ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তাঁর মতে, দলের পাইপলাইনে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় থাকলেও দেশের বাইরের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাটিং ইউনিট। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে মানসিকতায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ধরনেও উন্নতি প্রয়োজন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, ব্যাটারদের সম্মিলিত ব্যর্থতার কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দায়ী না করে তিনি ব্যাটিং ইউনিটের সামগ্রিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করেন।
হৃদয়ের ভাষায়, ‘আমার যেটা মনে হয়েছে, কোন কোন জায়গা বলতে চাচ্ছি না। তবে খুব ক্লিয়ার একটা জায়গা-আমরা ব্যাটাররা দুটো ম্যাচেই বাজেভাবে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দল সাফার করেছে।’
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো হলেও দেশের বাইরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না দল। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলকে ঘরের মাঠে হারানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও বিদেশের মাটিতে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন হৃদয়।
তিনি বলেন, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান—সব হোমে ছিল। এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো। দল ভালো অবস্থায়ই আছে। কিছু জায়গা চোখের সামনে, সবাই দেখতে পাচ্ছে—ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। দেশে প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’
বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে মানসিকতার সমস্যাকে চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে হলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে।
হৃদয় বলেন, ‘সমস্যা মাইন্ডসেটে। এখানে উন্নতির দরকার আছে। প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে বাইরের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। অ্যাওয়েতে বেশিরভাগ ম্যাচই আমরা হেরেছি। এখানে কাজ করতে হবে।’
কেন বারবার এমন ব্যর্থতা আসছে, সেটি নিয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করলেও বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভালো করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হৃদয়। তাঁর মতে, শুধু পরিকল্পনার কথা বললে হবে না, মাঠেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে ম্যাচের সিচুয়েশন ডিমান্ড অনুযায়ী অ্যাক্ট করা জরুরি। শুধু মুখে বললে হবে না। আমরা অ্যাকশনে করতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যাটারদের ব্যর্থতা। সাহসের সঙ্গে খেলতে পারছি কি না—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি ডিফেন্সিভ মাইন্ডসেট থাকে, সফল হওয়া কঠিন।’
দ্রুত উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়াতে না পারাকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন হৃদয়। তাঁর মতে, ব্যাটিং ধসে পড়লে এক বা দুজন ব্যাটারকে দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলের পরিকল্পনায় আরও কার্যকর পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে।
হৃদয়ের ভাষায়, ‘পুরো দল যখন একসঙ্গে কলাপ্স করছি, ওখান থেকে যখন উঠতে পারছি না, আমাদের আরও ভালো প্ল্যান করা উচিত। এক-দুইজন এখানে দায়িত্ব নিয়ে খারাপ অবস্থা থেকে দলকে ভালো জায়গায় নেওয়া জরুরি।’
সামনেই এশিয়া কাপ। বড় টুর্নামেন্টের আগে ব্যাটিংয়ের এমন ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন হৃদয়। বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের মতো আসরে শিরোপা জয়ের ক্ষুধা দলের সবার মধ্যে থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না বাংলাদেশ—এমনটাই মনে করেন তিনি।
হৃদয় বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে একমত। যখনই বড় টুর্নামেন্ট খেলি, আমি ব্যক্তিগতভাবে, আমাদের দলের সবাই চায় বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপে ট্রফি নিই। এই ক্ষুধা সবার আছে। এটা আমরা মুখে বলি, অ্যাকশনে এটা হচ্ছে না।’
ঘরের মাঠে এশিয়া কাপকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। টুর্নামেন্টের আগে দলকে ভালো অবস্থানে নিতে দ্রুত দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।


