Home Blog Page 165

ব্রাজিলকে হারিয়ে যা বললেন হাল্যান্ড!

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। আর এই রূপকথার মহানায়ক আর কেউ নন, তিনি আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার পর নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আবেগ, আত্মবিশ্বাস আর এক বুক গর্ব।

ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাল্যান্ড এই জয়কে তাদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের “সর্বশ্রেষ্ঠ রাত” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছিলাম

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠেই সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মেতে ওঠেন হাল্যান্ড। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,

“আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। নরওয়ের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এবং তাও ব্রাজিলকে হারিয়ে, এটি অবিশ্বাস্য! আমরা জানতাম ইতিহাস আমাদের পক্ষে ছিল না, কিন্তু আমরা মাঠে নেমেছিলাম নতুন ইতিহাস লিখতে। আজ আমরা সেটি করে দেখিয়েছি।”

ব্রাজিলের বিপক্ষে ‘নরওয়ে জুজু’ নিয়ে হাল্যান্ড

অতীতে নরওয়ে কখনোই ব্রাজিলের কাছে হারেনি—এই রেকর্ড ম্যাচ শুরুর আগে তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে হাল্যান্ড বলেন, “অবশ্যই পুরোনো রেকর্ড আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আমাদের অগ্রজরা ব্রাজিলকে হারিয়েছিলেন, সেই গল্প শুনে আমরা বড় হয়েছি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই একই মঞ্চে, একই ব্যবধানে (২-১) আবার জয় পাওয়াটা যেন এক অলৌকিক কাকতালীয় ঘটনা। আমরা প্রমাণ করেছি, নরওয়ে ফুটবলে কাউকে ভয় পায় না।”

নিজের জোড়া গোল এবং ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রস থেকে করা অসাধারণ হেডের গোল এবং ৯০ মিনিটের কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করা জয়সূচক গোল নিয়ে এই স্ট্রাইকার বলেন, “পেনাল্টি মিস করার পর ব্রাজিল মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। প্রথমার্ধে ওরা সুযোগ নষ্ট করায় আমরা জানতাম দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সুযোগ আসবে। আন্দ্রেয়াসের ক্রসটি নিখুঁত ছিল, আমি শুধু বলটিকে সঠিক দিশা দিয়েছি। আর দ্বিতীয় গোলের সময় আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল ‍যেন ম্যাচটি যেন অতিরিক্ত সময়ে না গড়ায়। বল জালে জড়ানোর পর যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

দলের রক্ষণভাগ ও সতীর্থদের প্রশংসা

শুধু নিজের গোলের কৃতিত্ব নেননি হাল্যান্ড। প্রথমার্ধে পেনাল্টি সেভ করা এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আটকে রাখার জন্য নিজের দলের রক্ষণভাগকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। “ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করাটা যতটা আনন্দের, তার চেয়েও বড় কাজ ছিল ওদের ভিনিসিয়ুস বা নেইমারদের আটকে রাখা। আমাদের ডিফেন্ডাররা আজ জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। ব্রুনো গুইমারেস যখন পেনাল্টি মিস করল, আমরা তখনই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আজ রাতটা আমাদের হতে যাচ্ছে।”

সামনে আরও পথ চলা বাকি

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিলেও এখনই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার নিজ দলের জন্য বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হাল্যান্ডের ভাষায়, “আমরা এখানে শুধু একটি ম্যাচ জিততে আসিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল আমাদের জন্য এক নতুন শুরু। আমরা উদযাপন করব, তবে কাল থেকেই আবার পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেব। নরওয়ে অনেক দূর যেতে প্রস্তুত।”

হাল্যান্ডের এই হুঙ্কার আর মাঠের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে কেবলই কোনো চমক নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।

হাল্যান্ড ঝড়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৮ সালের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিল নরওয়ে। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে নরওয়েজিয়ানরা। আর এই পরাজয়ের সাথে সাথেই লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা মিশন’ আরও একবার শেষ ষোলোতেই থমকে গেল।

ব্যর্থ আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস

শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানের বিপক্ষে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত মাস্টারক্লাস দারুণ কাজে দিয়েছিল। তবে ইতিহাসের পাতা বলছিল ভিন্ন কথা, আগের চারবারের দেখায় কখনই নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। এবার সেই ‘নরওয়ে জুজু’ কাটাতে ব্যর্থ হলেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা। শুরু থেকেই ব্রাজিলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রেখে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউরোপের এই উদীয়মান শক্তি।

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের খেসারত

ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সেলেসাওরা। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্তোফার আয়ের ডি-বক্সের ভেতরে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনহাকে ফাউল করলে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। প্রথমার্ধের এই নিষ্্প্রভ পারফরম্যান্স এবং সুযোগ হাতছাড়ার মাশুলই শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

হাল্যান্ড ম্যাজিকে নরওয়ের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর আসল রোমাঞ্চ জমা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্য। নরওয়ের হয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তাদের গোলমেশিন আর্লিং হাল্যান্ড।

প্রথম গোল (৭৯ মিনিট): আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে বল ব্রাজিলের জালে জড়ান হাল্যান্ড। উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ে শিবির।

দ্বিতীয় গোল (৯০ মিনিট): নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে এক জোরালো নিচু শটে নিজের জোড়া গোল পূরণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

নেইমারের গোল কেবলই সান্ত্বনা

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) ব্রাজিল আরও একটি পেনাল্টি পায়। এবার স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি নেইমার জুনিয়র। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। নেইমারের এই গোলটি কেবল ব্রাজিলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে, বিদায়ের গ্লানি মুছতে পারেনি। ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

এক নজরে ম্যাচ:

  • ফলাফল: নরওয়ে ২ – ১ ব্রাজিল
  • নরওয়ের পক্ষে গোলদাতা: আর্লিং হাল্যান্ড (৭৯’ ও ৯০’)
  • ব্রাজিলের পক্ষে গোলদাতা: নেইমার (পেনাল্টি, ৯০+ মিনিট)
  • ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস।

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নরওয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অন্যদিকে, মাঠের ব্যর্থতা আর সুযোগ নষ্টের মহড়ায় আরও একটি বিশ্বকাপ মিশন হতাশা দিয়ে শেষ হলো ব্রাজিলের।

গোলশূন্যতে শেষ হলো ব্রাজিল-নরওয়ে প্রথমার্ধ

গোলশূন্যতে শেষ হলো ব্রাজিল-নরওয়ে প্রথমার্ধ। প্রথম হাফে দুই দলই গোলের বেশকিছু সুযোগ পেয়েছিলো, তবে গোলকিপারের সহায়তায় বেঁচে যায় দুই দলই।
প্রথমার্ধের যোগ করার সময়ে ওডেগার্ডের একটি শট সেচ করেন অ্যালিসন। ৪০তম মিনিটে ভিনিসিউসের শট সেভ করেন নরওয়ে গোলকিপার।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। প্রথমে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও, পরে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্টের সাহায্যে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তবে গিমারেসের শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলকিপার নিল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। তবে তাদের গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়। 
ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কিন্তু অবাক করার মতো হলেও, এই চার দেখায় একবারও জয়ের মুখ দেখেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি হয়েছে ড্র।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছিল।

১ পরিবর্তন নিয়ে নরওয়ের মুখোমুখি ব্রাজিল

৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ের। এই ম্যাচে তাদের একাদশে আছে একটি পরিবর্তন।
চোটের কারণে লুকাস পাকেতা আগেই ছিটকে গেছেন দল থেকে। এদিকে তার ফাইনালের আগে খেলার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তার আজকের ম্যাচ খেলার কথা ছিল না।

তাই কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাধ্য হয়েই একটি পরিবর্তন নিয়ে দল সাজিয়েছেন। পাকেতার জায়গায় দলে এসেছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

এদিকে নরওয়েও তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। চোট সারিয়ে ফিরেছেন নরওয়ের ফুলব্যাক জুলিয়ান রিয়ারসন।

ব্রাজিল একাদশ–
আলিসন;
দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল, ডগলাস;
রায়ান, গিমারেস, কাসেমিরো;
মার্তিনেল্লি, কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস।

নরওয়ে একাদশ–
নাইল্যান্ড;
রিয়ারসন, আয়ের, হেগেম, উলফে;
ওডেগার্ড, বার্গে, বের্গ;
শোরলথ, হালান্ড, নুসা।