চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। প্রথম লেগে ২-০ তে পিছিয়ে থাকা অলরেডরা অ্যানফিল্ডে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করেন উসমান দেম্বেলে। ফলে আয়েশি জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে প্যারিস সেন্ট জার্মেই, পিএসজি।
ম্যাচ শুরুর আগেই অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তৈরি হয় দারুণ এক পরিবেশ। সমর্থকদের গর্জন আর গান যেন বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছিল লিভারপুল ফুটবলারদের। তবে মাঠের খেলায় প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল পিএসজির। বল দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে খুব একটা সফল হয়নি কোনো দলই।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি বড় ধাক্কা খায় লিভারপুল। ইনজুরিতে পড়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন উগো একিটিকে। তার বদলি হিসেবে নামেন মোহাম্মদ সালাহ। মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি আনেন মিশরীয় এই ফরোয়ার্ড। তার তৈরি করা একটি সুযোগে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছায় স্বাগতিকরা, তবে শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেননি ভার্জিল ফন ডাইক। গোলমুখে অসাধারণ ডিফেন্স করে দলকে রক্ষা করেন মার্কিনিয়োস।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি’র জোড়া গোল
বিরতির পর পুরোপুরি আক্রমণাত্মক রূপ নেয় লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণে পিএসজির রক্ষণকে চাপে ফেলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ১৭টি শট নিলেও মাত্র পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, পিএসজি সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি করছিল।
৬৪তম মিনিটে পেনাল্টির আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তা পায়নি লিভারপুল। রেফারি প্রথমে ফাউলের বাঁশি বাজালেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় ৭০তম মিনিটের পর। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করেন দেম্বেলে। গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ে এবং লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের শুরুতে আবারও আঘাত হানে পিএসজি। ব্রাডলি বার্কোলার পাস থেকে সহজ সুযোগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। এই গোলের পর লিভারপুলের সমর্থকরা হতাশায় ভেঙে পড়ে।
এবার শেষ চারে পিএসজির প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার বিজয়ী দল। দেম্বেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী প্যারিসের ক্লাবটি এখন তাকিয়ে আরও বড় সাফল্যের দিকে।
