Home Blog Page 107

বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে

হারারেতে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে শুরুতে ধাক্কা সামলেও বেন কারানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করেছে ২৪৭ রান।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। নবম ওভারে আক্রমণে এসে ক্রেগ আরভিনকে বোল্ড করেন নাহিদ রানা। ৯ রান করে ফেরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। এরপর ৩০ বলে ১৫ রান করে আউট হন ওয়েসলি মাধেভেরে। মাত্র ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে জিম্বাবুয়ে। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও অপর প্রান্তে দৃঢ় ছিলেন কারান। এরপর ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও সপ্তম উইকেটে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৪ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের ছাপ। অন্যদিকে মাত্র ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাড ইভান্স।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। এছাড়া নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন। জয় পেতে বাংলাদেশের সামনে এখন ৫০ ওভারে ২৪৮ রান করার চ্যালেঞ্জ। আগের ম্যাচে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হওয়ার স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সই হবে সফরকারীদের মূল প্রত্যাশা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেরা তারকাকে পাচ্ছে না মরক্কো

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁচা মরার লড়াইয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সাইবারিকে পাচ্ছে না মরক্কো। বিষয়টা নিশ্চিত করলেন কোচ ওয়াহ্‌বি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে খেলতে পারবেন না মরক্কোর তারকা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরক্কো অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মোহামেদ ওয়াহ্‌বি। তার চোট গুরুতর নয় এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে ফেরার আশা রয়েছে। গত ৪ জুলাই কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ২২ মিনিট খেলার পর পায়ে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে মরক্কো।

আগামী ১০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় বস্টনে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের আগে সাইবারির চোট নিয়ে কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ এমআরআই রিপোর্টে জানা যায়, তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট গুরুতর নয় এবং পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কাও নেই।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঝুঁকি নিতে চান না কোচ মোহামেদ ওয়াহ্‌বি। তিনি বলেন,‘সাইবারিকে ছাড়া সবাইকে পাওয়া যাবে। ম্যাচটি তার জন্য একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে। আশা করছি, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে সে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমরা কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই মাঠে নামাব।’

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এছাড়া শেষ বত্রিশে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার সফল শটেই জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। সাইবারির অনুপস্থিতি মরক্কোর আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা হলেও, ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলটি।

আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের তোলা রেফারিং বিতর্কের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কললিনা। তার দাবি, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কোনোভাবেই বাহ্যিক প্রভাবের শিকার হননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রেফারিদের সততা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ খেলাটির জন্য ক্ষতিকর।

মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে মিশর। তবে ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি কললিনা বলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও প্রমাণহীন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তার ভাষায়, ফিফার ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই এবং তাদের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি, এমনকি ফিফা সভাপতির প্রভাবেও পরিচালিত হয় না।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং উইঙ্গার মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে দাবি করে, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষ করে, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর গোল বাতিল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহামেদ সালাহকে করা ফাউলের ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মিশর। তবে কললিনা ব্যাখ্যা করেন, ভিএআর সঠিকভাবেই জিকোর গোল বাতিলের সুপারিশ করেছিল, কারণ আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের ওপর ফাউল হয়েছিল। এছাড়া সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের সংঘর্ষকে রেফারি ও ভিএআর উভয়েই স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

বিশ্বকাপজুড়ে ভিএআর ও রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও কললিনার দাবি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভিএআর প্রটোকল যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়েছে। তার মতে, কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। সব মিলে রেফারিংয়ের মান এবং ভিএআর প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট।

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে নোয়াখালীর থানায় অভিযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি!

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এবার এসে ঠেকল বাংলাদেশের নোয়াখালীতে! ম্যাচে চরম পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ম্যাচ রেফারিসহ ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক তরুণ। শুধু অভিযোগই নয়, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।

বিস্ময়কর এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী তরুণ মো. রাকিব। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে হাজির হন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

অভিযোগকারী রাকিব জানান, গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখছিলেন তিনি। রাকিবের প্রিয় দল ছিল মিসর। কিন্তু ম্যাচ চলাকালে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি দলকে (আর্জেন্টিনা) অন্যায্য সুবিধা দেন বলে অভিযোগ রাকিবের। তার দাবি, ‘অন্যায্য পেনাল্টি দেওয়া, মিসরের বৈধ গোল বাতিল করা এবং মিসরীয় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বিরুদ্ধে একের পর এক পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের ফল বদলে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই হেরে যায় তার প্রিয় দল মিসর।’

৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও মানববন্ধন

প্রিয় দলের এমন পরাজয় এবং রেফারির ‘অন্যায়’ মেনে নিতে পারেননি এই নোয়াখালীর তরুণ। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রেফারির এমন পক্ষপাতিত্বের কারণে তিনি এবং মিসরের অসংখ্য সমর্থক মারাত্মক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিফার কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

থানা পুলিশ অবশ্য বিষয়টিকে বেশ রসাত্মক কিন্তু আইনি চোখেই দেখেছে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তরুণটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন ঠিকই, তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। তাই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তরুণটিকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পিছু হটছেন না রাকিব

থানা অভিযোগ না নিলেও দমে যাওয়ার পাত্র নন নোয়াখালীর এই ফুটবলপ্রেমী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাকিব সংবাদমাধ্যমকে জানান, ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনি ও তার বন্ধু-সমর্থকেরা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। এর বিচার হতেই হবে। যেহেতু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, তাই তিনি এবার একই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি আদালতে যাবেন। প্রয়োজনে ফিফা সভাপতির এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের আঁচ সুদূর নোয়াখালীর থানাপাড়ায় এসে এভাবে আছড়ে পড়বে, তা বোধহয় স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও স্বপ্নেও ভাবেননি! এখন দেখার বিষয়, নোয়াখালীর এই তরুণের ৫ কোটি টাকার দাবি কতদূর গড়ায়!

সেমিফাইনাল মিসের শংকায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডসহ ১৮ ফুটবলার

৪৮ দলের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মহাযজ্ঞ শেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে সেরা ৮ দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। মাত্র একদিনের বিরতি দিয়েই আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে শেষ আটের এই মহারণে নামার আগে মাঠের কৌশলের চেয়েও বড় এক দুর্ভাবনা ভর করেছে দলগুলোর শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে দল জিতলেও, হলুদ কার্ডের খড়্গ কেড়ে নিতে পারে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন!

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচগুলোতে (সেরা ৩২ ও সেরা ১৬) অলরেডি একটি করে হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামছেন বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। আজ যদি তারা আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা কেবল দর্শক হয়েই মাঠের বাইরে বসে থাকবেন।

কার্ডের ঝুঁকিতে কারা?

নিষেধাজ্ঞার এই ঝুলন্ত তরবারির নিচে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই সর্বোচ্চ ৪ জন করে ফুটবলার নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখে আছেন। এছাড়া সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের ৩ জন করে এবং আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের ১ জন করে ফুটবলার রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।

ঝুঁকিতে থাকা ১৮ ফুটবলারের তালিকা:

  • ইংল্যান্ড: জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি।
  • মরক্কো: ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস।
  • ফ্রান্স: মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা।
  • সুইজারল্যান্ড: গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম।
  • আর্জেন্টিনা: গঞ্জালো মন্টিয়েল।
  • স্পেন: ফেররান তোরেস।
  • বেলজিয়াম: ব্র্যান্ডন মেচেলে।
  • নরওয়ে: অ্যান্তোনিও নুসা।

ফিফার নতুন কার্ড নীতি ও নিয়মের মারপ্যাঁচ

৩২ দলের পরিবর্তে এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হওয়ায় নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে খেলতে হচ্ছে ৬টি ম্যাচ। বাড়তি ম্যাচের কারণে তারকা খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবার কার্ড নীতিতে পরিবর্তন এনেছে ফিফা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। নকআউটের শুরু থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কার্ডের এই হিসাব সচল থাকবে। তবে স্বস্তির খবর হলো, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবারও হলুদ কার্ডের খাতা শূন্য বা রিসেট হয়ে যাবে। ফলে কোনো ফুটবলার কেবল হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে স্বপ্নের ‘ফাইনাল’ ম্যাচ মিস করবেন না। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে যদি কেউ সরাসরি ‘লাল কার্ড’ দেখেন, তবে তিনি যথারীতি নিষিদ্ধ থাকবেন। সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে।

মেগা আসরের শেষ মুহূর্তের সূচি

আজ ৯ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াই। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল। আগামী ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর ১৯ জুলাই বিশ্ববাসী পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণপণ লড়াইয়ে ১৮ তারকা নিজেদের স্নায়ু কতটা নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে দলকে ফাইনালে তোলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবারও ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। টস জয়ের পর মিরাজ বলেন,‘গত ম‍্যাচের ভালো বোলিং ও কন্ডিশন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হারারেতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দেড়টায়।

আগের ম‍্যাচে ছোট লক্ষ‍্য পেয়েও হারার পর ব‍্যাটসম‍্যানদের উন্নতির তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। সিরিজে টিকে থাকার ম‍্যাচে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। আগের ম‍্যাচে নিদারুণ ব‍্যর্থতার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি ব‍্যাটিংয়ে।

নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ের পরও প্রথম ম‍্যাচে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪১ রান তাড়ায় থেমেছে ১১৬ রানে। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই মেহেদী হাসান মিরাজের দলের সামনে।

লক্ষ‍্য ছোট ছিল। বোলিংও তেমন আহামরি ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ব‍্যাটিং ছিল ভীষণ বাজে। অহেতুক শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়েছেন তারা অকাতরে। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়ায় চেষ্টায় সীমানায় দিয়েছেন ক‍্যাচ। ব‍্যাটিংয়ে উন্নতিতে চোখ রেখে জয়ে ফেরার লক্ষ‍্যে মাঠে নামবেন তারা।

বাংলাদেশ একাদশ : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

বিশ্বকাপে চলছে ফরাসি ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ এর তাণ্ডব

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে যেন এক অপ্রতিরোধ্য ঝড় তুলেছে ফ্রান্স। আক্রমণভাগের চার তারকা – কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার সমন্বয়ে গঠিত ফরাসি ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ প্রতি ম্যাচেই তাদের বিধ্বংসী রূপ দেখিয় যাচ্ছে। টানা চার ম্যাচেই প্রতিপক্ষেকে উড়িয়ে দিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিন বা শেষ ষোলর ম্যাচে তাদের পরীক্ষা নিয়েছিলো প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা লে ব্লুজ’রা আজ মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কোর।

সুইডেনের বিপক্ষে বড় জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফ্রান্সকে অপরাজেয় মনে হলেও, তাদের মুখোমুখি হওয়া প্রতিপক্ষদের গল্পটা একদমই উল্টো। ফ্রান্সের রক্ষণভাগের নিখুঁত স্থায়িত্ব এবং দলের মাঝমাঠের চমৎকার ভারসাম্য জয়কে সহজ করে তুলেছে। তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল সেই আক্রমণভাগই, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং রোমাঞ্চকর কোয়ার্টেট (চারজন) হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে চলেছে।

এমবাপ্পের অতিমানবীয় রেকর্ড ও নতুন ইতিহাস

কিলিয়ান এমবাপ্পে।

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন বরাবরের মতোই দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড সুইডিশ ডিফেন্সকে নাচিয়ে ম্যাচে এক চোখধাঁধানো জোড়া গোল উপহার দেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও গোল করেন তিনি। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৭টি গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট করে ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট’-এর দৌড়ে সবার শীর্ষে আছেন তিনি।

চলতি বিশ্বকাপেই জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার করা ১৬ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা এখন দাঁড়াল ১৯-তে! তাও মাত্র ১৯টি ম্যাচ খেলে। অর্থাৎ বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১টি করে গোল করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, যেভাবে তিনি এগোচ্ছেন, তাতে বর্তমান রেকর্ডধারী লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিশ্বকাপের পারফরমেন্সে এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনিয়ে ফিফাকে বলেন:

“ও অসাধারণ, ও অবিশ্বাস্য! ও এখন অভাবনীয় ফর্মে আছে এবং দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়ছে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে ও একজন প্রকৃত নেতার মতো উদাহরণ তৈরি করছে। আমাদের শুধু প্রার্থনা করতে হবে ও যেন এই ফর্মটা ধরে রাখতে পারে।”

একই সুর শোনা গেছে রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপের সতীর্থ অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির গলাতেও। এমবাপ্পের এই ফর্ম কি তাকে অবাক করছে? এমন প্রশ্নে চুয়ামেনি বলেন:

“আমি জানি না। ও বহু বছর ধরে বিশ্বমানের ফুটবল খেলছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ও এবং আমাদের বাকি ফরোয়ার্ডরা যখন এই স্তরে খেলে, তখন দল হিসেবে আমরা যেকোনো চমৎকার জিনিস উপহার দিতে পারি।”

অলিসে-দেম্বেলের ম্যাজিক ও বারকোলার বাজিমাত

আক্রমণভাগের বাকি তিন সদস্যও এদিন সুইডিশ রক্ষণভাগকে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে দেননি।

উসমানে দেম্বেলে

উসমান দেম্বেলে

গ্রুপে নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দেম্বেলে। এই ম্যাচে গোল না পেলেও তার পাসিং একিউরেসি বা পাসের নিখুঁততা ছিল চোখ কপালে তোলার মতো, ৯২ শতাংশ! এমবাপের প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও আসে তার পা থেকে। এমনকি নিজের পঞ্চম গোলটি পাওয়ার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের জন্য বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

মাইকেল অলিসে

মাইকেল অলিসে

বায়ার্ন মিউনিখের ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গার মাইকেল অলিসে যেন এক বিস্ময়। নিজে গোল করতে না পারলেও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোটাকে ডালভাত বানিয়ে ফেলেছেন। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৫টি অ্যাসিস্ট করে ফেলেছেন তিনি। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলের করা ঐতিহাসিক ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ১টি অ্যাসিস্ট দূরে আছেন অলিসে। সুইডেনের বিপক্ষে তার একটি দুর্দান্ত ওভারহেড কিক পোস্টে লেগে ফিরে না আসলে হয়তো ম্যাচের সেরা গোলটি তারই হতো। লুকা দিনিয়ে তার সম্পর্কে বলেন, “ও একদম অনন্য। ও যা করছে তাতে আমরা অবাক নই। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সব ফরোয়ার্ডরাই নিচে নেমে রক্ষণভাগকেও সাহায্য করছে। পুরো দল যখন এভাবে সুসংগঠিত থাকে, তখন মাঠে খেলাটা স্রেফ আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।”

ব্র্যাডলি বারকোলা

ব্র্যাডলি বারকোলা

ফ্রান্সের আক্রমণভাগের চতুর্থ পজিশনটি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। কোচ দিদিয়ের দেশম দুয়ের জায়গায় তরুণ ব্র্যাডলি বারকোলার ওপর ভরসা রাখছেন। কোচের এই আস্থা শতভাগ সফল। দলের আক্রমণাত্মক কৌশলের সাথে নিখুঁতভাবে মানিয়ে নিয়ে বারকোলা টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাবেক লিও তারকা বারকোলা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এদের সাথে খেলাটা অবিশ্বাস্য। আমরা জানি ওরা বিশ্বসেরা খেলোয়াড়, আর ওদের সাথে এমন একটা বোঝাপড়া তৈরি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। সত্যি বলতে, টুর্নামেন্টটা ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এত ভালো যাবে তা আমি কল্পনাও করিনি। আশা করি এই ধারা বজায় থাকবে এবং আমি দলকে সাহায্য করতে পারব।”

পরিসংখ্যানের আয়নায় ফ্রান্সের আধিপত্য

চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ধারালো পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

ম্যাচ ও পর্যায়প্রতিপক্ষফলাফলফ্রান্সের গোল স্কোরার ও বিশেষত্ব
রাউন্ড অব ৩২সুইডেন৩-০ (জয়)কিলিয়ান এমবাপে (২ গোল), ব্র্যাডলি বারকোলা (১ গোল)
মাইকেল অলিসের ৫ম অ্যাসিস্ট।
গ্রুপ পর্বনরওয়ে৪-১ (জয়)ওসমানে দেম্বেলে (৩ গোল / হ্যাটট্রিক)
অন্যান্য ম্যাচ–জয়প্রতি ম্যাচেই ৩ বা তার বেশি গোল

শিরোপার সুবাস

চার ম্যাচে ১৩ গোল এবং মাঠের ভেতরে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলা করা ফ্রান্সকে এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হাই-প্রোফাইল শিরোপাপ্রত্যাশী মনে করা হচ্ছে। এটা সত্যি যে, টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোতে প্রতিপক্ষের শক্তি ও লড়াইয়ের মান আরও বাড়বে। তবে বর্তমান ফরাসি ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ যদি এই বিধ্বংসী ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে বিশ্বের খুব কম দলেরই সাধ্য আছে এই ‘লে ব্লুজ’দের রুখে দাঁড়ানোর।

এবার আশাকরি আপনার মন মতো বিস্তারিত হয়েছে? কোনো তথ্য কিন্তু বাদ পড়েনি! আর কোনো মতামত বা পরিবর্তন চান?

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক হারের পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি হারারেতে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে। সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প দেখছে না টাইগাররা।


প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্যটি সহজ মনে হলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনেও উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট।


তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। নাহিদ রানা বলেন, শুরুতে বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিংয়ে দল প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি। তার মতে, বড় একটি জুটি গড়ে উঠলে এবং পরপর উইকেট না হারালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, সবাই নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’ নিজের ব্যাটিং প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন রানা। তিনি জানান, স্কোয়াডে থাকা প্রত্যেক ক্রিকেটারের যেকোনো সময় ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত, কারণ ম্যাচের পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।’


বোলিং প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি আরও আগে ভাঙতে পারলে বাংলাদেশ কম রানে প্রতিপক্ষকে থামাতে পারত। তিনি স্বীকার করেন, ওই সময়ে বোলারদের কিছুটা ঢিলেঢালা বোলিং হয়েছে।

এরপরও তিনি দলকে জেতানোর লক্ষ্যেই সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান। দ্বিতীয় ওয়ানডেকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী এই পেসার বলেন, প্রতিটি জয় দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়। প্রথম টেস্টে না খেলার কারণ ছিল ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, আর সামনের ম্যাচগুলোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।’

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ১ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলে ৩টিতেই পরাজিত!

0

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ৩টি ম্যাচ খেলে ৩টিতেই পরাজিত! আপনি হয়তো ভাবছেন ১টি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেললো তাহলে ৩টি ম্যাচ কিভাবে হল, তাই না? দেখুন টেস্ট ক্রিকেটে তো একটি দল ২টি ইনিংস পায় সেই দুটি ইনিংসে কি বাংলাদেশ আপ টু দ্য ম্যার্ক ব্যাটিং করতে পেরেছে? উত্তর না, টেস্ট ম্যাচে কি জয় পেয়েছে উত্তর না, আপনি যদি পারফর্ম্যান্সের বিবেচনায় ধরেন তাহলে তো ১ টেস্টে ২টি ইনিংস খেলে পরাজিত হয়েছেন তাই না? আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তো ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে অলআউট হল তাহলে ব্যাপরটা কি দাঁড়ালো? টেস্টে ২ ইনিংসের ২ ম্যাচ আর প্রথম ওয়ানডে এই হল ৩ ম্যাচ, কি মিলেছে তো? তাই ব্যাপরটা আমরা এভাবেও হিসেবে ধরে নিতে পারি যে, জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ১ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলে ৩টিতেই পরাজিত!

জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধুত্ব অনেক দিনের এত ক্রিকেট ম্যাচ জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা হয়েছে যে কথিত আছে বাংলাদেশের যখন র‌্যাঙ্কিং এ উন্নতি দরকার হত তখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতো ফলাফল ও হাতে নাতে পেয়ে যেত। সেই জিম্বাবুয়ে বেশ কয়েক বছর টেস্ট খেলা বাদ দিয়ে শুধু ওয়ানডে ও টি-২০ খেলেছে এখন আবার টেস্টে ফিরে এসেছে। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে এমন ভাবে পরাজিত করলো ইনিংস ও ৮৫ রানে তাতে মনে হল এই বাংলাদেশ যেন ২০০৩-২০০৪ সালের টেস্ট খেলছে। আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে যেভাবে ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে নিজেরা আবার ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে পরাজিত হল তা যেন ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে রাজ্যের বিস্ময়! নাহিদ রানা, তাসকিন যেভাবে বাংলাদেশকে জয়ের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন নাহিদ ৬ উইকেট এবং তাসকিন ২ উইকেট নিয়ে সেই সুযোগ বাংলাদেশ হেলায় হারিয়ে সিরিজ জয়ের সঙ্কায় পড়ে আজ ২য় ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে। তারপরও সব শেষ হয়ে যায়নি কারণ আজ জিতলে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের সুযোগ পাবে। আবার সামনে টি-২০ সিরিজ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের জয়ের ধারায় ফেরা দরকার আর তা হতে পারে আজকের ম্যাচ।

বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ৮২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ৫১টি আর জিম্বাবুয়ে ৩১টিতে জয় লাভ করেছে। আর দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ৪৪টি ম্যাচের ৩৩টি জয় ও ১১টি পরাজয়, জিম্বাবুয়েতে গিয়ে বাংলালেশ ৩৫টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি জয় আর ১৮টিতে পরাজিত হয়েছে। দু-দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯টি ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ১২টি আর জিম্বাবুয়ে ৭টি সিরিজ জয় লাভ করেছে। অপরদিকে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ৯টি সিরিজের মধ্যে জিম্বাবুয়ে অবশ্য ৬টি সিরিজ জিতে এইখানে এগিয়ে রয়েছে আর বাংলাদেশ ৩টি সিরিজ জিতেছে। দু-দেশের মধ্যকার চলমান সিরিজ শুরুর আগে পেসার তাসকিন বলেছিলেন যে, জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিম্বাবুয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ তাদের মাটিতে বিশেষ করে হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়েকে হারানো কঠিন, তাহলে কি তাসকিনের কথাকে বাংলাদেশ গুরুত্ব দেয়নি? জানিনা থিম ট্যাং এই সফরকে কিভাবে নিয়েছে? তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখে সকালে ব্যাটিং করেছে। ভাবটা এমন যে ওহ্ জিম্বাবুয়ে? ঠিক আছে ম্যাচ জিতিয়ে দিব! ব্যাপারটা কিন্তু এত সহজ নয়। দেখা যাক বাংলাদেশ যদি আজ জিততে পারে তাহলে সঞ্জিবনী শক্তি নিয়ে পরের ম্যাচ গুলোতে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের জন্য শুভ কামনা রইল। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে।  

একদিন বিরতির পর আবার বিশ্বকাপের উত্তাপ

প্রায় এক মাস আগে ১১ জুন বাংলাদেশ সময় রাতে বেজেছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম বাঁশি। শুরু হয়েছিল ফুটবল ঘিরে এক উম্মাদনা। থামেনি এখনো, চলবে আরও কিছুদিন। তবে একটা দিন বিরতি ছিল। একদিন বিরতির পর আজ আবার শুরু হচ্ছে মহাযজ্ঞের বাকি অংশ। কোয়ার্টার ফাইনাল। তারপর সেমিফাইনাল। সবশেষে সেই কাঙ্খিত লড়াই, ফাইনাল।

কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই একেবারেই শেষের শুরু। সব মিলে আর মাত্র আটটা ম্যাচ। তারপর আবার চার বছরের বিরতি। আজ থেকে শুরু হওয়া কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা থেকে মাত্র তিন ধাপ দূরে দলগুলো। বিশ্বকাপ উঁচু করে ধরতে আর মাত্র তিনটি জয় দরকার।

১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ

গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট- সেই শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত একদিনের জন্য থামেনি বিশ্বকাপের চাকা। একটি শেষ হতেই আর একটি শুরু। টেলিভিশন দর্শকদের জন্য সাময়িক সময়ের বিরতি। উপায়ও ছিল না। বিশ্বকাপ এখন আর আগের মতো ১৬, ২৪ বা ৩২ দলে সীমাবদ্ধ নেই। বাড়তে বাড়তে ৪৮ দলে এসে থেমেছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে বিদু্যৎ গতিতে, ছাড়িয়ে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচ।

কলম্বিয়ার কান্না, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের

বিশ্বকাপ শুরু হতেই সময়ের হিসেব গিয়েছিল বদলে। দিন বা রাত নয়, সময়ের হিসাব চলছিল ম্যাচ ধরে। কোনো ম্যাচে ছিল গোলের বন্যা, কোনোটিতে গোল খরা। কোনটিতে জয়ের আনন্দ আবার কোনোটিতে বিদায়ের কান্না। কোনো ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকার টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি। আবার কোনো ম্যাচে একেবারে শেষ মুহুর্তে নিভু নিভু প্রদীপ তীব্র আলোর ঝলকানি। তার ঠিক বিপরীত দিকও ছিল। আশার আলো দপ করে নিয়ে যাওয়া।

ভুলের সুযোগ নেই

শুরুতে ভুলের সুযোগ ছিল। ভুল হলে শোধরানোরও সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ বত্রিশের লড়াই থেকে সেই সুযোগ আর নেই। কোয়ার্টার ফাইনালেও একই অবস্থা। ভুল মানেই আফসোস। ভুল মানেই বিদায়। অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই ফাইনাল। ফাইনালে যেমন জিতলে শিরোপা, হারলে হতাশা। এখানে জয় মানেই শিরোপা নয়, তবে শিরোপা জয়ের আশা বেঁচে থাকা, শিরোপার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। জয় স্বপ্নকে নিয়ে সেমিফাইনালে। আর হার শেষ করে দেবে চার বছর বা তার থেকে বেশি সময়ের প্রস্তুতিকে। শেষ হয়ে যাবে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন।