পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্তে নিজের কোনো দায় দেখছেন না কোচ জর্জ জেসুস। রোনালদোর বিদায়ে তিনি অনুতপ্ত নন বলেও জানিয়েছেন। বরং পর্তুগিজ অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এই কোচ।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাঁর এই ঘোষণায় দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটল।
রোনালদোর অবসরের ঘোষণা আসে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শাস্তির এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। গত ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁকে ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়।
শুক্রবার ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে দল ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন জেসুস। সেখানে রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, হয়তো আমি কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছি, কিন্তু সেটা আমার কারণে নয়। বিষয়টি ছিল তাঁর নিজের ভাবনায়-আরও বেশি ডাক পাওয়া, নাকি কম ডাক পাওয়া।’
জেসুস আরও বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের কয়েকবার কথা হয়েছে। এমন কিছু ঘটতে পারে কি না, সেটাও আলোচনা করেছি। তবে তাঁর বিদায়ের ব্যাপারে আমি কোনো অপরাধবোধে ভুগছি না। আমি তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’

সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে এক মৌসুম রোনালদোকে কোচিং করিয়েছেন জেসুস। গত জুলাইয়ে পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই দুজনের মধ্যে পরিচয় ছিল। তাই রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। জেসুসের প্রত্যাশা ছিল, রোনালদো আরও কিছুদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। এমনকি সর্বশেষ দল ঘোষণার সময়ও তাঁকে দলে রাখার পরিকল্পনা ছিল কোচের। জেসুস বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সে ফিরে আসবে। নিশ্চিতভাবেই তাকে দলে ডাকার পরিকল্পনা ছিল আমার। কিন্তু সে মনে করেছে, এটাই বিদায়ের সঠিক সময়। তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেই হবে।’
রোনালদোর অবদান স্মরণ করে পর্তুগাল কোচ বলেন, ‘পর্তুগালের জন্য সে কী করেছে, দেশের জন্য তার অবদান কতটা, কিংবা তরুণ ফুটবলারদের কাছে সে কত বড় অনুপ্রেরণা-এসব কিছুই আমরা কখনো উপেক্ষা করতে পারি না।’
আল নাসরে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেসুস আরও বলেন, ‘এক বছর তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। ক্রিস একজন বৈশ্বিক আইকন, পর্তুগালের আইকন এবং জাতীয় দলেরও আইকন।’
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জেতে দলটি। ২০২৫ সালেও এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগিজরা। জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, গোল এবং সাফল্যে রোনালদো পরিণত হয়েছেন দেশটির ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতীকে।
এদিকে রোনালদোর অবসরের পর নতুন দল সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেসুস। ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে আসন্ন নেশনস লিগের ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৭ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি পর্তুগালের এই কিংবদন্তি অধিনায়কের। তবে দলে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াস, ভিতিনিয়া, জোয়াও ফেলিক্স ও রাফায়েল লেয়াওয়ের মতো তারকারা।


