Home Blog

৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু

0

তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির ঘোষণা

রাজধানীর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। আজ থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ব্যাডমিন্টনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভাগ, শিক্ষাবোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার মোট ৮৮টি দল থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৬১৬ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৩৫ জন পুরুষ ও ৮১ জন নারী শাটলার রয়েছেন। প্রতিযোগিতায় মোট ১০ লাখ টাকা প্রাইজমানি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে একটি ইলেকট্রিক বাইক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে এত বিপুলসংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক মাইলফলক। এ অর্জনের পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক এবং দূরদূরান্ত থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কিংবা শীতকালীন খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের প্রতিটি জেলা, পাড়া-মহল্লায় সারা বছর খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রতিটি জেলায় পৃথক কমিটি গঠন এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে সারা দেশে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, হকি, আর্চারি ও শুটিংসহ নির্বাচিত বিভিন্ন খেলায় বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

দেশের ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের মাটিতে অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, বিদেশি দল আমন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিদেশের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এসব উদ্যোগ খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খেলোয়াড় ও সংগঠকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলায় হার-জিত থাকবেই। পরাজয়ে হতাশ হয়ে খেলা থেকে দূরে সরে না গিয়ে দেশপ্রেম ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খাঁন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সংগঠক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূর্যবংশীকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনা তার ও দলের জন্য ভালো নয়

0

ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক নামান ধীরের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, একাদশে খেলার সুযোগ না পেলেও অনেক কিছু শিখছেন বৈভব সূর্যবংশী, তাকে ঘিরের উন্মাদনা তার ও দলের জন্য ভালো নয়। ভারতের টি-টোয়েন্টি একাদশে বৈভব সূর্যবংশী কেন নেই? প্রতিটি ম্যাচের আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সম্ভবত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায়।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক বলেন, “সে সত্যিই খুব তরুণ। তবে দলের ম্যানেজমেন্টের সবাই যেভাবে তার যত্ন নেন, তা আমি নিরপেক্ষভাবে লক্ষ্য করি। সবাই তাকে পছন্দ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষও, দলের সদস্যরাও। কিন্তু মানুষ তাকে পছন্দ করে বলেই তো একাদশে পরিবর্তন আনা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “সে অত্যন্ত প্রতিভাবান। আমি বিশ্বাস করি, তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে সে অনেক কিছু শিখবে।”

তবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইশান কিষানের ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় শনিবারের ম্যাচে সূর্যবংশীর খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোটাকও আশাবাদী। তবে তাঁর মতে, সূর্যবংশীকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার ও উন্মাদনা তার নিজের এবং দলের অন্য খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয়নি।

কোটাক বলেন, “শুরুতে আমি দেখেছি, তাকে খেলাতেই হবে, এমন একটা প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছিল। আমার সত্যিই মনে হয়েছে, এটা খেলোয়াড়টির জন্যও ভালো ছিল না। মাত্র ১৫-১৬ বছরের একটি ছেলে, অথচ সবাই বলছে, ‘তাকে খেলাতেই হবে’, ‘তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে না কেন’—এ ধরনের কথা।”

তিনি আরও বলেন, “সে এখনো অনেক ছোট। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিন্তু ব্যাপারটি দুঃখজনক। অন্য ওপেনারদের জন্যও এটি দুঃখজনক, কারণ তাঁরা ভালো খেলছেন, অথচ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, ‘তাঁকে খেলানো হচ্ছে কেন?’” সাধারণত সূর্যবংশী দলে থাকলেও ভারতের টপ অর্ডারে সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কোটাকের ভাষায়, “এখন সে অনেক বেশি পরিণত। সে বুঝতে পেরেছে, সঞ্জু ভালো খেললে বা অভিষেক ভালো খেললে তাঁদের কীভাবে বাদ দেওয়া যায়? মিডল অর্ডারেও অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। সবাই বিষয়টি বোঝে। তবে অবশ্যই সে খেলতে চায়। আমি তার জায়গায় থাকলেও খেলতে চাইতাম।” সূর্যবংশীর মানসিকতা সম্পর্কে কোটাক বলেন, “সে খুবই সহজ-সরল একটি ছেলে। সে কখনো অভিযোগ করেনি বা মন খারাপ করে বসে থাকেনি।”

সবশেষে তিনি বলেন, “বড় শট খেলার সামর্থ্য এক বিষয়, আর প্রতিদিন এই পর্যায়ের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। সে এখান থেকে অনেক কিছু শিখবে। নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করার এই সময়টা ভবিষ্যতে তার অনেক উপকারে আসবে।”

ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অ-১৫ বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

0

আজারবাইজানের বাকুতে পৌঁছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দল। আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। টুর্নামেন্টে ফিজি, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও পর্তুগালের বিপক্ষেও মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

গত ২১ অক্টোবর নিরাপদে আজারবাইজানে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। বর্তমানে বাকুতে অবস্থান করছে খেলোয়াড় ও দলের সংশ্লিষ্টরা। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অনুশীলন করেছে দল। এক ঘণ্টার এই অনুশীলন সেশনে অংশ নেন সব খেলোয়াড়। সেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বাকুর আবহাওয়া ছিল মেঘাচ্ছন্ন।

ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অ-১৫ বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

আসন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে ওয়েলস, ফিজি, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। এই প্রতিযোগিতা তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে।

শনিবার ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হবে বাকুর স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়। প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। এরপর গ্রুপ পর্বে ফিজি, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও পর্তুগালের বিপক্ষে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবে দল।

বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত অংশগ্রহণ তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন দেশের খেলার ধরন, গতি ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি দলীয় সমন্বয় এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয় এ ধরনের আসরে।

বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য রয়েছে সরাসরি ম্যাচ দেখার সুযোগও। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে ফিফা। ফলে ফিফার অফিসিয়াল সম্প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন সমর্থকরা।

বাকুতে অনুশীলন শেষ করে এখন মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কেমন পারফরম্যান্স করে তরুণ ফুটবলাররা, সেদিকেই থাকবে সমর্থকদের নজর।

২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে তাসমানিয়া দলে টিম ডেভিড

0

অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি তারকা টিম ডেভিডকে শনিবার ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের ম্যাচের জন্য দলে নিয়েছে তাসমানিয়া। কোচ জেফ ভন নিশ্চিত করেছেন, ২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্যে তাসমানিয়া দলে নেয়া হয়েছে টিম ডেভিডকে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩০ বছর বয়সী ডেভিড সর্বশেষ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট খেলেছিলেন ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে ইনজুরিতে পড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বদলি হিসেবে তিনি চারটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এর আগে, ২০২১ সালের নভেম্বরে তাসমানিয়ার হয়ে একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছিলেন ডেভিড। তার আগে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে কাপে সারের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি। ৮ ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি ও অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এই ব্যাটার। ২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরের হয়ে পাঁচটি অ্যাসোসিয়েট পর্যায়ের ম্যাচ খেলাও তাঁর লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের অংশ।

বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে ডেভিড: শুক্রবার তাসমানিয়ার কোচ জেফ ভন বলেন, ডেভিডের ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফেরাটা বেশ আনন্দের। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য হওয়ায় পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভন বলেন, “বিষয়টি বেশ রোমাঞ্চকর, তাই না? গত কয়েক বছর ধরেই এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। মূলত তাঁর সময়সূচি ও খেলার সূচি কখন একসঙ্গে মিলে যায়, সেটিই দেখার বিষয় ছিল।” তিনি আরও বলেন, “ডেভিড প্রকাশ্যেই বলেছেন, তাসমানিয়ার হয়ে ক্রিকেট খেলতে তিনি কতটা ভালোবাসেন। তাসমানিয়ার হয়ে আরেকটি ম্যাচ খেলতে পেরেও তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত।”

“তবে সামনে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ থাকায় এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। তিনি ওই বিশ্বকাপে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান। এই ফরম্যাটে খেলতে চান, শিখতে চান এবং আরও ভালো হতে চান, যাতে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা তাঁকে এই ফরম্যাটে দলে নেওয়ার সুযোগ পান।”

অস্ট্রেলিয়ার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ডেভিড?

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলে ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার মতো ব্যাটারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে সর্বশেষ চারটি ওয়ানডে সিরিজেই এই দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সাম্প্রতিক সিরিজ হারও রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ডেভিডকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফেরানো তাই অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্যাটিং অর্ডারে কোথায় খেলবেন ডেভিড?

তাসমানিয়ার কোচ জেফ ভনের মতে, ডেভিডকে সম্ভবত ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামানো হবে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে ওপরের দিকেও খেলানো হতে পারে। ভন বলেন, “আমরা সম্ভবত তাঁকে ছয় নম্বরে রাখব। এরপর ইনিংসের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে ওপরের দিকে তুলে আনতে পারি, যাতে তিনি ম্যাচে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।”

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই প্রত্যাবর্তন টিম ডেভিডের জন্য নিজের সামর্থ্য প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় জায়গা করে নিতে পারেন কি না।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই সবাই আমাদের হারাতে মরিয়া-বাভুমা

0

দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেখা টেস্ট জয়

গত সপ্তাহে ডারবানে হারের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কাগিসো রাবাদার লড়াকু মানসিকতা, মার্কো ইয়ানসেনের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার নিজের রান-সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে জোরালো জবাব দিয়েছে প্রোটিয়ারা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে যে বাড়তি চাপ ও নজরদারি আসে, দক্ষিণ আফ্রিকার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ যেন তাদের সেই বাস্তবতাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বচ্যাম্পিয় বলেই হয়তো সবাই তাদের হারাতে মরিয়া।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই সবাই আমাদের হারাতে মরিয়া-বাভুমা
স্মিথকে আউট করে রাবাদার উল্লাস

গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) শিরোপা জয়ের পর নিজেদের প্রথম দুটি সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র এবং ভারতের মাটিতে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর তাদের সামনে হাজির হয়েছিল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন এবং টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টে হেরে গেলেও দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের মর্যাদা ধরে রাখতে কী ধরনের ক্রিকেট খেলতে হয়, সেটিই তারা প্রমাণ করেছে।

প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট করে ফলোঅন করায়। প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ফলোঅন করানোর পর শেষ পর্যন্ত এক ইনিংস ও ৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় প্রোটিয়ারা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা বলেন, “কখনো কখনো দল হিসেবে আমরা ভুলে যাই যে এখন লক্ষ্যটা আমাদের দিকেই। সবাই আমাদের বিরুদ্ধে জিততে চায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে সবাই আমাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেখতে চায়। আমরা যা কিছু করি, সবকিছুই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “ডারবানে আমাদের পারফরম্যান্স সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করিয়েছিল। একই সঙ্গে এটাও বুঝিয়েছে, অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে হয়।”

ডারবানের ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো: গত সপ্তাহে কিংসমিডে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯ মাসের মধ্যে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট। ২০২৫ সালের নতুন বছরের টেস্টের পর এটিই ছিল তাদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ। আর প্রায় এক বছর পর তারা খেলছিল লাল বলের ক্রিকেট।

সেই ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে উঠতে থাকা পেসার কাগিসো রাবাদাকে পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। পাশাপাশি তাদের ব্যাটিং লাইনআপের খেলোয়াড়রাও দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। ফলে দলটিকে প্রস্তুতির ঘাটতিতে ভুগতে দেখা যায়। সেই সময় বাভুমা বলেছিলেন, খেলোয়াড়েরা এমন তীব্রতার সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন না এবং দীর্ঘ বিরতির কারণে জমে থাকা ‘জড়তা’ কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন ছিল।

দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলটির প্রথম ৭ ব্যাটারের মধ্যে পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ট্রিস্টান স্টাবস ও কাইল ভেরেইনেকে বাদ দেওয়া হয়। দল থেকে বাদ পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল স্পিনার কেশব মহারাজও।

রাবাদার প্রত্যাবর্তনেই বদলে গেল দলের চেহারা: দ্বিতীয় টেস্টে রাবাদার প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে নতুন শক্তি দেয়। বাভুমা বলেন, “রাবাদা দলের জন্য অনেক বড় সম্পদ। সে মাঠে থাকলে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া এবং চাপ সামলানোর দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করে। আমার বিশ্বাস, এতে দলের অন্য খেলোয়াড়েরা নিজেদের কাজ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারে।” “প্রথম ইনিংসে মার্কো ইয়ানসেন ৫ উইকেট নিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে উইয়ান মাল্ডার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেয়েছে। একজন নেতা এভাবেই ভূমিকা রাখে।” রাবাদা খুব বেশি বক্তৃতা দেওয়ার মানুষ নন বলেও জানান বাভুমা। তবে তাঁর মতে, রাবাদা যখন প্রয়োজন মনে করেন, তখনই কথা বলেন। আর মাঠে তাঁর উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্ব সতীর্থদের বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করে।

রাবাদা দক্ষিণ আফ্রিকার খেলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করেন-লড়াকু মানসিকতা। তাঁর উপস্থিতিতে দলটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া একটি দল থেকে এমন এক প্রতিপক্ষে পরিণত হয়, যারা প্রতিপক্ষকে সহজে কোনো সুযোগ দিতে চায় না। স্টিভ স্মিথের সঙ্গে রাবাদার পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নতুন করে আলোচনায় আসে। এবারও স্মিথের সঙ্গে তাঁর কথার লড়াই হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রাসী মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে বাভুমা জানান, প্রতিপক্ষকে অযথা উসকানি দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

তিনি বলেন, “এর একটি অংশ হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী আগ্রাসী হওয়া। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করা কিংবা ঝামেলা খোঁজা জরুরি নয়। বরং আমাদের খেলার ধরনেই আগ্রাসন থাকতে হবে। দলের জন্য খেলতে হবে এবং সেই কাজ নির্মমভাবে করতে হবে।” “দলে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা কথার লড়াই উপভোগ করে। নিয়মের মধ্যে থেকে তাদের সেটা করতে দেওয়া হয়।” ৮ বছর আগে স্মিথকে আউট করার পর রাবাদা তাঁর সামনে গিয়ে চিৎকার  করেছিলেন। এবার স্মিথকে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট করার পর পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এবার রাবাদার সতীর্থরা তাঁর সঙ্গে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন।

ইয়ানসেন ও মাল্ডারের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ: রাবাদা প্রভাব বিস্তার করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পেছনে আরও কয়েকজনের অবদান ছিল অসাধারণ। মার্কো ইয়ানসেন ব্যাট ও বল-দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য একাই পুরস্কার পাওয়ার মতো ছিল। ম্যাচ শেষে সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান তিনি। অন্যদিকে, উইয়ান মাল্ডার মিডিয়াম পেসার হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমর্থনও তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।

তবে এই জয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল অধিনায়ক বাভুমার ব্যাটিং। ডারবানে প্রথম টেস্টে ৩ ও ১ রান করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংস। এক সপ্তাহ আগেই বাভুমা নিজের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করার কথা বলেছিলেন। স্পষ্টতই তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

বাভুমা বলেন, “যখন আপনি নিজের ঘরে একা থাকেন, তখন নিজের সঙ্গে মিথ্যা বলা যায় না। আপনি নিজের ব্যাটিং ইনিংসগুলো বিশ্লেষণ করেন। কারিগরি দিক থেকে কোনো সমস্যা চোখে পড়ছে কি না, তা দেখেন।” “মানসিক দিক থেকেও নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়, যাতে লড়াইয়ের জন্য তৈরি থাকা যায়। আপনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। আর সুযোগ এলে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি আরও জানান, মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নেটেও সময় দিয়েছেন। নিজের ব্যাটিংয়ে ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন, যাতে ম্যাচে নামার সময় নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ: বাভুমার মতে, ডারবানে ভারী ব্যবধানে হারের পেছনে মানসিকতারও ভূমিকা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা জানত, তারা ওই পারফরম্যান্সের চেয়ে অনেক ভালো দল এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে যে পরিচিতি পেয়েছে, তার সঙ্গে তাদের প্রকৃত সামর্থ্যের মিল থাকা উচিত। দ্বিতীয় টেস্টে সেই পরিচিত রূপে ফিরে এসে তারা এখন সিরিজের শেষ ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চায়।

আগামী মঙ্গলবার কেপটাউনে শুরু হবে সিরিজের নির্ধারক তৃতীয় টেস্ট: বাভুমা বলেন, “গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে এমন পারফরম্যান্স আমাদের অবশ্যই আরও শক্তিশালী করেছে।” “তবে চাপ ও প্রত্যাশার দিক থেকে আমাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকবে। আমাদের কাজ হলো সেই চাপকে গ্রহণ করা এবং তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে চাপের দিকেই এগিয়ে যাওয়া। চাপকে নিজেদের ওপর আছড়ে পড়তে দেওয়া যাবে না।”

সারকথা: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর প্রত্যাশা বেড়েছে, আর সেই প্রত্যাশার জবাব দিতে হলে মাঠে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। ডারবানে হারের পর বাভুমার নেতৃত্বে দলটি যে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেপটাউনের নির্ধারক টেস্টেও তারা এই আগ্রাসন ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারে কি না।

এসি মিলানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে বোর্নমাউথের ইতিহাস

0

ইউরোপা লিগে নিজেদের প্রথম অভিযানেই ইতিহাস গড়ছে বোর্নমাউথ। বৃহস্পতিবার রাতে ইংলিশ ক্লাবটি ১০ জনের এসি মিলানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। ভিটালিটি স্টেডিয়ামে বৃষ্টিভেজা মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় মার্কো রোজের দল। সাতবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন মিলান তাদের গতি, চাপ ও আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই পেনাল্টি থেকে গোল করে বোর্নমাউথ। শুরুতে ইভানিলসনের ক্রস থেকে আক্রমণ গড়ে স্বাগতিকেরা। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় কোনি ডে উইন্টারের হাতে বল লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পেনাল্টি পায় বোর্নমাউথ। স্পটকিক থেকে জাস্টিন ক্লুইভার্ট বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।

এরপরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্বাগতিকেরা। রায়ান ক্রিস্টি ও ইভানিলসনের প্রচেষ্টায় পরীক্ষায় পড়েন মিলানের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। তবে বিরতির আগে বড় ভুল করে বসেন মিলান অধিনায়ক। কর্নারের সময় টাইলার অ্যাডামসের মুখে হাত দিয়ে আঘাত করেন তিনি। ভিডিও পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান মেনিয়াঁকে। ফলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিয়ান ক্লাবটিকে।

মেনিয়াঁর বিদায়ের পর বদলি গোলরক্ষক লরেঞ্জো তোরিয়ানিকে মাঠে নামান কোচ রুবেন আমোরিম। তবে প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যর্থ হন তিনি। মেনিয়াঁর ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে বোর্নমাউথের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্কাস ট্যাভারনিয়ার।

এসি মিলানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে বোর্নমাউথের ইতিহাস
লাল কার্ড দেখেন এসি মিলানের মাইক মেনিয়াঁ

দ্বিতীয়ার্ধে সংখ্যায় এগিয়ে থাকা বোর্নমাউথ আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। রায়ানের হেড লক্ষ্যে রাখতে না পারায় ব্যবধান বাড়েনি। শেষ দিকে আমিনে আদলির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক জালে জড়ালে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। পরে রায়ানের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে মিলানকে আরও বড় পরাজয় থেকে বাঁচান তোরিয়ানি।

এই জয়ে ইউরোপা লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতল বোর্নমাউথ। ১৯৭৩ সালের পর কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মৌসুমে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া প্রথম ইংলিশ দল তারা। ২০১০ সালেও যে মাঠে লিগ টু-এর খেলা হতো, সেই ভিটালিটি স্টেডিয়ামেই এখন ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে বোর্নমাউথ।

খেলার শুরু থেকেই বোর্নমাউথের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল মিলান। তৃতীয় মিনিটে বেন গ্যানন-ডোকের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে যায়। পরের মিনিটেই ইভানিলসনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ভেজা মাঠে মেনিয়াঁর জন্য বল নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তানের সামনে জিম্বাবুয়ে

0

শারজায় ত্রিদেশীয় সিরিজ এর ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। টানা দুই ম্যাচে দাপুটে জয় পাওয়া আফগানিস্তান শিরোপার লড়াইয়ে ফেভারিট। তবে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়েও সহজে ছেড়ে দেবে না। ২৩ বছর পর শারজায় বসছে কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ২০০৩ সালের ফাইনালেও খেলেছিল জিম্বাবুয়ে, প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান।

ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান। নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে তারা, হাতে ছিল ৮৭ বল। আফগান পেসার ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই বাংলাদেশের টপ অর্ডারে ধস নামানোর পর বাকি কাজ করেন অধিনায়ক রশিদ খান। ওই ম্যাচে চার উইকেট নেওয়ার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও চার উইকেট পেয়েছিলেন এই লেগ স্পিনার।

ত্রিদেশীয় সিরিজ এর ফাইনালে আফগানিস্তানের সামনে জিম্বাবুয়ে
জিম্বাবুয়ের সাফল্যের নায়ক হতে পারেন সিকান্দার রাজা

ব্যাটিং ভরসা ইব্রাহিম জাদরান

আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়েও রয়েছে একাধিক ভরসার নাম। ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকউল্লাহ আতাল, রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদিরা রয়েছেন ছন্দে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শতক করেছিলেন আতাল। ফলে রশিদদের পাশাপাশি আফগান ব্যাটারদের সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হবে জিম্বাবুয়ের জন্য।

তবে লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছে তারাও। ক্রেইগ আরভিনের ফাইনালে ফেরার সম্ভাবনা দলটির ব্যাটিংকে আরও শক্তিশালী করবে। ব্রেন্ডন টেলর ও সিকান্দার রাজাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রধান অস্ত্র রশিদ খান

ফাইনালে আফগানিস্তানের প্রধান অস্ত্র রশিদ খান। দুই ম্যাচেই চারটি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁকে থামানোর দায়িত্ব থাকবে অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজার কাঁধে। ওয়ানডেতে রশিদের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাতবার আউট হয়েছেন রাজা, যদিও তাঁর বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারিও মেরেছেন তিনি।

শারজার ছোট বাউন্ডারি ব্যাটারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে আফগানিস্তানের ধারাবাহিকতা ও রশিদের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে তারাই।

শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়ে হ্যারি ব্রুক ম্লান

0

ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন হ্যারি ব্রুক। তবে তাঁর ১১০ বলে ২০০ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসও দলকে জেতাতে পারেনি। রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের লক্ষ্য এক বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ৮ উইকেটে ৪৩২ রান করে পাওয়া এই জয় ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

শ্রীলঙ্কার জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাভান রত্ননায়েকে। ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। এ ছাড়া আভিষ্কা ফার্নান্দো ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা করেছেন ৯৭ রান করে। শেষ দিকে জনিথ লিয়ানাগের ২৭ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ২৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন ব্রুক। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও পরে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভেঙে দেন গত মাসে শুভমান গিলের গড়া রেকর্ড। জো রুটের সঙ্গে ১৫৯ এবং উইল জ্যাকসের সঙ্গে ১৮৫ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ব্রুক। শেষ ১০ ওভারে আসে ১৫৬ রান।

শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়ে হ্যারি ব্রুক ম্লান
ব্যাটিংয়ে দাসুন শানাকা

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে রত্ননায়েকে ও আভিষ্কা ফার্নান্দোর ১৬৬ রানের জুটি দলকে লড়াইয়ে ফেরায়। এরপর শানাকার ঝোড়ো ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৫০ বলে ৯৭ রান করে ফিরলেও জয়ের পথ তৈরি করে দেন তিনি।

শেষদিকে লিয়ানাগে দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ রান। জশ টংয়ের টানা দুই বলে দুনিথ ওয়েল্লালাগে ও এশান মালিঙ্গা আউট হলেও লিয়ানাগে হাল ছাড়েননি। শেষ দুই বলে ৬ রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দলকে জেতান তিনি।

রেকর্ড গড়েও হারতে হয়েছে ব্রুককে। ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করে পরাজিত দলের প্রথম ব্যাটার হলেন তিনি। ম্যাচ শেষে হতাশ ব্রুক স্বীকার করেছেন, শ্রীলঙ্কা তাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।

টিভিতে আজকের খেলা – ২৩ অক্টোবর ২০২৬

0

টিভিতে আজকের খেলা – ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ।সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল আজ, মুখোমুখি আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রাতে মুখোমুখি ইপসউইচ ও নটিংহাম।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগ
ব্রাদার্স–আবাহনী
বেলা ২–৪৫ মি., টি স্পোর্টস

ত্রিদেশীয় সিরিজ: ফাইনাল
আফগানিস্তান–জিম্বাবুয়ে
বিকেল ৫–৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ইপসউইচ–নটিংহাম
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা
আলাভেস–মালাগা
রাত ১টা, টি স্পোর্টস

বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত

0

আইএইচএফ নেশনস ট্রফি-২০২৬

আজ শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত ফেভারিট হিসেবে শুরু করে ফিভারিটের মতই খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যদিও বাংলাদেশ মিষ্টির দেওয়া গোলে প্রথম সূচনা পায় কিন্তু তারপর ভারতের পক্ষে শালিনী প্রথম গোল করে সমতায় ফেরায় ভারতকে। একটা সময় পর্যন্ত ৬-৬ গোলের সমতাও ছিল কিন্তু তারপর ভারত এগিয়ে যাওয়া শুরু করলো সেখান থেকে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ইসমেতারা নিশির দল, ফলে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি-২০২৬ হ্যান্ডবলের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত
রানার্স আপ বাংলাদেশ দল

টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশ এই ভারতের কাছেই ৪৭-১৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল সেখান থেকে ফাইনালে ১২ গোলের ব্যবধানে হেরেও বাংলাদেশকে খুশিই মনে হয়েছে। কারণ ভারতের হ্যান্ডবলের তুলনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলা হয়না বলেলেই চলে। তাছাড়া ভারতের অধিংকাংশ খেলোয়াড় একাডেমীতে থেকে বেড়ে উঠা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের খেলার সুযোগ ও অনেক বেশী। তাই ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে ২৮-১৬ গোলে হেরেও স্বাগতিকদের বেশ খোশ মেজাজেই দেখা গেছে।

ম্যাচের স্কোরলাইন দেখে হয়তো মনে হবে ভারত বাংলাদেশকে দাঁড়াতেই দেয়নি কিন্তু না, ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলই সমানতালে লড়েছে। তখন স্কোর ছিল ৬-৬। এরপর ভারত এগিয়ে গেলেও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। ১৪-৯ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। তবে বোঝা যাচ্ছিল বিরতির পর ভারত আরো এগিয়ে যাবে কারন ভারতের খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্টামিনা ও ফিজিক্যাল এডভান্সে অনেক এগিয়ে ছিল যার প্রমাণ তারা দিয়েছে মাঠের খেলাতেও।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নিয়েছে তা নয় তবে আক্রমনের ধার ছিল তাদের বেশী এবং অধিকাংশ আক্রমন থেকে গোল পেয়েছে বিশেষ করে ভাবনা, সুজাতা, নিকি, মেনিকা, মিতালি এবং প্রিয়াংকা ঠাকুর তাদের উচ্চতা বেশ এবং সেই উচ্চতার সুবিধা নিয়ে তারা ‍ওভার হেড থ্রো করে বেশ কিছু গোল পেয়েছে। তবে বাংলাদেশর খেলোয়াড়র উচ্চতা কম হলেও দুই উইংকে বিশেষ করে শ্যামলী ও আশিয়া নজর কাড়া হ্যান্ডবল খেলেছে। মাঝ কোর্ট দিয়ে বাংলাদেশ আক্রমনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি অধিনায়ক নিশি, তাসনিয়া ও সাকিবারা ভারতের রাইট হাফ ডিফেন্ডর, লেফট হাফ ডিফেন্ডার এবং রাইট ইনসাইড ডিফেন্ডারদের বডি শেল্ডিং ও ব্লকিং সফলভাবে ভাঙ্গতে পারেনি পক্ষান্তরে তারা আক্রমনে উঠে এই সুবিধা পেয়ে গোলে এগিয়ে গেছে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন দলের পিভট প্লেয়ার ভাবনা।

বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত
বাংলাদেশের সাকিবার একটি আক্রমন

বাংলাদেশ ফাইনালে হারলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। তাঁর কণ্ঠে হতাশার চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই বেশি, ‘মেয়েদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি আনন্দিত। তারা উন্নতি করছে। আমাদের এভাবেই এগোতে হবে। আমার মনে হয় দল সঠিক পথেই আছে।’

কোচ বলেন তাঁর মতে, ভালো হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেট হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে মেয়েদের, ‘আমাদের শুধু খেলোয়াড় হলেই হবে না, সামগ্রিকভাবে একজন অ্যাথলেট হতে হবে। একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়ের যতটুকু ফিটনেস দরকার সেটা থাকা জরুরি।’

আনা ফিটনেসের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন ‘রক্ষণভাগ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। কিছু কৌশল ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে, তা না হলে প্রতিপক্ষকে হারানো কঠিনই হয়ে যাবে। তাই এই টুর্নামেন্টের পর আমাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দলের রক্ষণভাগ ও ফিটনেসে।’ সহকারী কোচ সাবেক হ্যান্ডবল ও ফুটবল খেলোয়াড় ডালিয়া আক্তার বলেন- আমাদের কিছু সমস্যা ছিল সেগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি এবং নিজেদের অনেক খানি গুছিয়ে নিয়েছি। যেমন নেপালের চেয়ে আমরা ভাল দল কিন্তু একসময় নেপাল বাধা ছিল এই টুর্নামেন্টে আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি।

অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি মনে করেন চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও উন্নতি চোখে পড়েছে। গ্রুপ পর্ব ও ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্যেই সেই উন্নতির ছাপ দেখছেন তিনি, ‘আমরা কিন্তু আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো করেছি। আসলে যত বেশি ম্যাচ খেলতে পারব তত সবার দক্ষতা বাড়বে। আমরা তো ম্যাচই পাই না।’

৪ জাতির এই টুর্নামেন্টর ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে গতকাল নেপাল মালদ্বীপকে হারিয়ে তৃতীয়ে হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরনী সরাসরি সম্প্রচার করে। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ বেতারে ধারাভাষ্য প্রদান করেন- সামসুল ইসলাম, জামিলুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।