এসি মিলানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে বোর্নমাউথের ইতিহাস

ইউরোপা লিগে নিজেদের প্রথম অভিযানেই ইতিহাস গড়ছে বোর্নমাউথ। বৃহস্পতিবার রাতে ইংলিশ ক্লাবটি ১০ জনের এসি মিলানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। ভিটালিটি স্টেডিয়ামে বৃষ্টিভেজা মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় মার্কো রোজের দল। সাতবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন মিলান তাদের গতি, চাপ ও আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই পেনাল্টি থেকে গোল করে বোর্নমাউথ। শুরুতে ইভানিলসনের ক্রস থেকে আক্রমণ গড়ে স্বাগতিকেরা। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় কোনি ডে উইন্টারের হাতে বল লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পেনাল্টি পায় বোর্নমাউথ। স্পটকিক থেকে জাস্টিন ক্লুইভার্ট বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।

এরপরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্বাগতিকেরা। রায়ান ক্রিস্টি ও ইভানিলসনের প্রচেষ্টায় পরীক্ষায় পড়েন মিলানের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। তবে বিরতির আগে বড় ভুল করে বসেন মিলান অধিনায়ক। কর্নারের সময় টাইলার অ্যাডামসের মুখে হাত দিয়ে আঘাত করেন তিনি। ভিডিও পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান মেনিয়াঁকে। ফলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিয়ান ক্লাবটিকে।

মেনিয়াঁর বিদায়ের পর বদলি গোলরক্ষক লরেঞ্জো তোরিয়ানিকে মাঠে নামান কোচ রুবেন আমোরিম। তবে প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যর্থ হন তিনি। মেনিয়াঁর ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে বোর্নমাউথের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্কাস ট্যাভারনিয়ার।

লাল কার্ড দেখেন এসি মিলানের মাইক মেনিয়াঁ

দ্বিতীয়ার্ধে সংখ্যায় এগিয়ে থাকা বোর্নমাউথ আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। রায়ানের হেড লক্ষ্যে রাখতে না পারায় ব্যবধান বাড়েনি। শেষ দিকে আমিনে আদলির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক জালে জড়ালে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। পরে রায়ানের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে মিলানকে আরও বড় পরাজয় থেকে বাঁচান তোরিয়ানি।

এই জয়ে ইউরোপা লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতল বোর্নমাউথ। ১৯৭৩ সালের পর কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মৌসুমে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া প্রথম ইংলিশ দল তারা। ২০১০ সালেও যে মাঠে লিগ টু-এর খেলা হতো, সেই ভিটালিটি স্টেডিয়ামেই এখন ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে বোর্নমাউথ।

খেলার শুরু থেকেই বোর্নমাউথের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল মিলান। তৃতীয় মিনিটে বেন গ্যানন-ডোকের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে যায়। পরের মিনিটেই ইভানিলসনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ভেজা মাঠে মেনিয়াঁর জন্য বল নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles