিস্তান বাবর আজম (৬৯), গাজী ঘোরি (৬৫) ও সালমান আগা (৬) উইকেট হারালেও পাকিস্তানের জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি।
