উয়েফা নেশনস লিগে জয়ের মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। লিসবনের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। পর্তুগালের জয়ের একমাত্র গোলটি করেছেন জোয়াও ফেলিক্স। তবে দলের জয়ের রাতটিও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য হয়ে থাকল হতাশার। একের পর এক সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পাননি পর্তুগাল অধিনায়ক।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো এদিন জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪তম ম্যাচ খেলতে নামেন। বিশ্বকাপে হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পরও আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর রাতটা মোটেও স্বস্তির ছিল না। মোট সাতটি শট নিয়েছেন রোনালদো, যার পাঁচটিই ছিল লক্ষ্যের বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর একটি গোলও বাতিল হয়েছে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে।
রোনালদোর হতাশার বিপরীতে ম্যাচের ২২ মিনিটেই পর্তুগালকে এগিয়ে দেন জোয়াও ফেলিক্স। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া শট ওয়েলসের ডিফেন্ডার বেন ডেভিসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডের কিছুই করার ছিল না। গোলটি ছিল ওয়েলসের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, তবে পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যান পর্তুগালের প্রাপ্য জয়কেই তুলে ধরে। তারা ম্যাচে ২২টি শট নিয়েছে, বিপরীতে ওয়েলসের শট ছিল মাত্র পাঁচটি।
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই পর্তুগালকে এগিয়ে রাখছিল তাদের শক্তিশালী দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পর্তুগাল সপ্তম, ওয়েলস ৩৮তম। তার ওপর ওয়েলসের দলে চোট ও বিভিন্ন কারণে অনুপস্থিত ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়। হ্যারি উইলসন ও জো রডন ছিলেন না। গোলরক্ষক কার্ল ডারলোর অনুপস্থিতিতে ড্যানি ওয়ার্ড মৌসুমে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো মাঠে নামেন।

পর্তুগালের হয়ে এটি ছিল কোচ জর্জ জেসুসেরও বিশেষ ম্যাচ। ৭২ বছর বয়সে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি পর্তুগালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়ান। অন্যদিকে রোনালদোর জন্য মাঠটি ছিল আরও আবেগের। জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামেই স্পোর্টিং সিপির হয়ে তাঁর পেশাদার ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
প্রথমার্ধে ফেলিক্সের গোলের পরও রোনালদো বারবার চেষ্টা করেছেন। কখনো কঠিন কোণ থেকে শট নিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছেন, কখনো বল নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভুল করে সুযোগ নষ্ট করেছেন। একবার ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর অগোছালো শট সহজেই ধরে ফেলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ওয়ার্ড। হতাশায় তখন বাতাসে লাথি মারতে দেখা যায় পর্তুগাল অধিনায়ককে।
বিরতির পরও রোনালদোর গোলের অপেক্ষা চলতে থাকে। রুবেন নেভেস চার গজ দূর থেকে তাঁর সামনে বল বাড়িয়ে দিলে মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো জাতীয় দলের ১৪৭তম গোলের দেখা পেতে যাচ্ছেন রোনালদো। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বলটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি। গ্যালারির দর্শকরাও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কীভাবে এমন সুযোগ হাতছাড়া হলো।
এর কিছুক্ষণ পর আরও একবার গোল করেছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে ৫৯ মিনিটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের চিরচেনা ‘সিউউউ’ উদযাপনের দিকে ছুটেছিলেন তিনি। কিন্তু উৎসব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত ৬৭ মিনিটে তুলে নেন কোচ। গোল না পেলেও ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।শেষ দিকে ওয়েলস সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। ব্রেনান জনসন ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে গোলের খুব কাছ থেকে শট নিলে বল গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন লুইস কোমাস। কিন্তু রুবেন দিয়াস অসাধারণ ক্লিয়ারেন্স করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন।
শেষ পর্যন্ত ফেলিক্সের একমাত্র গোলই হয়ে থাকে ম্যাচের পার্থক্য। ১-০ গোলের জয় দিয়ে নেশনস লিগের নতুন অভিযান শুরু করল পর্তুগাল।


