ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক নামান ধীরের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, একাদশে খেলার সুযোগ না পেলেও অনেক কিছু শিখছেন বৈভব সূর্যবংশী, তাকে ঘিরের উন্মাদনা তার ও দলের জন্য ভালো নয়।
ভারতের টি-টোয়েন্টি একাদশে বৈভব সূর্যবংশী কেন নেই? প্রতিটি ম্যাচের আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সম্ভবত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক বলেন, “সে সত্যিই খুব তরুণ। তবে দলের ম্যানেজমেন্টের সবাই যেভাবে তার যত্ন নেন, তা আমি নিরপেক্ষভাবে লক্ষ্য করি। সবাই তাকে পছন্দ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষও, দলের সদস্যরাও। কিন্তু মানুষ তাকে পছন্দ করে বলেই তো একাদশে পরিবর্তন আনা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “সে অত্যন্ত প্রতিভাবান। আমি বিশ্বাস করি, তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে সে অনেক কিছু শিখবে।”
তবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইশান কিষানের ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় শনিবারের ম্যাচে সূর্যবংশীর খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোটাকও আশাবাদী। তবে তাঁর মতে, সূর্যবংশীকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার ও উন্মাদনা তার নিজের এবং দলের অন্য খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয়নি।
কোটাক বলেন, “শুরুতে আমি দেখেছি, তাকে খেলাতেই হবে—এমন একটা প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছিল। আমার সত্যিই মনে হয়েছে, এটা খেলোয়াড়টির জন্যও ভালো ছিল না। মাত্র ১৫-১৬ বছরের একটি ছেলে, অথচ সবাই বলছে, ‘তাকে খেলাতেই হবে’, ‘তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে না কেন’—এ ধরনের কথা।”
তিনি আরও বলেন, “সে এখনো অনেক ছোট। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিন্তু ব্যাপারটি দুঃখজনক। অন্য ওপেনারদের জন্যও এটি দুঃখজনক, কারণ তাঁরা ভালো খেলছেন, অথচ মানুষ প্রশ্ন তুলছে- ‘তাঁকে খেলানো হচ্ছে কেন?’” সাধারণত সূর্যবংশী দলে থাকলেও ভারতের টপ অর্ডারে সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
কোটাকের ভাষায়, “এখন সে অনেক বেশি পরিণত। সে বুঝতে পেরেছে, সঞ্জু ভালো খেললে বা অভিষেক ভালো খেললে তাঁদের কীভাবে বাদ দেওয়া যায়? মিডল অর্ডারেও অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। সবাই বিষয়টি বোঝে। তবে অবশ্যই সে খেলতে চায়। আমি তার জায়গায় থাকলেও খেলতে চাইতাম।” সূর্যবংশীর মানসিকতা সম্পর্কে কোটাক বলেন, “সে খুবই সহজ-সরল একটি ছেলে। সে কখনো অভিযোগ করেনি বা মন খারাপ করে বসে থাকেনি।”
সবশেষে তিনি বলেন, “বড় শট খেলার সামর্থ্য এক বিষয়, আর প্রতিদিন এই পর্যায়ের ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। সে এখান থেকে অনেক কিছু শিখবে। নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করার এই সময়টা ভবিষ্যতে তার অনেক উপকারে আসবে।”


