অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলাররা পাচ্ছেন ২৫ লাখ টাকা!

ফিফার অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা দেশে ফিরে পাচ্ছেন ২৫ লাখ টাকার আর্থিক প্রণোদনা। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্তরে রানার্সআপ হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ফুটবলারদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ফিফার আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবে অংশ নিয়ে দেশে ফেরা দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাফুফে ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর্থিক পুরস্কার।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ মূল শিরোপার লড়াইয়ে না থাকলেও পঞ্চম স্তরের (ই) ফাইনালে জায়গা করে নেয়। সেখানে সেন্ট্রাল আফ্রিকার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পুরো আসরে ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম।

তবে ফলাফলের চেয়েও তরুণদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

পুরস্কারের ঘোষণা মন্ত্রণালয় ও বাফুফের

দেশে ফেরার পর ফুটবলারদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যকে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দিয়েছেন। এর আগে ফাইনালে সেন্ট্রাল আফ্রিকার কাছে হারের পর দলটির জন্য ১০ লাখ টাকা বোনাস দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ খেলোয়াড়দের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে এসেছে।

গোলরক্ষক শ্রীনাথের পারফরম্যান্সে নজর

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের দলগত অবস্থান খুব বেশি উঁচুতে না হলেও কয়েকজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে গোলরক্ষক শ্রীনাথ হালদারের নৈপুণ্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

দুটি ম্যাচে টাইব্রেকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিদেশি ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে বলে জানা গেছে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত খেলার সুযোগের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় একটা সময় হারিয়ে যান। এবারের দলের ফুটবলারদের ক্ষেত্রে যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

আমিনুল হকের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান কিংবা ফলাফলই শেষ কথা নয়। তরুণদের মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন ধারাবাহিক অনুশীলন ও পরিকল্পিত পরিচর্যা।

তিনি জানান, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে মন্ত্রণালয়। তাদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হবে।

তৃণমূল থেকেই ফুটবলার তৈরির পরিকল্পনা বাফুফের

অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের বিস্তার ঘটানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অংশগ্রহণ তারই একটি ফল।

তিনি বলেন, দেশজুড়ে প্রায় এক বছর ধরে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই দলই ফিফার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে।

তাবিথ আউয়াল আরও জানান, শুধু একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াই বাফুফের লক্ষ্য নয়। খেলোয়াড়দের উন্নতির ধারা ধরে রাখতে নিয়মিত অনুশীলন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।

তরুণদের ফুটবল ক্যারিয়ার গঠনে সরকারের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রতিভাগুলোকে ধরে রাখা এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করা।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles