রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলার ছাড়া স্পেনের বিশ্বকাপ একাদশ। এটি রিয়াল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে চরম হতাশাজনক এবং কিছুটা অবিশ্বাস্যও বটে! স্প্যানিশ ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েও জাতীয় দলে গ্যালাকটিকোদের এই অনুপস্থিতি ক্লাবটির জন্য এক বড় ধাক্কা।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি কতটা হতাশাজনক এবং এর পেছনের সমীকরণগুলো কী, তা কয়েকটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়:
ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে আঘাত
স্পেন জাতীয় দল (লা রোজা) এবং রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাউল গঞ্জালেস, ইকার ক্যাসিয়াস, সার্জিও রামোস, জাভি আলোনসোদের মতো রিয়াল তারকারা স্পেনকে বিশ্বকাপ ও ইউরো জিতিয়েছেন। সেখানে স্পেনের মূল একাদশে রিয়ালের একজন খেলোয়াড়ও না থাকাটা ক্লাবের ঐতিহ্য ও গৌরবের জায়গায় বড় একটা ধাক্কা।
রিয়ালের ‘স্প্যানিশ’ পরিচয়ের সংকট
গত কয়েক বছর ধরেই রিয়াল মাদ্রিদের মূল একাদশে স্প্যানিশ ফুটবলারদের সংখ্যা কমছে। ক্লাবটি এখন গ্লোবাল সুপারস্টার বা বিদেশি তরুণ প্রতিভাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, যেমন: ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, বেলিংহাম, এমবাপ্পে। স্পেনের বিশ্বকাপ একাদশে রিয়ালের কেউ না থাকাটা এই তিক্ত সত্যকেই আড়ালে না রেখে একদম সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। স্প্যানিশ ক্লাব হয়েও ঘরের ছেলেদের ওপর ভরসা না করাটা ফ্যানদের জন্য হতাশার।
বার্সেলোনার আধিপত্যের কাছে মনস্তাত্ত্বিক হার
রিয়াল মাদ্রিদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা বরাবরই তাদের লা মাসিয়া একাডেমির স্প্যানিশ তরুণদের ওপর ভরসা রাখে। স্পেনের একাদশে যখন বার্সেলোনার গাবি, পেদ্রি বা লামিনে ইয়ামালদের জয়জয়কার থাকে, আর রিয়ালের কেউ থাকে না, তখন গ্যালাকটিকোদের ড্রেসিংরুম এবং সমর্থকদের জন্য সেটা হজম করা বেশ কঠিন ও মর্যাদাকর লড়াইয়ে পরাজয়ের মতো মনে হয়।
তবে এর পেছনে কিছু বাস্তবসম্মত কারণও রয়েছে:
- রিয়ালের সেরা স্প্যানিশদের ইনজুরি বা ফর্মহীনতা: দানি কারভাহাল বা নাচো (যিনি পরে ক্লাব ছেড়েছেন) যখন ইনজুরি বা ফর্মহীনতায় থাকেন, তখন রিয়ালের স্কোয়াডে আর তেমন কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার থাকে না যিনি স্পেনের মূল একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখেন। ফ্রান গার্সিয়া বা ব্রাহিম দিয়াজের (যিনি মরক্কো বেছে নিয়েছেন) মতো খেলোয়াড়রা নিয়মিত সুযোগ পান না।
- কোচের কৌশলী সিদ্ধান্ত: স্পেনের বর্তমান কোচেরা রিয়ালের ‘সুপারস্টার’ ঘরানার চেয়ে ট্যাকটিক্যাল ও পাসিং ফুটবলে অভ্যস্ত খেলোয়াড়দের বেশি পছন্দ করেন, যা রিয়ালের বর্তমান স্কোয়াডে থাকা স্প্যানিশদের মধ্যে কম।
পরিশেষে: গ্যালাকটিকোদের জন্য এটি অবশ্যই হতাশাজনক। তবে রিয়াল মাদ্রিদের বোর্ড সব সময়ই ‘স্পেন’-এর চেয়ে ‘ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব’ (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয়কে বেশি প্রাধান্য দেয়। তাই জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব না থাকাটা সমর্থকদের আবেগে আঘাত দিলেও, ক্লাব হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ ট্রফি জেতার চেনা বৃত্তেই মগ্ন থাকে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















