ইউরোপীয় ফুটবলে আরও একবার চরম হতাশার মুখে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। নিকো পাজের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে সেস ফাব্রেগাসের দল। এই হারে ইউনাইটেডের টানা জয়হীনতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত ম্যাচে। একই সঙ্গে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইউনাইটেডের রক্ষণে দুর্বলতা ও মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খেলার মাত্র দুই মিনিটে গোল করে কোমোকে এগিয়ে দেন পাজ। বক্সের সামনে বল পেয়ে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেন লামেন্সকে পরাস্ত করেন তিনি।
প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার মতো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি ইউনাইটেড। হ্যারি ম্যাগুয়ারের একটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে কোমোর আক্রমণে বারবার বিপদে পড়তে হয় সফরকারীদের। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকেরা।
ইউনাইটেডের শুরুটা অবশ্য গোলের সুযোগ দিয়েই হয়েছিল। প্রথম ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই দিয়োগো দালোতের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এরপরই পাজের গোলে পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। ম্যাচের আগে ইউনাইটেডের নয়জন খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিলেন; কোমোও চোটের সমস্যায় ভুগছিল। তবু স্বাগতিকদের সংগঠিত আক্রমণ ও বলের দখল ধরে রাখার ক্ষমতার সামনে ইউনাইটেডকে অসহায় দেখায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে ইউনাইটেডের জন্য। ৪৯ মিনিটে পাজের পাস থেকে গোল করেন তাসোস দুভিকাস। এর আট মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইউনাইটেডের কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দেন পাজ। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন কোমোর এই তরুণ আর্জেন্টাইন।

বিরতির সময় পরিস্থিতি বদলাতে ক্যারিক কার্লোস বালেবা ও আমাদ দিয়ালোকে মাঠে নামান এবং কৌশলেও পরিবর্তন আনেন। কিন্তু বিরতির পরপরই দুভিকাসের গোল সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা দেয়। পাজের দ্বিতীয় গোলের পর ইউনাইটেডের খেলায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ আরও কমে যায়।
এরপরও থামেনি স্বাগতিকদের আক্রমণ। ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইয়াকোবো রামন। তাতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কোমো।
যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল শোধ করেন জশুয়া জির্কজি। তবে তাতে হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই হয়নি ইউনাইটেডের। শেষ দিকে পাজ হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক লামেন্স তাঁকে আটকে দেন। শেষ বাঁশির আগেই ইউনাইটেডের অনেক সমর্থক গ্যালারি ছেড়ে চলে যান।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সামনে ক্ষমাপ্রার্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়াতে দেখা যায় ক্যারিককে। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ইতিবাচক ফলের পর নতুন শুরুর আশা দেখলেও কোমোর কাছে এই হার তাঁর দলের সংকট আরও গভীর করেছে।


