আধিপত্য দেখিয়েও জয় পেল না পর্তুগাল

আধিপত্য দেখিয়েও জয় পেল না পর্তুগাল

আধিপত্য দেখিয়েও জয় পেল না পর্তুগাল

পর্তুগাল ১-১ কঙ্গো ডিআর

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জমজমাট লড়াইয়ে পর্তুগাল ও কঙ্গো ডিআরের ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। পুরো ম্যাচে পর্তুগাল বল দখল ও পাসিংয়ে স্পষ্ট আধিপত্য দেখালেও শেষ পর্যন্ত সেই নিয়ন্ত্রণকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি। অন্যদিকে কঙ্গো ডিআর কম পজেশন নিয়েও ম্যাচে নিজেদের লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, পর্তুগালের বল দখল ছিল ৬০ শতাংশ। কঙ্গো ডিআরের পজেশন ছিল ৩২ শতাংশ, আর ৮ শতাংশ সময় বল ছিল ইন-কনটেস্ট অবস্থায়। সংখ্যা দেখে মনে হতে পারে ম্যাচ পুরোপুরি পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু মাঠের গল্প এতটা সরল ছিল না। কঙ্গো ডিআর রক্ষণে সংগঠিত ছিল এবং সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে।

পাসিংয়ের জায়গায় পর্তুগাল ছিল অনেক এগিয়ে। তারা ৭২৮টি পাস সম্পন্ন করেছে, যেখানে কঙ্গো ডিআরের সফল পাস ছিল ২০৪টি। এই ব্যবধান প্রমাণ করে পর্তুগাল ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। তবে ফুটবলে শুধু পাসের সংখ্যা নয়, গোলের সামনে কার্যকারিতাই শেষ কথা। সেই জায়গায় পর্তুগাল যথেষ্ট ধারালো হতে পারেনি।

আক্রমণের পরিসংখ্যানে কঙ্গো ডিআর বরং ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। পর্তুগাল গোলের উদ্দেশ্যে ৭টি শট নিলেও কঙ্গো ডিআর নিয়েছে ৮টি শট। অন টার্গেট শটেও কঙ্গো ডিআর এগিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে। অর্থাৎ, কম সময় বল পায়ে রেখেও তারা পর্তুগালের গোলপোস্টে বেশি সরাসরি চাপ তৈরি করতে পেরেছে।

৫-৪ ব্যবধানে

কর্নারের দিক থেকে পর্তুগাল এগিয়ে ছিল ৫-৪ ব্যবধানে। অফসাইডে পর্তুগালের সংখ্যা ছিল ৩, কঙ্গো ডিআরের ২। এতে বোঝা যায়, পর্তুগাল বারবার কঙ্গোর ডিফেন্স লাইনের পেছনে জায়গা খোঁজার চেষ্টা করেছে। তবে কঙ্গো ডিআরের রক্ষণভাগ বেশ সতর্ক ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লাইন ধরে রাখতে পেরেছে।

ডিসিপ্লিনের দিক থেকে পর্তুগালের জন্য ম্যাচটি কিছুটা অস্বস্তির ছিল। তাদের তিনজন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেছেন। কঙ্গো ডিআরের হলুদ কার্ড ছিল একটি। কোনো দলই লাল কার্ড দেখেনি, তবে ম্যাচের তীব্রতা পুরো সময়ই টের পাওয়া গেছে।

বল পুনরুদ্ধারের সময়েও পর্তুগাল এগিয়ে ছিল। তারা গড়ে ১৪ সেকেন্ডে বল ফিরে পেয়েছে। কঙ্গো ডিআরের ক্ষেত্রে সেই সময় ছিল ২৩ সেকেন্ড। এই তথ্য পর্তুগালের প্রেসিং ও দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা তুলে ধরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাপ গোলের ব্যবধানে বদলায়নি।

সব মিলিয়ে, ১-১ স্কোরলাইন ম্যাচের চরিত্রের সঙ্গে বেশ মানানসই। পর্তুগাল খেলায় আধিপত্য করেছে, কিন্তু কঙ্গো ডিআর দেখিয়েছে তারা সহজে হার মানার দল নয়। বড় দলের বিপক্ষে এমন ফল কঙ্গো ডিআরের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। আর পর্তুগালের জন্য এটি হবে সতর্কবার্তা, শুধু বল দখল নয়, সুযোগ কাজে লাগানোই বড় ম্যাচে পার্থক্য তৈরি করে।

Exit mobile version